০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
‘বাংলাদেশের পাশে আছে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না দল: পাকিস্তান স্পিকার না থাকায় এমপিদের শপথ পড়াবেন কে, জেনে নিন বিশ্বে ৭২ শতাংশ মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানো মামলার রায় আজ দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হলেন জিয়াউল হক পলাশ ভোট কারচুপির ছক? জামায়াত নেতার নির্দেশে সিল তৈরি—মামলা ও বহিষ্কারে উত্তাল রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ভূগর্ভস্থ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান সৌদি লিগের ভেতরের টানাপোড়েন, ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’: গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের ভেতরে দ্বিমত যুব বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিদায়, ফয়সালের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি কীর্তি

পরিবেশই নয়, অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যও টিকিয়ে রাখতে বন নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি: রিজওয়ানা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:১৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
  • / 137

ছবি সংগৃহীত

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, বরং অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। তাই এই সম্পদ সঠিক ব্যবস্থাপনায় সব পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি বলে তিনি মত দেন।

শনিবার (২৮ জুন) রাজধানীর বন অধিদপ্তরে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বনকে শুধু কার্বন ক্রেডিটের বিনিময়মূল্য হিসেবে না দেখে অক্সিজেনের উৎস এবং জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। উন্নত দেশগুলো যদি শুধু কার্বন ক্রেডিট কিনে, তাতে তাদের নির্গমন কার্যকরভাবে কমবে না। তাই ডিগ্রেডেড বন পুনরুদ্ধার, কমিউনিটি-ভিত্তিক অংশগ্রহণ এবং বাস্তবসম্মত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করার ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং সুফল প্রকল্পের সঠিক যাচাই বা ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করতে হবে।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, জাতীয় বন জরিপের দ্বিতীয় চক্রের তথ্য বনসম্পদ সম্পর্কিত একটি শক্তিশালী তথ্যভাণ্ডার গঠনে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে বনভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ভূপ্রকৃতি, ভূমি ব্যবহার ও প্রাকৃতিক সম্পদের মানচিত্র এবং সমন্বিত বন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা আমাদের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অগ্রগতি নিশ্চিত করবে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে এর কার্যকারিতা বাড়াতে থার্ড পার্টি বিশ্লেষণ, অনলাইন ও প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং এবং প্রতি পাঁচ বছর অন্তর তথ্য হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর না থেকে নিজেদের অর্থায়নেই এই ধরনের জরিপ ও তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যেতে হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বাংলাদেশে এফএও প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং সিইজিআইএস-এর নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান।

এতে বন অধিদপ্তর, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পরিবেশই নয়, অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যও টিকিয়ে রাখতে বন নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি: রিজওয়ানা

আপডেট সময় ০৮:১৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, বরং অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। তাই এই সম্পদ সঠিক ব্যবস্থাপনায় সব পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি বলে তিনি মত দেন।

শনিবার (২৮ জুন) রাজধানীর বন অধিদপ্তরে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বনকে শুধু কার্বন ক্রেডিটের বিনিময়মূল্য হিসেবে না দেখে অক্সিজেনের উৎস এবং জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। উন্নত দেশগুলো যদি শুধু কার্বন ক্রেডিট কিনে, তাতে তাদের নির্গমন কার্যকরভাবে কমবে না। তাই ডিগ্রেডেড বন পুনরুদ্ধার, কমিউনিটি-ভিত্তিক অংশগ্রহণ এবং বাস্তবসম্মত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করার ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং সুফল প্রকল্পের সঠিক যাচাই বা ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করতে হবে।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, জাতীয় বন জরিপের দ্বিতীয় চক্রের তথ্য বনসম্পদ সম্পর্কিত একটি শক্তিশালী তথ্যভাণ্ডার গঠনে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে বনভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ভূপ্রকৃতি, ভূমি ব্যবহার ও প্রাকৃতিক সম্পদের মানচিত্র এবং সমন্বিত বন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা আমাদের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অগ্রগতি নিশ্চিত করবে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে এর কার্যকারিতা বাড়াতে থার্ড পার্টি বিশ্লেষণ, অনলাইন ও প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং এবং প্রতি পাঁচ বছর অন্তর তথ্য হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর না থেকে নিজেদের অর্থায়নেই এই ধরনের জরিপ ও তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যেতে হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বাংলাদেশে এফএও প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং সিইজিআইএস-এর নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান।

এতে বন অধিদপ্তর, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।