১০:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
‘বাংলাদেশের পাশে আছে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না দল: পাকিস্তান স্পিকার না থাকায় এমপিদের শপথ পড়াবেন কে, জেনে নিন বিশ্বে ৭২ শতাংশ মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানো মামলার রায় আজ দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হলেন জিয়াউল হক পলাশ ভোট কারচুপির ছক? জামায়াত নেতার নির্দেশে সিল তৈরি—মামলা ও বহিষ্কারে উত্তাল রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ভূগর্ভস্থ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান সৌদি লিগের ভেতরের টানাপোড়েন, ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’: গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের ভেতরে দ্বিমত যুব বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিদায়, ফয়সালের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি কীর্তি

শীতের আগমন: রাতের তাপমাত্রা কমছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / 125

 

শীতকাল বাংলাদেশের ঋতুচক্রের অন্যতম মনোরম ঋতু। এই ঋতু বয়ে আনে হিমেল বাতাস, শিশিরে ভেজা সকালের মনোরম অনুভূতি এবং প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য। এবারও শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার খবর এসেছে। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে রাতের দিকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে, যা শীতের উপস্থিতি অনুভব করাচ্ছে।

গত কয়েকদিনে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ রাতে শীতের হালকা পরশ পাচ্ছেন। দিনের বেলায় তাপমাত্রা এখনও কিছুটা সহনীয় হলেও রাতের দিকে গাঢ় কুয়াশা এবং হিমেল বাতাস একেবারে শীতের আবহ তৈরি করছে। এই পরিবর্তন বিশেষ করে গ্রামের মানুষদের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কুয়াশা ঢাকা প্রভাত আর ঠাণ্ডা বাতাসে ভেজা রাত যেন শীতের আগমনকে আরও গভীরভাবে প্রকাশ করছে। রাতে তাপমাত্রা হ্রাসের এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে খোলা জায়গায়। কৃষকেরা তাদের জমিতে কাজ শেষে সন্ধ্যা থেকে গরম কাপড় বা লেপ-কম্বলের নিচে আশ্রয় নিচ্ছেন। শহরাঞ্চলেও রাতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে গরম খাবার, চা, কফির প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেড়ে গেছে।

খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে তাপমাত্রা হ্রাস

খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা। এই এলাকাগুলোতে সাধারণত শীতের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকে। কারণ সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় এখানকার তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় থাকে। তবে এই বছর রাতের তাপমাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করেছে, যা এখানকার মানুষের কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় রাতের তাপমাত্রা হ্রাসের প্রভাব আরও তীব্র। এখানে শীতের সময় সন্ধ্যার পর থেকেই ঠাণ্ডা হাওয়া বইতে থাকে। বরিশালের বিভিন্ন নদী ও খালের ধারে কুয়াশার ঘনত্ব বেশি, যা তাপমাত্রা আরও কমিয়ে দেয়। খুলনা অঞ্চলে নদীমাতৃক এলাকার বাতাসে শীতের প্রকোপ অনুভূত হচ্ছে অনেক বেশি। খুলনার উপকূলীয় এই অঞ্চলগুলোতে কৃষি ও মাছ ধরার মতো পেশায় নিয়োজিত মানুষ শীতের পরিবর্তনে সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছেন। ভোরবেলায় নদীতে নৌকায় মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জন্য শীতের এই অনুভূতি কাজের সময় আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। তেমনি কৃষকেরা হিমেল বাতাসের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এছাড়া, নগর জীবনেও এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো কম ফাঁকা হতে শুরু করেছে। রাতের হিমেল হাওয়ার কারণে মানুষের চলাফেরায় এক ধরনের শীতলতা এসেছে। অনেকেই কাজ শেষে দ্রুত ঘরে ফিরে গরম খাবার বা চায়ের কাপে শীতের আরাম খুঁজছেন।

আগামীকাল শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়, সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। আকাশ আংশিকভাবে মেঘলা থাকতে পারে, তবে বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে, যা দৃশ্যমানতা কিছুটা কমাতে পারে।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারাদেশে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে, তবে আকাশ আংশিকভাবে মেঘলা থাকবে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যেতে পারে, অন্যদিকে, অন্যান্য অঞ্চলে তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে, তবে বাকি অঞ্চলে তা অপরিবর্তিত থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের আবহাওয়া, বিশেষ করে কুয়াশা, গাড়ি চালকদের জন্য সতর্কতা প্রয়োজন, এবং সাধারণ মানুষের জন্যও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শীতের এই পরিবর্তন প্রকৃতিরই অংশ, যা খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রামের মানুষকে তাদের জীবনে নতুন অনুভূতি এনে দিয়েছে। শীতের এই সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি উষ্ণ থাকার উপায় খুঁজে নেওয়া এখন সবার অগ্রাধিকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

