ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে

গা/জা/য় ইসরায়েলের বর্বর হামলায় নিহত অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫
  • / 397

ছবি সংগৃহীত

 

ইসরায়েলি বাহিনীর দফায় দফায় হামলায় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। শনিবার (২৪ মে) দিনভর চালানো বোমা হামলায় অন্তত ৫২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা, যা ফিলিস্তিনের ওয়াফা বার্তা সংস্থার বরাতে নিশ্চিত করেছে।

এর আগের দিন, শুক্রবার (২৩ মে) গাজাজুড়ে অন্তত ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এসব হামলায় ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত টানেল, অবকাঠামো ও অন্যান্য স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে দুই দিনের হামলায় ৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন  গাজা পুনর্গঠনে মিশরের প্রস্তাব গ্রহণ করল আরব দেশগুলো, ট্রাম্পের পরিকল্পনায় অনড় যুক্তরাষ্ট্র

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে গাজার খান ইউনিসে, যেখানে এক নারী চিকিৎসকের বাড়িতে ইসরায়েলের সরাসরি বিমান হামলায় তার ১০ সন্তানের মধ্যে ৯ জনই নিহত হন। গুরুতর আহত হন তার স্বামী ও অপর এক সন্তান। নিহত চিকিৎসকের নাম আলা আল-নাজার, যিনি নাসের হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।

ব্রিটিশ চিকিৎসক গ্রাহাম গ্রুম বিবিসিকে জানান, তিনি ওই নারী চিকিৎসকের ১১ বছর বয়সী একমাত্র জীবিত সন্তানের অস্ত্রোপচার করেছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পুড়ে যাওয়া শিশুদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. মুনির আলবোরস জানিয়েছেন, আলা আল-নাজারের স্বামী তাকে হাসপাতালে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক তখনই ভয়াবহ হামলা চালায় দখলদার বাহিনী। জানা গেছে, এই পরিবারটি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন না।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় চলমান আগ্রাসনের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনি হত্যার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩৮ জনে, যাদের মধ্যে ১৯৮ জন শিশু। চলতি বছরেই পশ্চিম তীরে নিহত হয়েছেন ১৩২ জন ফিলিস্তিনি, যার মধ্যে ২৫ জন শিশু।

ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে পশ্চিম তীরের নুর শামস, তুলকারেম এবং জেনিন শরণার্থী শিবির থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৪২ হাজার ফিলিস্তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

গা/জা/য় ইসরায়েলের বর্বর হামলায় নিহত অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি

আপডেট সময় ১২:৫২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

 

ইসরায়েলি বাহিনীর দফায় দফায় হামলায় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। শনিবার (২৪ মে) দিনভর চালানো বোমা হামলায় অন্তত ৫২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা, যা ফিলিস্তিনের ওয়াফা বার্তা সংস্থার বরাতে নিশ্চিত করেছে।

এর আগের দিন, শুক্রবার (২৩ মে) গাজাজুড়ে অন্তত ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এসব হামলায় ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত টানেল, অবকাঠামো ও অন্যান্য স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে দুই দিনের হামলায় ৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন  গাজায় ভয়াবহ হামলা, শহর ছাড়ছে হাজারো মানুষ

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে গাজার খান ইউনিসে, যেখানে এক নারী চিকিৎসকের বাড়িতে ইসরায়েলের সরাসরি বিমান হামলায় তার ১০ সন্তানের মধ্যে ৯ জনই নিহত হন। গুরুতর আহত হন তার স্বামী ও অপর এক সন্তান। নিহত চিকিৎসকের নাম আলা আল-নাজার, যিনি নাসের হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।

ব্রিটিশ চিকিৎসক গ্রাহাম গ্রুম বিবিসিকে জানান, তিনি ওই নারী চিকিৎসকের ১১ বছর বয়সী একমাত্র জীবিত সন্তানের অস্ত্রোপচার করেছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পুড়ে যাওয়া শিশুদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. মুনির আলবোরস জানিয়েছেন, আলা আল-নাজারের স্বামী তাকে হাসপাতালে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক তখনই ভয়াবহ হামলা চালায় দখলদার বাহিনী। জানা গেছে, এই পরিবারটি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন না।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় চলমান আগ্রাসনের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনি হত্যার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩৮ জনে, যাদের মধ্যে ১৯৮ জন শিশু। চলতি বছরেই পশ্চিম তীরে নিহত হয়েছেন ১৩২ জন ফিলিস্তিনি, যার মধ্যে ২৫ জন শিশু।

ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে পশ্চিম তীরের নুর শামস, তুলকারেম এবং জেনিন শরণার্থী শিবির থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৪২ হাজার ফিলিস্তিনি।