ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতি ছিল মিডিয়ায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে, বললেন ইশরাক মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাধা নেই: আইনমন্ত্রী ফ্রান্সে সহিংসতা-লুটপাট, গ্রেপ্তার ২ হাজার ৪০০

কেরানীগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা : তিন যুবকের মৃত্যুদণ্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
  • / 611

ছবি সংগৃহীত

 

ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে তিন যুবকের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কেরানীগঞ্জের মো. সজিব (২৫), ফরিদপুরের মো. রাকিব (২৩) ও শরীয়তপুরের শাওন ওরফে ভ্যালকা শাওন (২৬)। এ ছাড়া নিহত কিশোরীর লাশ গুমের অপরাধে প্রত্যেককে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  কেরানীগঞ্জে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসী আরমান গ্রেপ্তার, উদ্ধার অস্ত্র ও মাদক

তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আলী আকবর (২২) ও মো. রিয়াজ (২২) খালাস পেয়েছেন। 

রায়ের সময় রাকিব ও শাওনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং রায় ঘোষণার পরপরই তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে মামলার অন্যতম আসামি সজিব এখনও পলাতক, তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ জুন সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পশ্চিম বামনসুর এলাকায় একটি পুকুরে এক কিশোরীর মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা রুজু হয়।

তদন্তে পুলিশ প্রথমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। তার বান্ধবীর জবানবন্দিতে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি তারই বান্ধবী। পরে গ্রেপ্তার হয় শাওন। আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং জানায়, রাকিব, সজিব ও আলী আকবরকে সঙ্গে নিয়ে তারা কিশোরীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেয়।

পরবর্তীতে রাকিব ও সজিবকেও গ্রেপ্তার করা হয় এবং তারাও আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর উপ-পরিদর্শক অলক কুমার দে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার বিচারকাজ চলাকালে ট্রাইব্যুনাল মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করেন মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর এরশাদ আলম জর্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

কেরানীগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা : তিন যুবকের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০১:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫

 

ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে তিন যুবকের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কেরানীগঞ্জের মো. সজিব (২৫), ফরিদপুরের মো. রাকিব (২৩) ও শরীয়তপুরের শাওন ওরফে ভ্যালকা শাওন (২৬)। এ ছাড়া নিহত কিশোরীর লাশ গুমের অপরাধে প্রত্যেককে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে যুবককে গুলি, পরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আলী আকবর (২২) ও মো. রিয়াজ (২২) খালাস পেয়েছেন। 

রায়ের সময় রাকিব ও শাওনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং রায় ঘোষণার পরপরই তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে মামলার অন্যতম আসামি সজিব এখনও পলাতক, তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ জুন সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পশ্চিম বামনসুর এলাকায় একটি পুকুরে এক কিশোরীর মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা রুজু হয়।

তদন্তে পুলিশ প্রথমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। তার বান্ধবীর জবানবন্দিতে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি তারই বান্ধবী। পরে গ্রেপ্তার হয় শাওন। আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং জানায়, রাকিব, সজিব ও আলী আকবরকে সঙ্গে নিয়ে তারা কিশোরীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেয়।

পরবর্তীতে রাকিব ও সজিবকেও গ্রেপ্তার করা হয় এবং তারাও আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর উপ-পরিদর্শক অলক কুমার দে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার বিচারকাজ চলাকালে ট্রাইব্যুনাল মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করেন মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর এরশাদ আলম জর্জ।