ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বড় নিয়োগ, আবেদন শেষ ১০ এপ্রিল পুলিশে ২৭০৩ কনস্টেবল নিয়োগ: জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৩ হাজারের বেশি পাম্পে তেল নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে আহত ৩ সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা: দেশবাসীকে সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রুট ঘোষণা; অমান্য করলেই ধ্বংসের হুঁশিয়ারি চোখের নিচের কালো দাগ: নিছক দাগ নাকি বড় কোনো রোগের সংকেত সেন্ট লুসিয়া প্রকৃতি, পাহাড় আর সমুদ্রের মোহনীয় দ্বীপ গৌরনদীতে ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ল ট্রাক ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ: শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩

সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা: বিমা ও পেনশন ব্যবস্থার সুপারিশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫
  • / 186

ছবি সংগৃহীত

 

দেশের গণমাধ্যমে কর্মরত সব সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর জন্য ঝুঁকি ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পেনশন সুবিধা চালুর সুপারিশ করেছে শ্রম সংস্কার কমিশন। সম্প্রতি কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে, যেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে গণমাধ্যমকর্মীদের সংজ্ঞা পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান শ্রম আইনে শুধু ‘সংবাদপত্র শ্রমিক’ হিসেবে পরিচিত এই পেশাজীবীদের নতুনভাবে ‘গণমাধ্যম শ্রমিক বা কর্মী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় অনলাইন, রেডিও, টেলিভিশনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট গণমাধ্যমে নিয়োজিত সাংবাদিক ও কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন। বিশেষভাবে ক্যামেরার পেছনে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের ‘চিত্র সাংবাদিক’ হিসেবে চিহ্নিত করারও সুপারিশ রয়েছে।

আরও পড়ুন  দুদকের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত

গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি পৃথক আইন প্রণয়নের প্রস্তাবও তুলেছে কমিশন। ‘দ্য নিউজপেপার এমপ্লয়িজ (কন্ডিশন অব সার্ভিস) অ্যাক্ট ১৯৭৪’-এর অনুরূপভাবে একটি স্বতন্ত্র আইন অথবা শ্রম আইনে একটি আলাদা অধ্যায় যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে যাতে সব ধরনের সংবাদমাধ্যম কর্মীদের কর্মপরিবেশ, অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য নিয়োগপত্র প্রদান বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, নিয়মিত ছুটি এবং নারী সাংবাদিকদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাংবাদিকদের মাসিক বেতন নিয়মিত প্রদানের বিষয়ে কড়া নজরদারির জন্য প্রতিটি গণমাধ্যম মালিককে বেতন প্রদানের লিখিত প্রমাণপত্র প্রতি মাসে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের সার্বিক কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য ‘সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট’ পুনর্গঠনের সুপারিশ করেছে কমিশন। কমিশনের মতে, কাঠামোগত সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত করা হলে ট্রাস্ট প্রকৃতপক্ষে দেশের সব সাংবাদিকের জন্য কার্যকর সহায়ক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা: বিমা ও পেনশন ব্যবস্থার সুপারিশ

আপডেট সময় ১০:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫

 

দেশের গণমাধ্যমে কর্মরত সব সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর জন্য ঝুঁকি ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পেনশন সুবিধা চালুর সুপারিশ করেছে শ্রম সংস্কার কমিশন। সম্প্রতি কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে, যেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে গণমাধ্যমকর্মীদের সংজ্ঞা পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান শ্রম আইনে শুধু ‘সংবাদপত্র শ্রমিক’ হিসেবে পরিচিত এই পেশাজীবীদের নতুনভাবে ‘গণমাধ্যম শ্রমিক বা কর্মী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় অনলাইন, রেডিও, টেলিভিশনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট গণমাধ্যমে নিয়োজিত সাংবাদিক ও কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন। বিশেষভাবে ক্যামেরার পেছনে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের ‘চিত্র সাংবাদিক’ হিসেবে চিহ্নিত করারও সুপারিশ রয়েছে।

আরও পড়ুন  ‘ভুয়া সংবাদ’ অভিযোগে সাংবাদিকদের বরখাস্তের দাবি ট্রাম্পের

গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি পৃথক আইন প্রণয়নের প্রস্তাবও তুলেছে কমিশন। ‘দ্য নিউজপেপার এমপ্লয়িজ (কন্ডিশন অব সার্ভিস) অ্যাক্ট ১৯৭৪’-এর অনুরূপভাবে একটি স্বতন্ত্র আইন অথবা শ্রম আইনে একটি আলাদা অধ্যায় যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে যাতে সব ধরনের সংবাদমাধ্যম কর্মীদের কর্মপরিবেশ, অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য নিয়োগপত্র প্রদান বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, নিয়মিত ছুটি এবং নারী সাংবাদিকদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাংবাদিকদের মাসিক বেতন নিয়মিত প্রদানের বিষয়ে কড়া নজরদারির জন্য প্রতিটি গণমাধ্যম মালিককে বেতন প্রদানের লিখিত প্রমাণপত্র প্রতি মাসে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের সার্বিক কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য ‘সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট’ পুনর্গঠনের সুপারিশ করেছে কমিশন। কমিশনের মতে, কাঠামোগত সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত করা হলে ট্রাস্ট প্রকৃতপক্ষে দেশের সব সাংবাদিকের জন্য কার্যকর সহায়ক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারবে।