ঢাকা ০১:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে পাকিস্তানে সাংবাদিক গ্রেপ্তার, উদ্বিগ্ন মানবাধিকার মহল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:০৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
  • / 506

ছবি সংগৃহীত

 

পাকিস্তানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেন দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘রাফতার’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক ফারহান মল্লিককে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক পোস্ট এবং ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফআইএ। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) তাকে আটক করার পর শুক্রবার (২১ মার্চ) আদালতে হাজির করলে তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

এই গ্রেপ্তার দেশটির সদ্য সংশোধিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় হয়েছে, যেখানে ‘ভীতিকর বা মিথ্যা’ তথ্য ছড়ানোর অপরাধে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে ‘রাফতার’ চ্যানেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি, বরং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি দমনমূলক পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন  দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে কন্নড় অভিনেত্রী রান্যা রাও গ্রেপ্তার

ফারহানের গ্রেপ্তার ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পাকিস্তানের হিউম্যান রাইটস কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই পদক্ষেপ মতপ্রকাশের অধিকার হরণ এবং সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর একটি কৌশল।”

গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫২তম যা স্পষ্টতই সরকারের কণ্ঠরোধ নীতির ইঙ্গিত দেয়। বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি বলেন, “নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”

দেশটিতে আগে থেকেই অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর রয়েছে কঠোর নজরদারি। ইউটিউব ও টিকটক একাধিকবার বন্ধ থাকলেও বর্তমানে পুরোপুরি নিষিদ্ধ রয়েছে ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)।

ফারহান মল্লিকের গ্রেপ্তারের পর দেশ-বিদেশের সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেন, স্বাধীন মতপ্রকাশ কোনো অপরাধ নয় বরং গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি। অবিলম্বে তার মুক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।

পাকিস্তানে মতপ্রকাশের ওপর যে অদৃশ্য শৃঙ্খল ক্রমেই শক্ত হচ্ছে, ফারহানের ঘটনা যেন তারই প্রতিচ্ছবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে পাকিস্তানে সাংবাদিক গ্রেপ্তার, উদ্বিগ্ন মানবাধিকার মহল

আপডেট সময় ০৪:০৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

 

পাকিস্তানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেন দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘রাফতার’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক ফারহান মল্লিককে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক পোস্ট এবং ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফআইএ। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) তাকে আটক করার পর শুক্রবার (২১ মার্চ) আদালতে হাজির করলে তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

এই গ্রেপ্তার দেশটির সদ্য সংশোধিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় হয়েছে, যেখানে ‘ভীতিকর বা মিথ্যা’ তথ্য ছড়ানোর অপরাধে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে ‘রাফতার’ চ্যানেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি, বরং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি দমনমূলক পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন  কুষ্টিয়া-১ আসনের সাবেক এমপি গ্রেপ্তার

ফারহানের গ্রেপ্তার ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পাকিস্তানের হিউম্যান রাইটস কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই পদক্ষেপ মতপ্রকাশের অধিকার হরণ এবং সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর একটি কৌশল।”

গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫২তম যা স্পষ্টতই সরকারের কণ্ঠরোধ নীতির ইঙ্গিত দেয়। বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি বলেন, “নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”

দেশটিতে আগে থেকেই অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর রয়েছে কঠোর নজরদারি। ইউটিউব ও টিকটক একাধিকবার বন্ধ থাকলেও বর্তমানে পুরোপুরি নিষিদ্ধ রয়েছে ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)।

ফারহান মল্লিকের গ্রেপ্তারের পর দেশ-বিদেশের সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেন, স্বাধীন মতপ্রকাশ কোনো অপরাধ নয় বরং গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি। অবিলম্বে তার মুক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।

পাকিস্তানে মতপ্রকাশের ওপর যে অদৃশ্য শৃঙ্খল ক্রমেই শক্ত হচ্ছে, ফারহানের ঘটনা যেন তারই প্রতিচ্ছবি।