ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

আবারও রোমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা, সমঝোতায় অনিশ্চয়তা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
  • / 333

ছবি সংগৃহীত

 

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে বহুদিনের বিরোধ মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা ফের আলোচনায় বসেছেন। গতকাল শুক্রবার ইতালির রোমে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা মধ্যস্থতা করছে ওমান। খবর সিএনএন ও এবিসি নিউজের।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এটি ছিল পঞ্চম দফা আলোচনা।

আরও পড়ুন  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র গঠনমূলক আলোচনা করবে, আশা ইসহাক দারের

তবে, আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বিরোধপূর্ণ শর্ত’ থাকায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, তারা এমন একটি চুক্তি চান যেখানে ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না। তার ভাষায়, “এটা সহজ হবে না।”

দুই পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী হলেও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন না করুক, যা গোটা অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান চায় তাদের তেলনির্ভর অর্থনীতির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক।

তেহরান জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কিছু সীমাবদ্ধতা মানতে প্রস্তুত, তবে ওয়াশিংটনকে পরিষ্কারভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি থেকে তারা একতরফাভাবে সরে আসবে না। এর পেছনে রয়েছে অতীতের অভিজ্ঞতা। ২০১৫ সালে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির সঙ্গে তেহরান যে পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছেছিল, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তা থেকে সরে দাঁড়ায় এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। এরপর থেকেই তেহরান পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম জোরদার করে।

সব মিলিয়ে, রোমে অনুষ্ঠিত এই সর্বশেষ আলোচনাকেও ঘিরে রয়েছে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা। দুই দেশের অবস্থান যতক্ষণ না কাছাকাছি আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আবারও রোমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা, সমঝোতায় অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় ১০:২২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

 

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে বহুদিনের বিরোধ মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা ফের আলোচনায় বসেছেন। গতকাল শুক্রবার ইতালির রোমে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা মধ্যস্থতা করছে ওমান। খবর সিএনএন ও এবিসি নিউজের।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এটি ছিল পঞ্চম দফা আলোচনা।

আরও পড়ুন  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র গঠনমূলক আলোচনা করবে, আশা ইসহাক দারের

তবে, আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বিরোধপূর্ণ শর্ত’ থাকায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, তারা এমন একটি চুক্তি চান যেখানে ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না। তার ভাষায়, “এটা সহজ হবে না।”

দুই পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী হলেও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন না করুক, যা গোটা অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান চায় তাদের তেলনির্ভর অর্থনীতির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক।

তেহরান জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কিছু সীমাবদ্ধতা মানতে প্রস্তুত, তবে ওয়াশিংটনকে পরিষ্কারভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি থেকে তারা একতরফাভাবে সরে আসবে না। এর পেছনে রয়েছে অতীতের অভিজ্ঞতা। ২০১৫ সালে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির সঙ্গে তেহরান যে পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছেছিল, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তা থেকে সরে দাঁড়ায় এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। এরপর থেকেই তেহরান পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম জোরদার করে।

সব মিলিয়ে, রোমে অনুষ্ঠিত এই সর্বশেষ আলোচনাকেও ঘিরে রয়েছে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা। দুই দেশের অবস্থান যতক্ষণ না কাছাকাছি আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।