ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সিরিয়ায় পাঁচ দিন ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩৫০

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:২০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
  • / 928

ছবি সংগৃহীত

 

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সওয়েইদা প্রদেশে টানা পাঁচ দিন ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫০ জনে। সুন্নি বেদুঈন ও দ্রুজ গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয় গত রোববার থেকে। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।

সংস্থাটি জানায়, নিহতদের মধ্যে ৭৯ জন দ্রুজ যোদ্ধা ও ৫৫ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ১৮৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১৮ জন বেদুঈন যোদ্ধাও প্রাণ হারিয়েছেন। সংগঠনের দাবি, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বাহিনীর সদস্যরা ঠাণ্ডা মাথায় অন্তত ২৭ জনকে হত্যা করেছে।

আরও পড়ুন  গাজীপুরে মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে যাত্রীবাহী বাসে আগুন

সংঘাত শুরু হওয়ার পরপরই সংস্থাটি নিহতের সংখ্যা ৩০০ বলে জানালেও পরে সেই সংখ্যা সংশোধন করে ৩৫০ জনেরও বেশি বলে জানানো হয়।

এদিকে, সংঘাতে নিহতদের তালিকায় রয়েছেন হাসান আল-জাবি নামের এক সাংবাদিকও। সিরিয়ার সাংবাদিকদের ইউনিয়নের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন। তবে তিনি কোন গণমাধ্যমে কাজ করতেন, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সওয়েইদায় নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর আরও ১৫ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানায় সংস্থাটি।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন ভাষণে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দ্রুজ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘দ্রুজ জনগোষ্ঠীর ওপর যারা নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।’

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি শান্ত হলে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুনরায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নতুন করে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও জাতিগত সহাবস্থানের ওপর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: এএফপি

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরিয়ায় পাঁচ দিন ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩৫০

আপডেট সময় ০৪:২০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

 

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সওয়েইদা প্রদেশে টানা পাঁচ দিন ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫০ জনে। সুন্নি বেদুঈন ও দ্রুজ গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয় গত রোববার থেকে। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।

সংস্থাটি জানায়, নিহতদের মধ্যে ৭৯ জন দ্রুজ যোদ্ধা ও ৫৫ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ১৮৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১৮ জন বেদুঈন যোদ্ধাও প্রাণ হারিয়েছেন। সংগঠনের দাবি, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বাহিনীর সদস্যরা ঠাণ্ডা মাথায় অন্তত ২৭ জনকে হত্যা করেছে।

আরও পড়ুন  আলেপ্পোতে যুদ্ধবিরতি: সিরীয় সেনা ও কুর্দি বাহিনীর সংঘর্ষের অবসান

সংঘাত শুরু হওয়ার পরপরই সংস্থাটি নিহতের সংখ্যা ৩০০ বলে জানালেও পরে সেই সংখ্যা সংশোধন করে ৩৫০ জনেরও বেশি বলে জানানো হয়।

এদিকে, সংঘাতে নিহতদের তালিকায় রয়েছেন হাসান আল-জাবি নামের এক সাংবাদিকও। সিরিয়ার সাংবাদিকদের ইউনিয়নের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন। তবে তিনি কোন গণমাধ্যমে কাজ করতেন, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সওয়েইদায় নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর আরও ১৫ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানায় সংস্থাটি।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন ভাষণে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দ্রুজ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘দ্রুজ জনগোষ্ঠীর ওপর যারা নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।’

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি শান্ত হলে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুনরায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নতুন করে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও জাতিগত সহাবস্থানের ওপর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: এএফপি