ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

মায়ানমারের মঠে জান্তার ভয়াবহ বিমান হামলায় শিশুসহ ২২ জনের মৃত্যু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / 603

ছবি: সংগৃহীত

 

মায়ানমারের মধ্যাঞ্চলের সাগাইং অঞ্চলের একটি বৌদ্ধ মঠে সাম্প্রতিক এক বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন একজন জান্তাবিরোধী যোদ্ধা এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা। খবর প্রকাশ করেছে এএফপি।

স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে লিন তা লু গ্রামে এই হামলা ঘটে। ওই এলাকায় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষরা একটি মঠে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলার সময় একটি মঠের হলরুমে বোমা নিক্ষেপ করা হয়, যেখানে ঘুমিয়ে ছিলেন অনেক নারী ও শিশু।

আরও পড়ুন  মানুষকে ভয় দেখাতেই এসব হামলা: রিজওয়ানা

একজন বিদ্রোহী যোদ্ধা জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত আরও দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “তারা ভেবেছিল মঠে থাকা নিরাপদ, কিন্তু জান্তা সেখানেও বোমাবর্ষণ করেছে।”

একই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় এক বাসিন্দাও। তিনি জানান, মঠের হল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। শুক্রবার ভোরে হামলার পর তিনি কিছু মৃতদেহ একটি গাড়িতে তুলে কবরস্থানের দিকে যেতে দেখেছেন। পরে তিনি কবরস্থানে গিয়ে ২২টি মৃতদেহ গণনা করেন, যাদের অনেকের মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল বা শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

এ দৃশ্যকে তিনি “চরম মর্মান্তিক” বলে উল্লেখ করেন।

২০২১ সালে সামরিক বাহিনী গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের পর থেকে মায়ানমার রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সাগাইং অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সশস্ত্র বিদ্রোহীদের দমন করতে জান্তা বারবার বিমান হামলার আশ্রয় নিয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে সাগাইংয়ে ৭.৭ মাত্রার এক ভূমিকম্পে প্রায় ৩৮০০ জন প্রাণ হারায় এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়। তখন একটি অঘোষিত যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও বাস্তবে সংঘর্ষ ও বিমান হামলা থামেনি। মে মাসে একই অঞ্চলের একটি স্কুলে বিমান হামলায় দুই শিক্ষকসহ আরও ২০ জন নিহত হয়।

এ ঘটনায় জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুনের কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো বলছে, সংঘর্ষের তীব্রতা দিন দিন আরও বাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মায়ানমারের মঠে জান্তার ভয়াবহ বিমান হামলায় শিশুসহ ২২ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ০৫:১৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

 

মায়ানমারের মধ্যাঞ্চলের সাগাইং অঞ্চলের একটি বৌদ্ধ মঠে সাম্প্রতিক এক বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন একজন জান্তাবিরোধী যোদ্ধা এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা। খবর প্রকাশ করেছে এএফপি।

স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে লিন তা লু গ্রামে এই হামলা ঘটে। ওই এলাকায় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষরা একটি মঠে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলার সময় একটি মঠের হলরুমে বোমা নিক্ষেপ করা হয়, যেখানে ঘুমিয়ে ছিলেন অনেক নারী ও শিশু।

আরও পড়ুন  বাসভবনে হামলার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া রোহিত শেঠি

একজন বিদ্রোহী যোদ্ধা জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত আরও দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “তারা ভেবেছিল মঠে থাকা নিরাপদ, কিন্তু জান্তা সেখানেও বোমাবর্ষণ করেছে।”

একই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় এক বাসিন্দাও। তিনি জানান, মঠের হল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। শুক্রবার ভোরে হামলার পর তিনি কিছু মৃতদেহ একটি গাড়িতে তুলে কবরস্থানের দিকে যেতে দেখেছেন। পরে তিনি কবরস্থানে গিয়ে ২২টি মৃতদেহ গণনা করেন, যাদের অনেকের মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল বা শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

এ দৃশ্যকে তিনি “চরম মর্মান্তিক” বলে উল্লেখ করেন।

২০২১ সালে সামরিক বাহিনী গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের পর থেকে মায়ানমার রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সাগাইং অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সশস্ত্র বিদ্রোহীদের দমন করতে জান্তা বারবার বিমান হামলার আশ্রয় নিয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে সাগাইংয়ে ৭.৭ মাত্রার এক ভূমিকম্পে প্রায় ৩৮০০ জন প্রাণ হারায় এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়। তখন একটি অঘোষিত যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও বাস্তবে সংঘর্ষ ও বিমান হামলা থামেনি। মে মাসে একই অঞ্চলের একটি স্কুলে বিমান হামলায় দুই শিক্ষকসহ আরও ২০ জন নিহত হয়।

এ ঘটনায় জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুনের কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো বলছে, সংঘর্ষের তীব্রতা দিন দিন আরও বাড়ছে।