ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান

সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তিতে নতুন বিধান, ২৫ দিন বরখাস্তের নির্দেশনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:২২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
  • / 417

ছবি সংগৃহীত

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর চাপে পড়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এরপর থেকেই সচিবালয়সহ নানা সরকারি দপ্তরে দেখা দেয় অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সুশৃঙ্খলতা ফিরিয়ে আনতে ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সংশোধিত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ২০ মাস নিখোঁজ বেবিচকের সেই সহকারী পরিচালক বরখাস্ত

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠলে, অভিযোগ গঠনের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ কার্যদিবসের মধ্যেই সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ, আগের মতো দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নির্ধারণের পদ্ধতির পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সংশোধিত আইন কার্যকর হলে শুধু বিশৃঙ্খলা রোধ নয়, বরং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত নৈতিকতা বাড়বে। একইসঙ্গে প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং সরকারি সেবাদানে গতি আসবে।

এ বিষয়ে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “প্রশাসনের ভিতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে বা অরাজকতা সৃষ্টি করলে, তাকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এই আইন সরকারি কর্মচারীদের সতর্ক রাখবে এবং জনসেবার মান উন্নত করবে।”

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অতীতে দীর্ঘসূত্রতা ও অস্পষ্ট শাস্তির বিধান থাকায় অনেক অপরাধ অদৃশ্য থেকে যেত বা ধামাচাপা পড়ে যেত। এবার তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। নতুন এই আইন বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনে নতুন করে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তিতে নতুন বিধান, ২৫ দিন বরখাস্তের নির্দেশনা

আপডেট সময় ০৪:২২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর চাপে পড়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এরপর থেকেই সচিবালয়সহ নানা সরকারি দপ্তরে দেখা দেয় অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সুশৃঙ্খলতা ফিরিয়ে আনতে ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সংশোধিত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  কারা অধিদপ্তরে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কঠোর শাস্তি: চাকরিচ্যুত ১২, বরখাস্ত ৮৪ কর্মকর্তা

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠলে, অভিযোগ গঠনের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ কার্যদিবসের মধ্যেই সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ, আগের মতো দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নির্ধারণের পদ্ধতির পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সংশোধিত আইন কার্যকর হলে শুধু বিশৃঙ্খলা রোধ নয়, বরং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত নৈতিকতা বাড়বে। একইসঙ্গে প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং সরকারি সেবাদানে গতি আসবে।

এ বিষয়ে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “প্রশাসনের ভিতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে বা অরাজকতা সৃষ্টি করলে, তাকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এই আইন সরকারি কর্মচারীদের সতর্ক রাখবে এবং জনসেবার মান উন্নত করবে।”

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অতীতে দীর্ঘসূত্রতা ও অস্পষ্ট শাস্তির বিধান থাকায় অনেক অপরাধ অদৃশ্য থেকে যেত বা ধামাচাপা পড়ে যেত। এবার তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। নতুন এই আইন বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনে নতুন করে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।