ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বিক্ষোভ দমনে ধরপাকড়, বিজেপির বিরুদ্ধে ‘কালো জরুরি অবস্থা’ জারির অভিযোগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 26

ছবি সংগৃহীত

 

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকারের বিরুদ্ধে দেশে ‘কালো জরুরি অবস্থা’ জারির অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দল আম আদমি পার্টি (আপ)।

শনিবার (১০ অক্টোবর) আপের বিধায়ক গোপাল রায় অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষার জন্য মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে খবর প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।

আরও পড়ুন  দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়, বিশেষ শুনানি সুপ্রিম কোর্টে

সাংবাদিকদের গোপাল রায় বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর পরিবর্তে কেন্দ্রীয় সরকার দেশে ‘কালো জরুরি অবস্থা’ জারি করেছে। তাঁকে রক্ষার জন্য দিল্লিকে সামরিক ঘাঁটির মতো করে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গোপাল রায় বলেন, বলপ্রয়োগ করে আন্দোলন দমন করা সম্ভব হবে না।

আপের দিল্লি শাখার সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজও বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীরা অহিংস উপায়ে নিজেদের দাবি জানাতে চান। কিন্তু বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের কারণে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এক ভিডিও বার্তায় সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, তরুণদের জোর করে চুপ করিয়ে রাখা যায় না। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপ অহিংসা ও ভারতের সংবিধানে বিশ্বাসী।

ভোট চুরির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছিলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ঘিরে অন্তত ৬০০ জনকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শনিবার সকাল ৬টা থেকে দিল্লির বিভিন্ন সড়কে কঠোর ট্রাফিক বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ব্যারিকেড বসিয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহন পরীক্ষা ও জনসাধারণের চলাচলে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এ ছাড়া মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ, একাধিক ট্রেন বাতিল এবং রাজধানীর কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিক্ষোভ দমনে ধরপাকড়, বিজেপির বিরুদ্ধে ‘কালো জরুরি অবস্থা’ জারির অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:১৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

 

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকারের বিরুদ্ধে দেশে ‘কালো জরুরি অবস্থা’ জারির অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দল আম আদমি পার্টি (আপ)।

শনিবার (১০ অক্টোবর) আপের বিধায়ক গোপাল রায় অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষার জন্য মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে খবর প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।

আরও পড়ুন  বিক্ষোভ অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ

সাংবাদিকদের গোপাল রায় বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর পরিবর্তে কেন্দ্রীয় সরকার দেশে ‘কালো জরুরি অবস্থা’ জারি করেছে। তাঁকে রক্ষার জন্য দিল্লিকে সামরিক ঘাঁটির মতো করে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গোপাল রায় বলেন, বলপ্রয়োগ করে আন্দোলন দমন করা সম্ভব হবে না।

আপের দিল্লি শাখার সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজও বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীরা অহিংস উপায়ে নিজেদের দাবি জানাতে চান। কিন্তু বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের কারণে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এক ভিডিও বার্তায় সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, তরুণদের জোর করে চুপ করিয়ে রাখা যায় না। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপ অহিংসা ও ভারতের সংবিধানে বিশ্বাসী।

ভোট চুরির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছিলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ঘিরে অন্তত ৬০০ জনকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শনিবার সকাল ৬টা থেকে দিল্লির বিভিন্ন সড়কে কঠোর ট্রাফিক বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ব্যারিকেড বসিয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহন পরীক্ষা ও জনসাধারণের চলাচলে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এ ছাড়া মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ, একাধিক ট্রেন বাতিল এবং রাজধানীর কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।