০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
‘বাংলাদেশের পাশে আছে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না দল: পাকিস্তান স্পিকার না থাকায় এমপিদের শপথ পড়াবেন কে, জেনে নিন বিশ্বে ৭২ শতাংশ মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানো মামলার রায় আজ দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হলেন জিয়াউল হক পলাশ ভোট কারচুপির ছক? জামায়াত নেতার নির্দেশে সিল তৈরি—মামলা ও বহিষ্কারে উত্তাল রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ভূগর্ভস্থ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান সৌদি লিগের ভেতরের টানাপোড়েন, ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’: গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের ভেতরে দ্বিমত যুব বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিদায়, ফয়সালের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি কীর্তি

গাজা ইস্যুতে উত্তপ্ত বৈঠক: নেতানিয়াহুর সামনে বাকবিতণ্ডায় জড়ালেন বেন গভির ও আইডিএফ প্রধান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
  • / 104

ছবি সংগৃহীত

 

ইসরাইলের গাজা উপত্যকায় হামলা জোরদার করার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমোদন নিয়ে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। এই ইস্যুতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

সোমবার (৫ মে) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সভাপতিত্বে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উগ্র-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গভির দাবি করেন, গাজায় সহায়তা পাঠানোর কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ সেখানে পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে। বরং হামাসের খাদ্য গুদামে হামলা চালানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানান আইডিএফ প্রধান ইয়াল জামির। তিনি বলেন, “আপনি আসলে কী বলেছেন তা হয়তো নিজেই বুঝতে পারছেন না। এই ধরনের বক্তব্য আমাদের সবাইকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে, এবং আমরা তা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উপত্যকাটিকে অনাহারে রাখা যাবে না, এটি বিপজ্জনক।”

জবাবে বেন গভির বলেন, “যারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তারা কেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাহায্য পাবে? আন্তর্জাতিক আইনে এর কোথাও উল্লেখ আছে কি?”

বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, “প্রত্যেক মন্ত্রীর নিজস্ব মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিমত করাও সম্ভব। তবে কোনো মন্ত্রী আইনের বাইরে মন্তব্য করলে, আইনটি ব্যাখ্যা করা অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব।”

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারভ-মিয়ারা স্পষ্ট করে বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরাইল গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে বাধ্য।”

টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, মন্ত্রিসভা গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। তবে ইয়াল জামির সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপ গাজায় আটক জিম্মিদের জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

একইসঙ্গে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের একটি পরিকল্পনাও অনুমোদন পেয়েছে। তবে ইসরাইলি বাহিনী নিশ্চিত করবে যে, মানবিক সহায়তা তদারকির দায়িত্ব হামাস সংশ্লিষ্ট কেউ না পায়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজা ইস্যুতে উত্তপ্ত বৈঠক: নেতানিয়াহুর সামনে বাকবিতণ্ডায় জড়ালেন বেন গভির ও আইডিএফ প্রধান

আপডেট সময় ০২:৩০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

 

ইসরাইলের গাজা উপত্যকায় হামলা জোরদার করার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমোদন নিয়ে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। এই ইস্যুতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

সোমবার (৫ মে) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সভাপতিত্বে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উগ্র-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গভির দাবি করেন, গাজায় সহায়তা পাঠানোর কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ সেখানে পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে। বরং হামাসের খাদ্য গুদামে হামলা চালানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানান আইডিএফ প্রধান ইয়াল জামির। তিনি বলেন, “আপনি আসলে কী বলেছেন তা হয়তো নিজেই বুঝতে পারছেন না। এই ধরনের বক্তব্য আমাদের সবাইকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে, এবং আমরা তা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উপত্যকাটিকে অনাহারে রাখা যাবে না, এটি বিপজ্জনক।”

জবাবে বেন গভির বলেন, “যারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তারা কেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাহায্য পাবে? আন্তর্জাতিক আইনে এর কোথাও উল্লেখ আছে কি?”

বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, “প্রত্যেক মন্ত্রীর নিজস্ব মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিমত করাও সম্ভব। তবে কোনো মন্ত্রী আইনের বাইরে মন্তব্য করলে, আইনটি ব্যাখ্যা করা অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব।”

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারভ-মিয়ারা স্পষ্ট করে বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরাইল গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে বাধ্য।”

টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, মন্ত্রিসভা গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। তবে ইয়াল জামির সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপ গাজায় আটক জিম্মিদের জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

একইসঙ্গে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের একটি পরিকল্পনাও অনুমোদন পেয়েছে। তবে ইসরাইলি বাহিনী নিশ্চিত করবে যে, মানবিক সহায়তা তদারকির দায়িত্ব হামাস সংশ্লিষ্ট কেউ না পায়।