ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তিতে নতুন বিধান, ২৫ দিন বরখাস্তের নির্দেশনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:২২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
  • / 306

ছবি সংগৃহীত

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর চাপে পড়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এরপর থেকেই সচিবালয়সহ নানা সরকারি দপ্তরে দেখা দেয় অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সুশৃঙ্খলতা ফিরিয়ে আনতে ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সংশোধিত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনসহ পুলিশের ১৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠলে, অভিযোগ গঠনের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ কার্যদিবসের মধ্যেই সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ, আগের মতো দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নির্ধারণের পদ্ধতির পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সংশোধিত আইন কার্যকর হলে শুধু বিশৃঙ্খলা রোধ নয়, বরং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত নৈতিকতা বাড়বে। একইসঙ্গে প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং সরকারি সেবাদানে গতি আসবে।

এ বিষয়ে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “প্রশাসনের ভিতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে বা অরাজকতা সৃষ্টি করলে, তাকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এই আইন সরকারি কর্মচারীদের সতর্ক রাখবে এবং জনসেবার মান উন্নত করবে।”

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অতীতে দীর্ঘসূত্রতা ও অস্পষ্ট শাস্তির বিধান থাকায় অনেক অপরাধ অদৃশ্য থেকে যেত বা ধামাচাপা পড়ে যেত। এবার তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। নতুন এই আইন বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনে নতুন করে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তিতে নতুন বিধান, ২৫ দিন বরখাস্তের নির্দেশনা

আপডেট সময় ০৪:২২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর চাপে পড়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এরপর থেকেই সচিবালয়সহ নানা সরকারি দপ্তরে দেখা দেয় অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সুশৃঙ্খলতা ফিরিয়ে আনতে ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সংশোধিত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. জাকির হোসেন বরখাস্ত

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠলে, অভিযোগ গঠনের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ কার্যদিবসের মধ্যেই সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ, আগের মতো দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নির্ধারণের পদ্ধতির পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সংশোধিত আইন কার্যকর হলে শুধু বিশৃঙ্খলা রোধ নয়, বরং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত নৈতিকতা বাড়বে। একইসঙ্গে প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং সরকারি সেবাদানে গতি আসবে।

এ বিষয়ে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “প্রশাসনের ভিতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে বা অরাজকতা সৃষ্টি করলে, তাকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এই আইন সরকারি কর্মচারীদের সতর্ক রাখবে এবং জনসেবার মান উন্নত করবে।”

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অতীতে দীর্ঘসূত্রতা ও অস্পষ্ট শাস্তির বিধান থাকায় অনেক অপরাধ অদৃশ্য থেকে যেত বা ধামাচাপা পড়ে যেত। এবার তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। নতুন এই আইন বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনে নতুন করে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।