ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
আফগানিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিপাকে জিম্বাবুয়ে সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের তালিকা করবে গোয়েন্দা সংস্থা: আইজিপি পদত্যাগের পর হাসিমুখে পূজামণ্ডপে ইশরাক সৌদি আরবে নিহত নুরুল হকের পরিবার পেলেন ক্ষতিপূরণ বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

মুন্সীগঞ্জে সালিসে ত্রৈমূর্ত হত্যাকাণ্ড: তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, পাঁচজনের যাবজ্জীবন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০৩:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫
  • / 706

ছবি সংগৃহীত

 

চার বছর আগে মুন্সীগঞ্জে সালিস বৈঠকে তিনজনকে হত্যা করার ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক মো. মাসুদ করিম আজ বৃহস্পতিবার আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সৌরভ প্রধান, রনি বেপারী ও শিহাব প্রধান। এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন শাকিব প্রধান, শামীম প্রধান, অনিক বেপারী, রায়হান ও ছোট জাহাঙ্গীর।

আরও পড়ুন  টাঙ্গাইলে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্ব পালন করা স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (এসপিপি) মো. বিল্লাল হোসেন জানান, দণ্ডিত শিহাব, শাকিব ও শামীম প্রধান আপন ভাই।

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৪ মার্চ বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় দুই দল কিশোর-তরুণের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার মীমাংসা করতে সেদিন রাতেই স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

কিন্তু সেই সালিসই রূপ নেয় ভয়াবহ রক্তাক্ত সংঘর্ষে। সালিস চলাকালীন সময়ে আসামি সৌরভ, শিহাব ও শামীম প্রধান ছুরিকাঘাত করে তিনজনকে হত্যা করে। নিহতরা হলেন—ইমন হোসেন (২২), সাকিব হোসেন (১৯) ও মিন্টু প্রধান (৪০)।

পরদিন নিহত মিন্টু প্রধানের স্ত্রী খালেদা আক্তার বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। বিচারকাজ শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন ট্রাইব্যুনাল আদালত আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং বাকিদের খালাস দেন।

রায়ের পর বিচার সংশ্লিষ্টরা জানান, সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক সাজা অত্যন্ত জরুরি। হত্যার মতো নৃশংস অপরাধে কঠোর শাস্তি অপরাধপ্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন আইনজীবীরা।

মুন্সীগঞ্জের আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় ছিল। শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাওয়া নিহতদের পরিবারের কাছে কিছুটা হলেও স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলো আজকের রায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

মুন্সীগঞ্জে সালিসে ত্রৈমূর্ত হত্যাকাণ্ড: তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, পাঁচজনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০৫:০৩:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫

 

চার বছর আগে মুন্সীগঞ্জে সালিস বৈঠকে তিনজনকে হত্যা করার ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক মো. মাসুদ করিম আজ বৃহস্পতিবার আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সৌরভ প্রধান, রনি বেপারী ও শিহাব প্রধান। এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন শাকিব প্রধান, শামীম প্রধান, অনিক বেপারী, রায়হান ও ছোট জাহাঙ্গীর।

আরও পড়ুন  ছোট ভাইয়ের হামলায় বড় ভাই খুন; ছেলে হাসপাতালে

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্ব পালন করা স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (এসপিপি) মো. বিল্লাল হোসেন জানান, দণ্ডিত শিহাব, শাকিব ও শামীম প্রধান আপন ভাই।

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৪ মার্চ বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় দুই দল কিশোর-তরুণের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার মীমাংসা করতে সেদিন রাতেই স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

কিন্তু সেই সালিসই রূপ নেয় ভয়াবহ রক্তাক্ত সংঘর্ষে। সালিস চলাকালীন সময়ে আসামি সৌরভ, শিহাব ও শামীম প্রধান ছুরিকাঘাত করে তিনজনকে হত্যা করে। নিহতরা হলেন—ইমন হোসেন (২২), সাকিব হোসেন (১৯) ও মিন্টু প্রধান (৪০)।

পরদিন নিহত মিন্টু প্রধানের স্ত্রী খালেদা আক্তার বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। বিচারকাজ শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন ট্রাইব্যুনাল আদালত আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং বাকিদের খালাস দেন।

রায়ের পর বিচার সংশ্লিষ্টরা জানান, সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক সাজা অত্যন্ত জরুরি। হত্যার মতো নৃশংস অপরাধে কঠোর শাস্তি অপরাধপ্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন আইনজীবীরা।

মুন্সীগঞ্জের আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় ছিল। শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাওয়া নিহতদের পরিবারের কাছে কিছুটা হলেও স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলো আজকের রায়।