ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

কারফিউর ভেতর থমথমে গোপালগঞ্জ, সড়কে এখনও পড়ে আছে সহিংসতার চিহ্ন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫৭:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
  • / 285

ছবি: সংগৃহীত

 

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার সারাদিন ধরে সংঘটিত হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর রাত থেকে জারি রয়েছে কারফিউ। আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার রাত পেরিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালেও শহরে বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ।

কারফিউ চলমান থাকলেও সকাল থেকেই সড়কে দেখা গেছে কিছু মানুষের উপস্থিতি। প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া এই মানুষরা কম সংখ্যায় হলেও নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। তবে সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন  দলে নারী নেতৃত্ব বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চলছে : এনসিপি

গতকাল বুধবার এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’কে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন চারজন, আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন, যাদের মধ্যে ৯ জন গুলিবিদ্ধ।

আজ সকালেও শহরের বিভিন্ন সড়কে পড়ে থাকতে দেখা গেছে ইটপাটকেল, বাঁশ ও গাছের ডালপালা। কোথাও কোথাও রাস্তার পাশে থাকা গাছ কেটে ফেলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অনেক স্থানে তোরণ ভেঙে পড়ে থাকায় প্রধান সড়কগুলো আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে।

সকাল ৭টায় ঘোনাপাড়া মোড়ের গোপালগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে একটি রেইনট্রি গাছ কেটে সরাতে দেখা যায় এক নারীকে। তার নাম রোজিনা বেগম। তিনি জানান, সকালে হাঁটতে বের হয়ে রাস্তায় গাছটি পড়ে থাকতে দেখেন। রাতের কোনো এক সময় এটি ফেলে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করেন তিনি।

বাস, মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক চললেও স্থানীয় বাস চলাচল এখনো বন্ধ। পরিবহন শ্রমিক আজগার আলী শেখ জানান, কারফিউ থাকায় রাস্তায় যাত্রী নেই, তাই গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট, গোপালগঞ্জ-ব্যাশপুর এবং গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া-পয়সারহাট রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকাগামী দূরপাল্লার যানবাহন চলছে স্বাভাবিকভাবে।

সকাল ৮টা পর্যন্ত শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে কিছু চায়ের দোকান ও হোটেল খোলা থাকায় সেখানে মানুষের জটলা দেখা যায়। কাঁচা বাজার এলাকাতেও কিছু দোকানে বেচাকেনা চলছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তেমন কোনো পুলিশি টহল না থাকলেও পৌরসভার সামনে কয়েকজন গ্রাম–পুলিশ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী অবস্থান করতে দেখা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কারফিউর ভেতর থমথমে গোপালগঞ্জ, সড়কে এখনও পড়ে আছে সহিংসতার চিহ্ন

আপডেট সময় ০৯:৫৭:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

 

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার সারাদিন ধরে সংঘটিত হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর রাত থেকে জারি রয়েছে কারফিউ। আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার রাত পেরিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালেও শহরে বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ।

কারফিউ চলমান থাকলেও সকাল থেকেই সড়কে দেখা গেছে কিছু মানুষের উপস্থিতি। প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া এই মানুষরা কম সংখ্যায় হলেও নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। তবে সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন  নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর আবারও ডিম নিক্ষেপ

গতকাল বুধবার এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’কে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন চারজন, আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন, যাদের মধ্যে ৯ জন গুলিবিদ্ধ।

আজ সকালেও শহরের বিভিন্ন সড়কে পড়ে থাকতে দেখা গেছে ইটপাটকেল, বাঁশ ও গাছের ডালপালা। কোথাও কোথাও রাস্তার পাশে থাকা গাছ কেটে ফেলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অনেক স্থানে তোরণ ভেঙে পড়ে থাকায় প্রধান সড়কগুলো আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে।

সকাল ৭টায় ঘোনাপাড়া মোড়ের গোপালগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে একটি রেইনট্রি গাছ কেটে সরাতে দেখা যায় এক নারীকে। তার নাম রোজিনা বেগম। তিনি জানান, সকালে হাঁটতে বের হয়ে রাস্তায় গাছটি পড়ে থাকতে দেখেন। রাতের কোনো এক সময় এটি ফেলে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করেন তিনি।

বাস, মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক চললেও স্থানীয় বাস চলাচল এখনো বন্ধ। পরিবহন শ্রমিক আজগার আলী শেখ জানান, কারফিউ থাকায় রাস্তায় যাত্রী নেই, তাই গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট, গোপালগঞ্জ-ব্যাশপুর এবং গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া-পয়সারহাট রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকাগামী দূরপাল্লার যানবাহন চলছে স্বাভাবিকভাবে।

সকাল ৮টা পর্যন্ত শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে কিছু চায়ের দোকান ও হোটেল খোলা থাকায় সেখানে মানুষের জটলা দেখা যায়। কাঁচা বাজার এলাকাতেও কিছু দোকানে বেচাকেনা চলছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তেমন কোনো পুলিশি টহল না থাকলেও পৌরসভার সামনে কয়েকজন গ্রাম–পুলিশ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী অবস্থান করতে দেখা গেছে।