ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 25

ছবি: সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি। তবে কখন এসব নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান চাপ আরও বাড়ানোর অংশ হিসেবে পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা আইসিসিকে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের নিয়ে করা আগের তদন্ত বন্ধ করার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার একটি প্রচারণা ঘোষণা করেন এবং অন্য দেশগুলোকে আদালত থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন  আইসিসিতে বড় দায়িত্ব পেলেন তামিম

সূত্রগুলো জানিয়েছে, আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কাঠামো প্রস্তুত হলেও তা ঘোষণার সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠক চলাকালীন চলতি সপ্তাহেই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হতে পারে।

পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে আইসিসির সঙ্গে সহযোগিতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ থেকে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও কোম্পানিগুলো বিশেষ অনুমতি ছাড়া আইসিসিকে অর্থ, পণ্য বা সেবা দিতে পারবে না।

এ ধরনের নিষেধাজ্ঞায় আইসিসির তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও বীমা কেনা, তদন্তকারী নিয়োগ এবং দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আদালটির কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, এর প্রভাব মার্কিন কর্মীদের বেতন দেওয়ার মতো কার্যক্রমেও পড়তে পারে।

আইসিসির প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা নতুন নয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই আদালটির এখতিয়ার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি রয়েছে। গাজা সংঘাত নিয়ে আইসিসির তদন্ত এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এ বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসির লক্ষ্য হলো গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা। কোনো দেশ নিজে এসব গুরুতর অপরাধের বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলে নির্দিষ্ট শর্তে আদালতটি এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে রয়টার্সের তাৎক্ষণিক মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের

আপডেট সময় ০৩:০০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি। তবে কখন এসব নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান চাপ আরও বাড়ানোর অংশ হিসেবে পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা আইসিসিকে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের নিয়ে করা আগের তদন্ত বন্ধ করার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার একটি প্রচারণা ঘোষণা করেন এবং অন্য দেশগুলোকে আদালত থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্য চুক্তির পথে বড় অগ্রগতি, আজ শুরু হচ্ছে আলোচনা

সূত্রগুলো জানিয়েছে, আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কাঠামো প্রস্তুত হলেও তা ঘোষণার সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠক চলাকালীন চলতি সপ্তাহেই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হতে পারে।

পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে আইসিসির সঙ্গে সহযোগিতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ থেকে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও কোম্পানিগুলো বিশেষ অনুমতি ছাড়া আইসিসিকে অর্থ, পণ্য বা সেবা দিতে পারবে না।

এ ধরনের নিষেধাজ্ঞায় আইসিসির তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও বীমা কেনা, তদন্তকারী নিয়োগ এবং দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আদালটির কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, এর প্রভাব মার্কিন কর্মীদের বেতন দেওয়ার মতো কার্যক্রমেও পড়তে পারে।

আইসিসির প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা নতুন নয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই আদালটির এখতিয়ার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি রয়েছে। গাজা সংঘাত নিয়ে আইসিসির তদন্ত এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এ বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসির লক্ষ্য হলো গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা। কোনো দেশ নিজে এসব গুরুতর অপরাধের বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলে নির্দিষ্ট শর্তে আদালতটি এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে রয়টার্সের তাৎক্ষণিক মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।