ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সংসদ থেকে বিরোধী দলের আবারও ওয়াকআউট: ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বড় নিয়োগ, আবেদন শেষ ১০ এপ্রিল পুলিশে ২৭০৩ কনস্টেবল নিয়োগ: জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৩ হাজারের বেশি পাম্পে তেল নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে আহত ৩ সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা: দেশবাসীকে সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রুট ঘোষণা; অমান্য করলেই ধ্বংসের হুঁশিয়ারি চোখের নিচের কালো দাগ: নিছক দাগ নাকি বড় কোনো রোগের সংকেত সেন্ট লুসিয়া প্রকৃতি, পাহাড় আর সমুদ্রের মোহনীয় দ্বীপ গৌরনদীতে ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ল ট্রাক

আবারও রোমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা, সমঝোতায় অনিশ্চয়তা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
  • / 223

ছবি সংগৃহীত

 

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে বহুদিনের বিরোধ মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা ফের আলোচনায় বসেছেন। গতকাল শুক্রবার ইতালির রোমে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা মধ্যস্থতা করছে ওমান। খবর সিএনএন ও এবিসি নিউজের।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এটি ছিল পঞ্চম দফা আলোচনা।

আরও পড়ুন  ইরানে নতুন কোনো মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন ল্যাভরভ

তবে, আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বিরোধপূর্ণ শর্ত’ থাকায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, তারা এমন একটি চুক্তি চান যেখানে ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না। তার ভাষায়, “এটা সহজ হবে না।”

দুই পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী হলেও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন না করুক, যা গোটা অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান চায় তাদের তেলনির্ভর অর্থনীতির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক।

তেহরান জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কিছু সীমাবদ্ধতা মানতে প্রস্তুত, তবে ওয়াশিংটনকে পরিষ্কারভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি থেকে তারা একতরফাভাবে সরে আসবে না। এর পেছনে রয়েছে অতীতের অভিজ্ঞতা। ২০১৫ সালে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির সঙ্গে তেহরান যে পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছেছিল, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তা থেকে সরে দাঁড়ায় এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। এরপর থেকেই তেহরান পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম জোরদার করে।

সব মিলিয়ে, রোমে অনুষ্ঠিত এই সর্বশেষ আলোচনাকেও ঘিরে রয়েছে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা। দুই দেশের অবস্থান যতক্ষণ না কাছাকাছি আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আবারও রোমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা, সমঝোতায় অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় ১০:২২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

 

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে বহুদিনের বিরোধ মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা ফের আলোচনায় বসেছেন। গতকাল শুক্রবার ইতালির রোমে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা মধ্যস্থতা করছে ওমান। খবর সিএনএন ও এবিসি নিউজের।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এটি ছিল পঞ্চম দফা আলোচনা।

আরও পড়ুন  ইরান–যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের আগে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা, সতর্কবার্তা জার্মানির

তবে, আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বিরোধপূর্ণ শর্ত’ থাকায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, তারা এমন একটি চুক্তি চান যেখানে ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না। তার ভাষায়, “এটা সহজ হবে না।”

দুই পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী হলেও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন না করুক, যা গোটা অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান চায় তাদের তেলনির্ভর অর্থনীতির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক।

তেহরান জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কিছু সীমাবদ্ধতা মানতে প্রস্তুত, তবে ওয়াশিংটনকে পরিষ্কারভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি থেকে তারা একতরফাভাবে সরে আসবে না। এর পেছনে রয়েছে অতীতের অভিজ্ঞতা। ২০১৫ সালে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির সঙ্গে তেহরান যে পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছেছিল, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তা থেকে সরে দাঁড়ায় এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। এরপর থেকেই তেহরান পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম জোরদার করে।

সব মিলিয়ে, রোমে অনুষ্ঠিত এই সর্বশেষ আলোচনাকেও ঘিরে রয়েছে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা। দুই দেশের অবস্থান যতক্ষণ না কাছাকাছি আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।