ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

গোপন সফরে আফ্রিকায় তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট, ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিল চীন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / 158

ছবি সংগৃহীত

 

গোপন সফরে আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনি (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড) পৌঁছেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সফরকালে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্বের যে কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার পূর্ণ অধিকার তাইওয়ানের রয়েছে এবং কোনো দেশই এতে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। এসওয়াতিনির রাজা তৃতীয় এমসোয়াতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট লাইয়ের এই আকস্মিক ও গোপন সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে চীন। বেইজিং এই সফরকে ‘গোপনে পলায়ন’ হিসেবে অভিহিত করে তাইওয়ান প্রেসিডেন্টকে ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিয়েছে। চীনের এমন বিতর্কিত মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের শুল্ক-আক্রমণে আবারও উত্তপ্ত বিশ্ববাণিজ্য, শান্তির আহ্বানে চীন

তাইওয়ান সরকারের তথ্যমতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ এড়াতে সফরটি আগে থেকে ঘোষণা করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট লাই শনিবার একটি এসওয়াতিনি সরকারি বিমানে করে সেখানে পৌঁছান। তাইওয়ানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একে একটি কৌশলগত কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, “লাই চিং-তের আচরণ এমন, যেন রাস্তা দিয়ে ছুটে যাওয়া একটি ইঁদুর—যা আন্তর্জাতিক মহলে উপহাসের জন্ম দেবে।” চীন সব সময়ই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।

পাল্টা জবাবে তাইওয়ানের নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল’ বেইজিংয়ের ভাষাকে ‘অশোভন ও নিম্নমানের’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের বিদেশ সফরের জন্য বেইজিংয়ের অনুমতির কোনো প্রয়োজন নেই।

বর্তমানে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা হাতেগোনা ১২টি দেশের মধ্যে এসওয়াতিনি অন্যতম। আফ্রিকার এই দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা তাইওয়ানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে লাইয়ের সফর নিয়ে চীন বাধা সৃষ্টি করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো চীনের ভূমিকার সমালোচনা করেছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর এবং বেইজিংয়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া তাইওয়ান ইস্যুতে চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গোপন সফরে আফ্রিকায় তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট, ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিল চীন

আপডেট সময় ০৫:১৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

 

গোপন সফরে আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনি (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড) পৌঁছেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সফরকালে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্বের যে কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার পূর্ণ অধিকার তাইওয়ানের রয়েছে এবং কোনো দেশই এতে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। এসওয়াতিনির রাজা তৃতীয় এমসোয়াতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট লাইয়ের এই আকস্মিক ও গোপন সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে চীন। বেইজিং এই সফরকে ‘গোপনে পলায়ন’ হিসেবে অভিহিত করে তাইওয়ান প্রেসিডেন্টকে ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিয়েছে। চীনের এমন বিতর্কিত মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

আরও পড়ুন  চীনা বিমানবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের সাবেক পাইলট গ্রেপ্তার

তাইওয়ান সরকারের তথ্যমতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ এড়াতে সফরটি আগে থেকে ঘোষণা করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট লাই শনিবার একটি এসওয়াতিনি সরকারি বিমানে করে সেখানে পৌঁছান। তাইওয়ানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একে একটি কৌশলগত কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, “লাই চিং-তের আচরণ এমন, যেন রাস্তা দিয়ে ছুটে যাওয়া একটি ইঁদুর—যা আন্তর্জাতিক মহলে উপহাসের জন্ম দেবে।” চীন সব সময়ই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।

পাল্টা জবাবে তাইওয়ানের নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল’ বেইজিংয়ের ভাষাকে ‘অশোভন ও নিম্নমানের’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের বিদেশ সফরের জন্য বেইজিংয়ের অনুমতির কোনো প্রয়োজন নেই।

বর্তমানে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা হাতেগোনা ১২টি দেশের মধ্যে এসওয়াতিনি অন্যতম। আফ্রিকার এই দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা তাইওয়ানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে লাইয়ের সফর নিয়ে চীন বাধা সৃষ্টি করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো চীনের ভূমিকার সমালোচনা করেছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর এবং বেইজিংয়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া তাইওয়ান ইস্যুতে চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।