১১:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
শিরোনাম :
এনসিপি ১০০ আসনে প্রার্থী দিচ্ছে পর্যাপ্ত ডলার আছে, রমজানে পণ্য সংকটের শঙ্কা নেই: গভর্নর টাওয়ার ছাড়াই চলবে মোবাইল! প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত সিরিজ টিকিয়ে রাখতে সন্ধায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: সিইসি ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ২০০ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা খালেদা জিয়ার অবস্থার উন্নতি নেই অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসের তালিকায় ইরানের আইআরজিসি কাতারে শুরু বিশ্ব শিক্ষা সম্মেলন : এআই যুগে মানবিক মূল্যবোধকে শিক্ষার কেন্দ্রে রাখার আহ্বান

টাওয়ার ছাড়াই চলবে মোবাইল! প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / 115

ছবি: সংগৃহীত

 

মোবাইল ফোন ব্যবহারে টাওয়ার অপরিহার্য—এই ধারণা এবার পাল্টে যেতে চলেছে। প্রচলিত সেলুলার নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এমন কিছু উদ্ভাবনী প্রযুক্তি আসছে, যা প্রত্যন্ত বা দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসবে। যদিও মূল কাঠামো সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া সম্ভব নয়, তবে বিকল্প এই পদ্ধতিগুলো যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
টাওয়ারবিহীন মোবাইল যোগাযোগের মূল ভিত্তি হলো স্যাটেলাইট সংযোগ এবং পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) নেটওয়ার্কিং।

স্যাটেলাইট সংযোগ:
অ্যাপল (Apple) এবং পরবর্তীতে অন্যান্য স্মার্টফোন নির্মাতারা তাদের আধুনিক মডেলগুলোতে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক জরুরি পরিষেবা (Emergency SOS via Satellite) চালু করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এমন এলাকা থেকেও বার্তা পাঠাতে পারেন, যেখানে কোনো মোবাইল টাওয়ারের সিগনাল পৌঁছায় না। এটি মূলত গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (GPS)-এর মতো কাজ করে, যেখানে ফোন সরাসরি পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা স্যাটেলাইটের সাথে সংযুক্ত হয়। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিয়মিত কলিং পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও চলছে।

বিজ্ঞাপন

মেশ নেটওয়ার্কিং:
স্বল্প পরিসরে টাওয়ারের বিকল্প হিসেবে ‘মেশ নেটওয়ার্কিং’ (Mesh Networking) প্রযুক্তি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কিছু বিশেষ অ্যাপস বা ডিভাইস ব্লুটুথ (Bluetooth) অথবা ওয়াই-ফাই ডাইরেক্ট (Wi-Fi Direct) ব্যবহার করে কাছাকাছি থাকা একাধিক ফোনকে সরাসরি সংযুক্ত করে। এতে কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার বা টাওয়ারের প্রয়োজন হয় না। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে থাকা ব্যবহারকারীরা একে অপরের সাথে টেক্সট আদান-প্রদান করতে পারেন। দুর্যোগকালীন সময়ে, যখন সব টাওয়ার অকেজো হয়ে পড়ে, তখন এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্ভাবনগুলো প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। সম্পূর্ণ টাওয়ারবিহীন একটি বিশ্বব্যাপী মোবাইল ব্যবস্থা এখনো সুদূরপরাহত হলেও, এই বিকল্পগুলো নিশ্চিতভাবেই যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানুষের নির্ভরতা বাড়াচ্ছে এবং বিশেষ করে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

টাওয়ার ছাড়াই চলবে মোবাইল! প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় ০২:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

 

মোবাইল ফোন ব্যবহারে টাওয়ার অপরিহার্য—এই ধারণা এবার পাল্টে যেতে চলেছে। প্রচলিত সেলুলার নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এমন কিছু উদ্ভাবনী প্রযুক্তি আসছে, যা প্রত্যন্ত বা দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসবে। যদিও মূল কাঠামো সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া সম্ভব নয়, তবে বিকল্প এই পদ্ধতিগুলো যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
টাওয়ারবিহীন মোবাইল যোগাযোগের মূল ভিত্তি হলো স্যাটেলাইট সংযোগ এবং পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) নেটওয়ার্কিং।

স্যাটেলাইট সংযোগ:
অ্যাপল (Apple) এবং পরবর্তীতে অন্যান্য স্মার্টফোন নির্মাতারা তাদের আধুনিক মডেলগুলোতে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক জরুরি পরিষেবা (Emergency SOS via Satellite) চালু করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এমন এলাকা থেকেও বার্তা পাঠাতে পারেন, যেখানে কোনো মোবাইল টাওয়ারের সিগনাল পৌঁছায় না। এটি মূলত গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (GPS)-এর মতো কাজ করে, যেখানে ফোন সরাসরি পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা স্যাটেলাইটের সাথে সংযুক্ত হয়। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিয়মিত কলিং পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও চলছে।

বিজ্ঞাপন

মেশ নেটওয়ার্কিং:
স্বল্প পরিসরে টাওয়ারের বিকল্প হিসেবে ‘মেশ নেটওয়ার্কিং’ (Mesh Networking) প্রযুক্তি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কিছু বিশেষ অ্যাপস বা ডিভাইস ব্লুটুথ (Bluetooth) অথবা ওয়াই-ফাই ডাইরেক্ট (Wi-Fi Direct) ব্যবহার করে কাছাকাছি থাকা একাধিক ফোনকে সরাসরি সংযুক্ত করে। এতে কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার বা টাওয়ারের প্রয়োজন হয় না। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে থাকা ব্যবহারকারীরা একে অপরের সাথে টেক্সট আদান-প্রদান করতে পারেন। দুর্যোগকালীন সময়ে, যখন সব টাওয়ার অকেজো হয়ে পড়ে, তখন এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্ভাবনগুলো প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। সম্পূর্ণ টাওয়ারবিহীন একটি বিশ্বব্যাপী মোবাইল ব্যবস্থা এখনো সুদূরপরাহত হলেও, এই বিকল্পগুলো নিশ্চিতভাবেই যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানুষের নির্ভরতা বাড়াচ্ছে এবং বিশেষ করে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।