০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
‘বাংলাদেশের পাশে আছে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না দল: পাকিস্তান স্পিকার না থাকায় এমপিদের শপথ পড়াবেন কে, জেনে নিন বিশ্বে ৭২ শতাংশ মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানো মামলার রায় আজ দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হলেন জিয়াউল হক পলাশ ভোট কারচুপির ছক? জামায়াত নেতার নির্দেশে সিল তৈরি—মামলা ও বহিষ্কারে উত্তাল রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ভূগর্ভস্থ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান সৌদি লিগের ভেতরের টানাপোড়েন, ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’: গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের ভেতরে দ্বিমত যুব বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিদায়, ফয়সালের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি কীর্তি

শ্রীমঙ্গলে সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষক্রিয়ায় ৪ তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
  • / 404

ছবি সংগৃহীত

 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হরিণছড়া চা বাগানে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে বিষক্রিয়ায় ৪ তরুণের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর অসুস্থ হন, যাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাশ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজনের মোবাইল ফোন সেপটিক ট্যাংকে পড়ে গেলে সেটি তুলতে গিয়ে একে একে চারজন ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিন্তু ট্যাংকের ভেতরের বিষাক্ত গ্যাসে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান।

নিহত চার তরুণ হলেন রানা নায়ক (১৭), শ্রাবণ নায়েক (১৯), কৃষ্ণ রবিদাস (২০) ও নিপেন ফুলমালি (২৭)। তাঁরা সবাই হরিণছড়া চা বাগানের চা শ্রমিক পরিবারের সন্তান। গুরুতর অসুস্থ রবি বুনার্জী (২০) নামের এক তরুণকে প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সব্যসাচী পাল তমাল জানান, রাত পৌনে ১টার দিকে প্রথমে চারটি মরদেহ হাসপাতালে আসে এবং পরে একজন আহত অবস্থায় ভর্তি হন। তাঁর ভাষায়, “এক রিঙের একটি সেপটিক ট্যাংকে এত পরিমাণ টক্সিক গ্যাস কীভাবে জমেছে, সেটি স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ রাত দেড়টার দিকে ঘটনাটি জানতে পারে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পংকজ কন্দ বলেন, “হরিণছড়া চা বাগানের এই চার তরুণের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। শুনেছি, একজনের মোবাইল ফোন পড়ে গেলে সেটি তুলতে গিয়ে একে একে চারজন ট্যাংকে নামে এবং সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে।”

তিনি আরও জানান, পরে রবি বুনার্জী নামের এক তরুণ ওই চারজনকে উদ্ধার করতে ট্যাংকে নামলে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সর্বশেষ জাস্টিন নামের আরেক তরুণ এসে রবি বুনার্জীকে দ্রুত উদ্ধার করলেও বাকি চারজনকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জাস্টিনও পরে শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এই দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঘটনাটিকে ‘চরম অসতর্কতা’ ও ‘বেদনাদায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

শ্রীমঙ্গলে সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষক্রিয়ায় ৪ তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হরিণছড়া চা বাগানে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে বিষক্রিয়ায় ৪ তরুণের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর অসুস্থ হন, যাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাশ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজনের মোবাইল ফোন সেপটিক ট্যাংকে পড়ে গেলে সেটি তুলতে গিয়ে একে একে চারজন ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিন্তু ট্যাংকের ভেতরের বিষাক্ত গ্যাসে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান।

নিহত চার তরুণ হলেন রানা নায়ক (১৭), শ্রাবণ নায়েক (১৯), কৃষ্ণ রবিদাস (২০) ও নিপেন ফুলমালি (২৭)। তাঁরা সবাই হরিণছড়া চা বাগানের চা শ্রমিক পরিবারের সন্তান। গুরুতর অসুস্থ রবি বুনার্জী (২০) নামের এক তরুণকে প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সব্যসাচী পাল তমাল জানান, রাত পৌনে ১টার দিকে প্রথমে চারটি মরদেহ হাসপাতালে আসে এবং পরে একজন আহত অবস্থায় ভর্তি হন। তাঁর ভাষায়, “এক রিঙের একটি সেপটিক ট্যাংকে এত পরিমাণ টক্সিক গ্যাস কীভাবে জমেছে, সেটি স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ রাত দেড়টার দিকে ঘটনাটি জানতে পারে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পংকজ কন্দ বলেন, “হরিণছড়া চা বাগানের এই চার তরুণের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। শুনেছি, একজনের মোবাইল ফোন পড়ে গেলে সেটি তুলতে গিয়ে একে একে চারজন ট্যাংকে নামে এবং সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে।”

তিনি আরও জানান, পরে রবি বুনার্জী নামের এক তরুণ ওই চারজনকে উদ্ধার করতে ট্যাংকে নামলে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সর্বশেষ জাস্টিন নামের আরেক তরুণ এসে রবি বুনার্জীকে দ্রুত উদ্ধার করলেও বাকি চারজনকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জাস্টিনও পরে শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এই দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঘটনাটিকে ‘চরম অসতর্কতা’ ও ‘বেদনাদায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।