শীতের আগমন: রাতের তাপমাত্রা কমছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে

আপডেট সময় ০৪:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪

 

শীতকাল বাংলাদেশের ঋতুচক্রের অন্যতম মনোরম ঋতু। এই ঋতু বয়ে আনে হিমেল বাতাস, শিশিরে ভেজা সকালের মনোরম অনুভূতি এবং প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য। এবারও শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার খবর এসেছে। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে রাতের দিকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে, যা শীতের উপস্থিতি অনুভব করাচ্ছে।

গত কয়েকদিনে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ রাতে শীতের হালকা পরশ পাচ্ছেন। দিনের বেলায় তাপমাত্রা এখনও কিছুটা সহনীয় হলেও রাতের দিকে গাঢ় কুয়াশা এবং হিমেল বাতাস একেবারে শীতের আবহ তৈরি করছে। এই পরিবর্তন বিশেষ করে গ্রামের মানুষদের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কুয়াশা ঢাকা প্রভাত আর ঠাণ্ডা বাতাসে ভেজা রাত যেন শীতের আগমনকে আরও গভীরভাবে প্রকাশ করছে। রাতে তাপমাত্রা হ্রাসের এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে খোলা জায়গায়। কৃষকেরা তাদের জমিতে কাজ শেষে সন্ধ্যা থেকে গরম কাপড় বা লেপ-কম্বলের নিচে আশ্রয় নিচ্ছেন। শহরাঞ্চলেও রাতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে গরম খাবার, চা, কফির প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেড়ে গেছে।

খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে তাপমাত্রা হ্রাস

খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা। এই এলাকাগুলোতে সাধারণত শীতের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকে। কারণ সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় এখানকার তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় থাকে। তবে এই বছর রাতের তাপমাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করেছে, যা এখানকার মানুষের কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় রাতের তাপমাত্রা হ্রাসের প্রভাব আরও তীব্র। এখানে শীতের সময় সন্ধ্যার পর থেকেই ঠাণ্ডা হাওয়া বইতে থাকে। বরিশালের বিভিন্ন নদী ও খালের ধারে কুয়াশার ঘনত্ব বেশি, যা তাপমাত্রা আরও কমিয়ে দেয়। খুলনা অঞ্চলে নদীমাতৃক এলাকার বাতাসে শীতের প্রকোপ অনুভূত হচ্ছে অনেক বেশি। খুলনার উপকূলীয় এই অঞ্চলগুলোতে কৃষি ও মাছ ধরার মতো পেশায় নিয়োজিত মানুষ শীতের পরিবর্তনে সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছেন। ভোরবেলায় নদীতে নৌকায় মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জন্য শীতের এই অনুভূতি কাজের সময় আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। তেমনি কৃষকেরা হিমেল বাতাসের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এছাড়া, নগর জীবনেও এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো কম ফাঁকা হতে শুরু করেছে। রাতের হিমেল হাওয়ার কারণে মানুষের চলাফেরায় এক ধরনের শীতলতা এসেছে। অনেকেই কাজ শেষে দ্রুত ঘরে ফিরে গরম খাবার বা চায়ের কাপে শীতের আরাম খুঁজছেন।

আগামীকাল শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়, সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। আকাশ আংশিকভাবে মেঘলা থাকতে পারে, তবে বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে, যা দৃশ্যমানতা কিছুটা কমাতে পারে।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারাদেশে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে, তবে আকাশ আংশিকভাবে মেঘলা থাকবে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যেতে পারে, অন্যদিকে, অন্যান্য অঞ্চলে তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে, তবে বাকি অঞ্চলে তা অপরিবর্তিত থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের আবহাওয়া, বিশেষ করে কুয়াশা, গাড়ি চালকদের জন্য সতর্কতা প্রয়োজন, এবং সাধারণ মানুষের জন্যও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শীতের এই পরিবর্তন প্রকৃতিরই অংশ, যা খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রামের মানুষকে তাদের জীবনে নতুন অনুভূতি এনে দিয়েছে। শীতের এই সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি উষ্ণ থাকার উপায় খুঁজে নেওয়া এখন সবার অগ্রাধিকার।