ঢাকা ০৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

শ্রীমঙ্গলে সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষক্রিয়ায় ৪ তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
  • / 930

ছবি সংগৃহীত

 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হরিণছড়া চা বাগানে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে বিষক্রিয়ায় ৪ তরুণের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর অসুস্থ হন, যাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাশ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজনের মোবাইল ফোন সেপটিক ট্যাংকে পড়ে গেলে সেটি তুলতে গিয়ে একে একে চারজন ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিন্তু ট্যাংকের ভেতরের বিষাক্ত গ্যাসে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান।

আরও পড়ুন  শ্রীমঙ্গলে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

নিহত চার তরুণ হলেন রানা নায়ক (১৭), শ্রাবণ নায়েক (১৯), কৃষ্ণ রবিদাস (২০) ও নিপেন ফুলমালি (২৭)। তাঁরা সবাই হরিণছড়া চা বাগানের চা শ্রমিক পরিবারের সন্তান। গুরুতর অসুস্থ রবি বুনার্জী (২০) নামের এক তরুণকে প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সব্যসাচী পাল তমাল জানান, রাত পৌনে ১টার দিকে প্রথমে চারটি মরদেহ হাসপাতালে আসে এবং পরে একজন আহত অবস্থায় ভর্তি হন। তাঁর ভাষায়, “এক রিঙের একটি সেপটিক ট্যাংকে এত পরিমাণ টক্সিক গ্যাস কীভাবে জমেছে, সেটি স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ রাত দেড়টার দিকে ঘটনাটি জানতে পারে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পংকজ কন্দ বলেন, “হরিণছড়া চা বাগানের এই চার তরুণের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। শুনেছি, একজনের মোবাইল ফোন পড়ে গেলে সেটি তুলতে গিয়ে একে একে চারজন ট্যাংকে নামে এবং সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে।”

তিনি আরও জানান, পরে রবি বুনার্জী নামের এক তরুণ ওই চারজনকে উদ্ধার করতে ট্যাংকে নামলে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সর্বশেষ জাস্টিন নামের আরেক তরুণ এসে রবি বুনার্জীকে দ্রুত উদ্ধার করলেও বাকি চারজনকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জাস্টিনও পরে শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এই দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঘটনাটিকে ‘চরম অসতর্কতা’ ও ‘বেদনাদায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

শ্রীমঙ্গলে সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষক্রিয়ায় ৪ তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হরিণছড়া চা বাগানে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে বিষক্রিয়ায় ৪ তরুণের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর অসুস্থ হন, যাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাশ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজনের মোবাইল ফোন সেপটিক ট্যাংকে পড়ে গেলে সেটি তুলতে গিয়ে একে একে চারজন ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিন্তু ট্যাংকের ভেতরের বিষাক্ত গ্যাসে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান।

আরও পড়ুন  শ্রীমঙ্গলে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

নিহত চার তরুণ হলেন রানা নায়ক (১৭), শ্রাবণ নায়েক (১৯), কৃষ্ণ রবিদাস (২০) ও নিপেন ফুলমালি (২৭)। তাঁরা সবাই হরিণছড়া চা বাগানের চা শ্রমিক পরিবারের সন্তান। গুরুতর অসুস্থ রবি বুনার্জী (২০) নামের এক তরুণকে প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সব্যসাচী পাল তমাল জানান, রাত পৌনে ১টার দিকে প্রথমে চারটি মরদেহ হাসপাতালে আসে এবং পরে একজন আহত অবস্থায় ভর্তি হন। তাঁর ভাষায়, “এক রিঙের একটি সেপটিক ট্যাংকে এত পরিমাণ টক্সিক গ্যাস কীভাবে জমেছে, সেটি স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ রাত দেড়টার দিকে ঘটনাটি জানতে পারে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পংকজ কন্দ বলেন, “হরিণছড়া চা বাগানের এই চার তরুণের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। শুনেছি, একজনের মোবাইল ফোন পড়ে গেলে সেটি তুলতে গিয়ে একে একে চারজন ট্যাংকে নামে এবং সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে।”

তিনি আরও জানান, পরে রবি বুনার্জী নামের এক তরুণ ওই চারজনকে উদ্ধার করতে ট্যাংকে নামলে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সর্বশেষ জাস্টিন নামের আরেক তরুণ এসে রবি বুনার্জীকে দ্রুত উদ্ধার করলেও বাকি চারজনকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জাস্টিনও পরে শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এই দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঘটনাটিকে ‘চরম অসতর্কতা’ ও ‘বেদনাদায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।