ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লিতে বিক্ষোভে ১২ সাংবাদিক আটক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 32

ছবি: সংগৃহীত

 

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে টানা দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্তত ১২ সাংবাদিককে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। রোববার অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) ডাকা বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের সময় তাদের আটক করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহার এবং কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়ে বাসে তোলার অভিযোগ উঠেছে।

আটক সাংবাদিকদের মধ্যে হিন্দুস্তান টাইমসের সহযোগী সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান’-এর প্রতিবেদক আশিস সিং, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস হিন্দি’র তিন প্রতিবেদক, ‘দ্য হিন্দু’র একজন প্রতিবেদক এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন ক্যামেরাপারসন রয়েছেন।

আরও পড়ুন  ‘ভুয়া সংবাদ’ অভিযোগে সাংবাদিকদের বরখাস্তের দাবি ট্রাম্পের

‘হিন্দুস্তান’-এর ২৭ বছর বয়সি প্রতিবেদক আশিস সিং জানান, বেলা আড়াইটার দিকে আরকে আশ্রম মার্গ এলাকায় বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের সময় পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে তিনি আহত হন বলে দাবি করেন তিনি। গলায় সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র ঝোলানো থাকলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন আশিস।

আশিসের ভাষ্য, তিনি ক্যামেরায় আটকের ঘটনাগুলো ধারণ করছিলেন। তখন পুলিশ তাকে ধাক্কা দিতে শুরু করে এবং ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে। তার ধারণা, আঘাত করতে আঙুলে পরা বিশেষ ধরনের ধাতব বস্তু ব্যবহার করা হয়েছিল। বারবার নিজের পরিচয় জানিয়ে পরিচয়পত্র দেখালেও পুলিশ তার কথা শোনেনি বলে জানান তিনি।

পরে এক আলোকচিত্রীর সঙ্গে আশিসকে জোর করে একটি বাসে তোলা হয়। তার দাবি, তিনি বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে দূরে ছিলেন এবং পুলিশের কাজে কোনো বাধা দিচ্ছিলেন না। তারপরও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাসে থাকার পর সেটি মন্দির মার্গ এলাকায় পৌঁছালে তিনি ও অন্য সাংবাদিক বাস থেকে নেমে যান। পুলিশ তাদের ফোন কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বাস থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান আশিস।

একটি জাতীয় সংবাদ সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলোকচিত্রীও বিক্ষোভকারীদের আটকের ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রথমে পথচারীদের সরিয়ে দেয়, পরে সাংবাদিকদের আটক করতে শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে বাসে তোলার নির্দেশ দেন এবং ধাক্কা দিয়ে বাসে তুলে নেন। নিজের জিনিসপত্র কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি মেমোরি কার্ড লুকিয়ে রাখেন।

সাংবাদিকদের আটকের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানায়, তাদের তিন সাংবাদিকের নাম শাশ্বত, সিয়া ও বিজয়। কনট প্লেস এলাকা থেকে তাদের আটক করে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। যে স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল, স্টেডিয়ামটি সেখান থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে।

এদিকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ‘দ্য হিন্দু’র এক নারী প্রতিবেদককেও সাময়িকভাবে আটক করা হয়। তাকে ধাক্কা দিয়ে একটি বাসে তোলা হয়েছিল। তবে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কনট প্লেসে ওই প্রতিবেদক জানান, তিনি নিজের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে কী করছেন জানতে চান এবং পরে আটক করেন। সাংবাদিকদের আটকের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লিতে বিক্ষোভে ১২ সাংবাদিক আটক

আপডেট সময় ০৯:৫৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

 

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে টানা দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্তত ১২ সাংবাদিককে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। রোববার অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) ডাকা বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের সময় তাদের আটক করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহার এবং কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়ে বাসে তোলার অভিযোগ উঠেছে।

আটক সাংবাদিকদের মধ্যে হিন্দুস্তান টাইমসের সহযোগী সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান’-এর প্রতিবেদক আশিস সিং, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস হিন্দি’র তিন প্রতিবেদক, ‘দ্য হিন্দু’র একজন প্রতিবেদক এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন ক্যামেরাপারসন রয়েছেন।

আরও পড়ুন  শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়ার পথে আ.লীগের ৬ নেতাকর্মী আটক

‘হিন্দুস্তান’-এর ২৭ বছর বয়সি প্রতিবেদক আশিস সিং জানান, বেলা আড়াইটার দিকে আরকে আশ্রম মার্গ এলাকায় বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের সময় পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে তিনি আহত হন বলে দাবি করেন তিনি। গলায় সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র ঝোলানো থাকলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন আশিস।

আশিসের ভাষ্য, তিনি ক্যামেরায় আটকের ঘটনাগুলো ধারণ করছিলেন। তখন পুলিশ তাকে ধাক্কা দিতে শুরু করে এবং ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে। তার ধারণা, আঘাত করতে আঙুলে পরা বিশেষ ধরনের ধাতব বস্তু ব্যবহার করা হয়েছিল। বারবার নিজের পরিচয় জানিয়ে পরিচয়পত্র দেখালেও পুলিশ তার কথা শোনেনি বলে জানান তিনি।

পরে এক আলোকচিত্রীর সঙ্গে আশিসকে জোর করে একটি বাসে তোলা হয়। তার দাবি, তিনি বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে দূরে ছিলেন এবং পুলিশের কাজে কোনো বাধা দিচ্ছিলেন না। তারপরও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাসে থাকার পর সেটি মন্দির মার্গ এলাকায় পৌঁছালে তিনি ও অন্য সাংবাদিক বাস থেকে নেমে যান। পুলিশ তাদের ফোন কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বাস থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান আশিস।

একটি জাতীয় সংবাদ সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলোকচিত্রীও বিক্ষোভকারীদের আটকের ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রথমে পথচারীদের সরিয়ে দেয়, পরে সাংবাদিকদের আটক করতে শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে বাসে তোলার নির্দেশ দেন এবং ধাক্কা দিয়ে বাসে তুলে নেন। নিজের জিনিসপত্র কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি মেমোরি কার্ড লুকিয়ে রাখেন।

সাংবাদিকদের আটকের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানায়, তাদের তিন সাংবাদিকের নাম শাশ্বত, সিয়া ও বিজয়। কনট প্লেস এলাকা থেকে তাদের আটক করে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। যে স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল, স্টেডিয়ামটি সেখান থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে।

এদিকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ‘দ্য হিন্দু’র এক নারী প্রতিবেদককেও সাময়িকভাবে আটক করা হয়। তাকে ধাক্কা দিয়ে একটি বাসে তোলা হয়েছিল। তবে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কনট প্লেসে ওই প্রতিবেদক জানান, তিনি নিজের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে কী করছেন জানতে চান এবং পরে আটক করেন। সাংবাদিকদের আটকের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস