ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 48

ছবি: সংগৃহীত

 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোমবার ভারতের মুম্বাইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ নিয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে রুবিওর। তবে দিল্লির পরিবর্তে মুম্বাইয়ে এ বৈঠক আয়োজন এবং জয়শঙ্করকে সেখানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা প্রকাশের পর মোদি সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা।

দ্বিতীয়বারের মতো ভারত সফরে এলেও এবার দিল্লিতে যাচ্ছেন না রুবিও। মুম্বাইয়ে বৈঠকের পর তার গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগার পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে ভারতের বিমান হামলায় নিহত বেড়ে ২৬, আহত অন্তত ৪৬

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, রুবিওর এ সফরের মূল উদ্দেশ্য জ্বালানি, বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করা। তবে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর জানান, রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ওয়াশিংটন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করকে মুম্বাইয়ে উপস্থিত থাকার প্রত্যাশা জানিয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

ভারতের বিরোধী নেতারা নিজ দেশের মাটিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এভাবে বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী কটাক্ষ করে বলেন, মার্কো রুবিও যেন মুম্বাইয়ে তাঁর কোনো কর্মচারীকে ডেকে পাঠিয়েছেন। অন্য বিরোধী নেতাদের মতে, বিদেশি সরকারের প্রত্যাশার কারণে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এভাবে সফর করতে হওয়া মোদি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য সফরের মূল লক্ষ্য হিসেবে জ্বালানি খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার রয়েছে। মার্কিন জ্বালানি নীতির প্রেক্ষাপটে এই শোধনাগার গুরুত্বপূর্ণ। ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে রিলায়েন্সের নতুন বিনিয়োগের বিষয়গুলোও সফরের সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

বাণিজ্যিক শুল্ক, রুশ তেল আমদানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং প্রযুক্তি খাতের ভিসা নিয়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে যখন টানাপোড়েন চলছে, তখন রুবিওর এ সফর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার

আপডেট সময় ০৭:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোমবার ভারতের মুম্বাইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ নিয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে রুবিওর। তবে দিল্লির পরিবর্তে মুম্বাইয়ে এ বৈঠক আয়োজন এবং জয়শঙ্করকে সেখানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা প্রকাশের পর মোদি সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা।

দ্বিতীয়বারের মতো ভারত সফরে এলেও এবার দিল্লিতে যাচ্ছেন না রুবিও। মুম্বাইয়ে বৈঠকের পর তার গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগার পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন  মুসলিম ফেরিওয়ালাকে পশ্চিমবঙ্গে কুপিয়ে হত্যা

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, রুবিওর এ সফরের মূল উদ্দেশ্য জ্বালানি, বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করা। তবে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর জানান, রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ওয়াশিংটন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করকে মুম্বাইয়ে উপস্থিত থাকার প্রত্যাশা জানিয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

ভারতের বিরোধী নেতারা নিজ দেশের মাটিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এভাবে বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী কটাক্ষ করে বলেন, মার্কো রুবিও যেন মুম্বাইয়ে তাঁর কোনো কর্মচারীকে ডেকে পাঠিয়েছেন। অন্য বিরোধী নেতাদের মতে, বিদেশি সরকারের প্রত্যাশার কারণে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এভাবে সফর করতে হওয়া মোদি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য সফরের মূল লক্ষ্য হিসেবে জ্বালানি খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার রয়েছে। মার্কিন জ্বালানি নীতির প্রেক্ষাপটে এই শোধনাগার গুরুত্বপূর্ণ। ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে রিলায়েন্সের নতুন বিনিয়োগের বিষয়গুলোও সফরের সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

বাণিজ্যিক শুল্ক, রুশ তেল আমদানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং প্রযুক্তি খাতের ভিসা নিয়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে যখন টানাপোড়েন চলছে, তখন রুবিওর এ সফর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।