ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করল যুক্তরাজ্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
  • / 171

ছবি সংগৃহীত

 

গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ মে) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্সে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ২০৩০ সালের দ্বিপাক্ষিক রোডম্যাপের আওতায় থাকা সহযোগিতার বিষয়গুলোও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

ডেভিড ল্যামি বলেন, নেতানিয়াহুর সরকারের কর্মকাণ্ড যুক্তরাজ্যকে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে ব্রিটিশ ফরেন অফিসে তলব করে জানানো হয়েছে—গাজায় ত্রাণ সহায়তা পাঠানো ঠেকানোর জন্য যে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন  শুধু জন্মগত নারীরাই প্রকৃত নারী, রূপান্তরিতরা নয়: যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের রায়

তিনি বলেন, “মঙ্গলবার গাজায় মাত্র ১০টিরও কম ত্রাণবাহী ট্রাক ঢুকতে দেওয়া হয়েছে—এটা একটি ভয়াবহ মানবিক অপরাধ।” ল্যামির ভাষায়, গাজায় চলমান সংঘাত ‘অন্ধকারের একটি নতুন ধাপে’ প্রবেশ করেছে।

এদিন তিনি আরও জানান, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন ব্যক্তি ও চার প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ল্যামি বলেন, “ইসরায়েলি জনগণকে আমরা জানাতে চাই, গাজার যুদ্ধ পরিস্থিতি ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে সংকটে ফেলছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহুর সরকার ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই অবরোধ এখনই তুলে নেওয়া হোক এবং জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে দেওয়া হোক। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি আমাদের আহ্বান—এই অমানবিক পদক্ষেপ বন্ধ করুন।”

যুক্তরাজ্যের এ অবস্থানের জবাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুখপাত্র ওরেন মারমোরস্টেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “বাইরের কোনো চাপ ইসরায়েলকে তার নিরাপত্তা রক্ষার পথ থেকে সরে যেতে বাধ্য করতে পারবে না।”

তিনি দাবি করেন, ডেভিড ল্যামির ঘোষণার আগেই আলোচনাটি প্রায় স্থবির অবস্থায় ছিল। যুক্তরাজ্য যদি ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব বা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে নিজেদের অর্থনীতির ক্ষতি করতে চায়, সেটা সম্পূর্ণ তাদের বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করল যুক্তরাজ্য

আপডেট সময় ১০:৩৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

 

গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ মে) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্সে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ২০৩০ সালের দ্বিপাক্ষিক রোডম্যাপের আওতায় থাকা সহযোগিতার বিষয়গুলোও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

ডেভিড ল্যামি বলেন, নেতানিয়াহুর সরকারের কর্মকাণ্ড যুক্তরাজ্যকে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে ব্রিটিশ ফরেন অফিসে তলব করে জানানো হয়েছে—গাজায় ত্রাণ সহায়তা পাঠানো ঠেকানোর জন্য যে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন  গাজার ত্রাণকেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭

তিনি বলেন, “মঙ্গলবার গাজায় মাত্র ১০টিরও কম ত্রাণবাহী ট্রাক ঢুকতে দেওয়া হয়েছে—এটা একটি ভয়াবহ মানবিক অপরাধ।” ল্যামির ভাষায়, গাজায় চলমান সংঘাত ‘অন্ধকারের একটি নতুন ধাপে’ প্রবেশ করেছে।

এদিন তিনি আরও জানান, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন ব্যক্তি ও চার প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ল্যামি বলেন, “ইসরায়েলি জনগণকে আমরা জানাতে চাই, গাজার যুদ্ধ পরিস্থিতি ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে সংকটে ফেলছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহুর সরকার ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই অবরোধ এখনই তুলে নেওয়া হোক এবং জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে দেওয়া হোক। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি আমাদের আহ্বান—এই অমানবিক পদক্ষেপ বন্ধ করুন।”

যুক্তরাজ্যের এ অবস্থানের জবাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুখপাত্র ওরেন মারমোরস্টেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “বাইরের কোনো চাপ ইসরায়েলকে তার নিরাপত্তা রক্ষার পথ থেকে সরে যেতে বাধ্য করতে পারবে না।”

তিনি দাবি করেন, ডেভিড ল্যামির ঘোষণার আগেই আলোচনাটি প্রায় স্থবির অবস্থায় ছিল। যুক্তরাজ্য যদি ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব বা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে নিজেদের অর্থনীতির ক্ষতি করতে চায়, সেটা সম্পূর্ণ তাদের বিষয়।