০৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চীন, পাকিস্থান ও বাংলাদেশে নজরদারিতে, হলদিয়ায় নৌ ঘাঁটি গড়ছে ভারত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫৩:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 112

ছবি সংগৃহীত

 

বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দরে নতুন একটি নৌ ঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ তৎপরতা এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকেন্দ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাস্তবতার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই ঘাঁটি পূর্ণাঙ্গ নৌ কমান্ড হিসেবে নয়, বরং একটি সীমিত পরিসরের অপারেশনাল নৌ ইউনিট বা ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে পরিচালিত হবে। এখানে মূলত ছোট আকারের দ্রুতগতির যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে।

ভারতীয় নৌবাহিনী হলদিয়া বন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই দ্রুত ঘাঁটির কার্যক্রম শুরু করতে চায়। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি পৃথক জেটি ও প্রয়োজনীয় উপকূলীয় সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো যায়।

এই ঘাঁটিতে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট (এফআইসি) এবং প্রায় ৩০০ টন ওজনের নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট মোতায়েন করা হবে। এসব নৌযান ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও উপকূলীয় নিরাপত্তা অভিযানে বিশেষভাবে কার্যকর।

নৌযানগুলোতে সিআরএন-৯১ কামান সংযোজন করা হবে। পাশাপাশি নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করতে নাগাস্ত্রসহ আধুনিক ড্রোন ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে সমুদ্রপথে পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক কৌশলগত কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত মহাসাগরে চীনের নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি, সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বাংলাদেশ উপকূলবর্তী অঞ্চলের অগভীর জলভাগ, যেখানে দ্রুতগতির ছোট যুদ্ধজাহাজ বেশি কার্যকর।

এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতাও ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

নতুন ঘাঁটিটি আকারে ছোট হবে এবং সেখানে আনুমানিক ১০০ জন নৌ কর্মকর্তা ও নাবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এটি পূর্ণাঙ্গ নৌ ঘাঁটি নয়, বরং একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল অপারেশনাল ইউনিট হিসেবে কাজ করবে।

কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলদিয়া বন্দরের অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘাঁটি স্থাপন হলে হুগলি নদীপথের দীর্ঘ যাত্রা এড়িয়ে ভারতীয় নৌবাহিনী সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করতে পারবে।

বর্তমানে ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দপ্তর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বড় নৌঘাঁটি রয়েছে। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হলদিয়ায় জমি অনেক আগেই চিহ্নিত করা হয়েছিল, তবে নানা কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন বাস্তবায়ন হয়নি।

নতুন এই ঘাঁটি ভারতের সামগ্রিক নৌ সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করবে বলে আশা করছে দেশটির প্রতিরক্ষা মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

চীন, পাকিস্থান ও বাংলাদেশে নজরদারিতে, হলদিয়ায় নৌ ঘাঁটি গড়ছে ভারত

আপডেট সময় ১২:৫৩:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

 

বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দরে নতুন একটি নৌ ঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ তৎপরতা এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকেন্দ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাস্তবতার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই ঘাঁটি পূর্ণাঙ্গ নৌ কমান্ড হিসেবে নয়, বরং একটি সীমিত পরিসরের অপারেশনাল নৌ ইউনিট বা ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে পরিচালিত হবে। এখানে মূলত ছোট আকারের দ্রুতগতির যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে।

ভারতীয় নৌবাহিনী হলদিয়া বন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই দ্রুত ঘাঁটির কার্যক্রম শুরু করতে চায়। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি পৃথক জেটি ও প্রয়োজনীয় উপকূলীয় সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো যায়।

এই ঘাঁটিতে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট (এফআইসি) এবং প্রায় ৩০০ টন ওজনের নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট মোতায়েন করা হবে। এসব নৌযান ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও উপকূলীয় নিরাপত্তা অভিযানে বিশেষভাবে কার্যকর।

নৌযানগুলোতে সিআরএন-৯১ কামান সংযোজন করা হবে। পাশাপাশি নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করতে নাগাস্ত্রসহ আধুনিক ড্রোন ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে সমুদ্রপথে পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক কৌশলগত কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত মহাসাগরে চীনের নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি, সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বাংলাদেশ উপকূলবর্তী অঞ্চলের অগভীর জলভাগ, যেখানে দ্রুতগতির ছোট যুদ্ধজাহাজ বেশি কার্যকর।

এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতাও ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

নতুন ঘাঁটিটি আকারে ছোট হবে এবং সেখানে আনুমানিক ১০০ জন নৌ কর্মকর্তা ও নাবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এটি পূর্ণাঙ্গ নৌ ঘাঁটি নয়, বরং একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল অপারেশনাল ইউনিট হিসেবে কাজ করবে।

কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলদিয়া বন্দরের অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘাঁটি স্থাপন হলে হুগলি নদীপথের দীর্ঘ যাত্রা এড়িয়ে ভারতীয় নৌবাহিনী সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করতে পারবে।

বর্তমানে ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দপ্তর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বড় নৌঘাঁটি রয়েছে। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হলদিয়ায় জমি অনেক আগেই চিহ্নিত করা হয়েছিল, তবে নানা কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন বাস্তবায়ন হয়নি।

নতুন এই ঘাঁটি ভারতের সামগ্রিক নৌ সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করবে বলে আশা করছে দেশটির প্রতিরক্ষা মহল।