ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধের শেষ চাননি সাবেক ইসরায়েলি আলোচক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:০৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 23

ছবি: সংগৃহীত

গাজা যুদ্ধের অবসান এবং হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগেভাগে চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী ছিলেন না বলে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের সাবেক এক আলোচক। তাঁর মতে, আরও আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব ছিল। তা হলে বন্দিদশায় নিহত কয়েকজন জিম্মি হয়তো জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারতেন।

ইসরায়েলের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নিৎজান অ্যালন এ মন্তব্য করেছেন। গাজা যুদ্ধের শুরুতে জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে আলোচনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

শুক্রবার ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির এক ওয়েবকাস্টে অংশ নিয়ে অ্যালন বলেন, জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত সমঝোতায় পৌঁছাতে ইসরায়েল অন্তত এক বছর আগেই সক্ষম হতে পারত। এতে যুদ্ধের অন্যান্য কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে বড় কোনো বাধা তৈরি হতো না।

আরও পড়ুন  গাজা সিটির দিকে ইসরায়েলের পূর্ণ দখল অভিযান, ৮ লাখ মানুষের জীবন হুমকিতে।

অ্যালনের ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, আমরা এই পর্যায়ে আরও অনেক আগেই পৌঁছাতে পারতাম—সম্ভবত এক বছর বা তার আগেই। এতে যুদ্ধের অন্যান্য কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে বড় কোনো প্রভাব পড়ত না। আমরা আসলে সেই সুযোগ হারিয়েছি। যুদ্ধ অনেক দীর্ঘ হয়েছে।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়েবকাস্টটির আয়োজন করা হয়। ওই হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। এতে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির আগে ইসরায়েলকে ‘পূর্ণ বিজয়’ অর্জন করতে হবে—নেতানিয়াহুর এমন অবস্থানকে মিথ্যা বলে আখ্যা দেন অ্যালন। তাঁর মতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি একটি কৌশলগত সাফল্য ছিল। এর ফলে হামাসের সামরিক সক্ষমতা কমেছে। তবে চুক্তিটি আরও আগে বাস্তবায়ন করা গেলে জিম্মিদের প্রাণহানি এড়ানোর সুযোগ ছিল।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ওই চুক্তির আওতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে বন্দিবিনিময় হয়। এর মাধ্যমে ইসরায়েলি কারাগারে আটক প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়। অন্যদিকে গাজায় আটক ২০ ইসরায়েলি জিম্মিও মুক্তি পান।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানি বলেছিলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পরপরই সব জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে সীমিত সময়ের যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব হামাস দিয়েছিল, তা নিয়ে আলোচনায়ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা রাজি হননি।

ওয়েবকাস্টের আলোচনায় অ্যালন আরও বলেন, যুদ্ধ সংক্ষিপ্ত করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগানো হয়নি। তাঁর মতে, আগে যুদ্ধবিরতি হলে সব জিম্মিকে হয়তো এক বছর আগেই ফিরিয়ে আনা যেত। পাশাপাশি উভয় পক্ষের হাজারো মানুষের প্রাণহানিও ঠেকানো সম্ভব হতে পারত।

এর আগেও গত জুলাইয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন অ্যালন। সে সময় ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোৎরিচের সমালোচনা করে তিনি বলেছিলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রস্তাবিত বন্দিমুক্তি চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন স্মোৎরিচ। ফলে সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনার কৃতিত্ব তাঁর দাবি করা উচিত নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধের শেষ চাননি সাবেক ইসরায়েলি আলোচক

আপডেট সময় ০৯:০৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

গাজা যুদ্ধের অবসান এবং হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগেভাগে চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী ছিলেন না বলে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের সাবেক এক আলোচক। তাঁর মতে, আরও আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব ছিল। তা হলে বন্দিদশায় নিহত কয়েকজন জিম্মি হয়তো জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারতেন।

ইসরায়েলের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নিৎজান অ্যালন এ মন্তব্য করেছেন। গাজা যুদ্ধের শুরুতে জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে আলোচনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

শুক্রবার ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির এক ওয়েবকাস্টে অংশ নিয়ে অ্যালন বলেন, জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত সমঝোতায় পৌঁছাতে ইসরায়েল অন্তত এক বছর আগেই সক্ষম হতে পারত। এতে যুদ্ধের অন্যান্য কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে বড় কোনো বাধা তৈরি হতো না।

আরও পড়ুন  গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে নিন্দা প্রকাশ যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রীর

অ্যালনের ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, আমরা এই পর্যায়ে আরও অনেক আগেই পৌঁছাতে পারতাম—সম্ভবত এক বছর বা তার আগেই। এতে যুদ্ধের অন্যান্য কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে বড় কোনো প্রভাব পড়ত না। আমরা আসলে সেই সুযোগ হারিয়েছি। যুদ্ধ অনেক দীর্ঘ হয়েছে।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়েবকাস্টটির আয়োজন করা হয়। ওই হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। এতে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির আগে ইসরায়েলকে ‘পূর্ণ বিজয়’ অর্জন করতে হবে—নেতানিয়াহুর এমন অবস্থানকে মিথ্যা বলে আখ্যা দেন অ্যালন। তাঁর মতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি একটি কৌশলগত সাফল্য ছিল। এর ফলে হামাসের সামরিক সক্ষমতা কমেছে। তবে চুক্তিটি আরও আগে বাস্তবায়ন করা গেলে জিম্মিদের প্রাণহানি এড়ানোর সুযোগ ছিল।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ওই চুক্তির আওতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে বন্দিবিনিময় হয়। এর মাধ্যমে ইসরায়েলি কারাগারে আটক প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়। অন্যদিকে গাজায় আটক ২০ ইসরায়েলি জিম্মিও মুক্তি পান।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানি বলেছিলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পরপরই সব জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে সীমিত সময়ের যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব হামাস দিয়েছিল, তা নিয়ে আলোচনায়ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা রাজি হননি।

ওয়েবকাস্টের আলোচনায় অ্যালন আরও বলেন, যুদ্ধ সংক্ষিপ্ত করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগানো হয়নি। তাঁর মতে, আগে যুদ্ধবিরতি হলে সব জিম্মিকে হয়তো এক বছর আগেই ফিরিয়ে আনা যেত। পাশাপাশি উভয় পক্ষের হাজারো মানুষের প্রাণহানিও ঠেকানো সম্ভব হতে পারত।

এর আগেও গত জুলাইয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন অ্যালন। সে সময় ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোৎরিচের সমালোচনা করে তিনি বলেছিলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রস্তাবিত বন্দিমুক্তি চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন স্মোৎরিচ। ফলে সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনার কৃতিত্ব তাঁর দাবি করা উচিত নয়।