ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান

বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি’র তৎপরতায় রাজনীতিতে স্পষ্ট হচ্ছে তিনটি বলয়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 884

ছবি সংগৃহীত

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোন রোডম্যাপ এখানো ঘোষণা হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো ভোট নিয়ে নানা হিসেব নিকেষ শুরু করেছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ভোটের জোট করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

দৃশ্যমান হচ্ছে, ছোট ছোট দলগুলোকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি’র পৃথক পৃথক বলয় তৈরির তৎপরতা। আজ শনিবার ঢাকার বনানীতে বিএনপির আহ্বানে বাম গণতান্ত্রিক জোটের দুটি দল সিপিবি-বাসদের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে আলোচনার মুল বিষয় ছিল নির্বাচন। বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে দাবি করছে, দলটি সেই দাবির প্রতি সিপিবি-বাসদের নেতাদের সমর্থন চেয়েছে। সিপিবি-বাসদের নেতারাও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের পক্ষে রয়েছেন। বিএনপি ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বাইরে স্বতন্ত্র বাম গণতান্ত্রিক জোটে রয়েছে সিপিবি ও বাসদ।

আরও পড়ুন  বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাকরাইলে রাতভর অবস্থান, সকালেও অব্যাহত কর্মসূচি

এবার জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে দল দুটোর বৈঠকে একটি রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে, এমন আলোচনা শুরু হলেও সিপিবি-বাসদ অবশ্য সেটা নাকচ করে দিয়েছে। তবে বিএনপি এ মুহুর্তে কোনো জোট গঠনের কথা না বললেও ছোট দলগুলোকে তাদের পক্ষে রাখতে চাইছে। সেজন্য বিভিন্ন দলের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে তারা। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে অন্যান্য ইসলামী দলের ঐক্য নিয়েও ভেতরে ভেতরে তৎপরতা চলছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল এনসিপিও বৈঠক করছে বিভিন্ন দলের সঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতেও বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি’র তৎপরতায় রাজনীতিতে স্পষ্ট হচ্ছে তিনটি বলয়। বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যেসব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে ভূমিকা রেখেছিলো, সেই দলগুলোর মধ্যে এখন বিভক্তি স্পষ্ট। নির্বাচন এবং সম্ভাব্য ক্ষমতার লড়াইয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এনসিপিও রাজনীতিতে তৎপর হয়েছে নিজস্ব বক্তব্য নিয়ে। বিএনপি ছোট ছোট দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে চলতি বছরের শুরুতে। প্রথম বৈঠক হয় খেলাফত মজলিসের সঙ্গে। এরপর আরেকটি দলের সঙ্গে বৈঠক হলেও পরে আর এ নিয়ে খুব একটা এগোয়নি দলটি। তবে কয়েকমাস পর আবারও তৎপর হয়েছে বিএনপি। মূলত: ডিসেম্বরে নির্বাচন আদায়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ার পরই বিএনপি ছোট দলগুলোর সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করেছে। যেটাকে অনেকেই বলছেন, একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ। যদিও বিএনপি এখনই সেটা বলছে না। এটা কোন জোটের রূপ না। আমরা চাচ্ছি জনগনের কাছে যাওয়ার জন্য। নির্বাচন নিয়ে জনগনের যে দাবি, সেটা নিয়েই দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে,বিএনপির ঐক্য প্রক্রিয়ায় আছে অতীতে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, এলডিপি, লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদের মতো দলগুলো। এর বাইরেও বিভিন্ন দলকে কাছে টানার চেষ্টা করছে বিএনপি। প্রাথমিকভাবে এসব বৈঠক শেষে ডিসেম্বরে যেন নির্বাচন হয়, সেই দাবিতে প্রয়াজনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের চিন্তা রয়েছে। কিন্তু সেটা কি জোটগতভাবে হবে নাকি আলাদা- এমন প্রশ্নে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন,জোটগত আন্দোলনের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, পরিস্থিতিই সব বলে দেবে। তবে আমরা আশা করি, আন্দোলনের মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না।”

এদিকে জামায়াত ইসলামী বলছে, ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হলেও সেখানে নির্বাচন কবে হবে, সংস্কার কী হবে -এ ধরণের কোনও বিষয় নিয়ে তারা কাজ করছেন না। “জোট দুই ধরনের হয়। একটা হয় আন্দোলনের, আরেকটা হয় নির্বাচনের। আমরা নির্বাচনী জোট করতে চাই। ইসলামী দলগুলো সকলেই এটা বলছে যে, জাতীয় নির্বাচনে আমরা বিভিন্ন আসনে ইসলামী দলগুলো থেকে একক প্রার্থী রাখবো। ইসলামী দলগুলোর একাধিক প্রার্থী যেন না থাকে। এই আলোচনাই চলছে। সুতরাং এই জোট যখন হবে, সেটা নির্বাচন কেন্দ্রীক হবে। এদিকে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া এনসিপি বলছে তারা কোন জোটের দিকে ঝুকবে না। তবে গত রোববার এনসিপির নেতারা বৈঠক করেছে খেলাফত মজলিসের নেতাদের সঙ্গে। এর আগে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সাথেও বৈঠক করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি’র তৎপরতায় রাজনীতিতে স্পষ্ট হচ্ছে তিনটি বলয়

আপডেট সময় ০৬:১৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোন রোডম্যাপ এখানো ঘোষণা হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো ভোট নিয়ে নানা হিসেব নিকেষ শুরু করেছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ভোটের জোট করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

দৃশ্যমান হচ্ছে, ছোট ছোট দলগুলোকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি’র পৃথক পৃথক বলয় তৈরির তৎপরতা। আজ শনিবার ঢাকার বনানীতে বিএনপির আহ্বানে বাম গণতান্ত্রিক জোটের দুটি দল সিপিবি-বাসদের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে আলোচনার মুল বিষয় ছিল নির্বাচন। বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে দাবি করছে, দলটি সেই দাবির প্রতি সিপিবি-বাসদের নেতাদের সমর্থন চেয়েছে। সিপিবি-বাসদের নেতারাও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের পক্ষে রয়েছেন। বিএনপি ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বাইরে স্বতন্ত্র বাম গণতান্ত্রিক জোটে রয়েছে সিপিবি ও বাসদ।

আরও পড়ুন  তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলছে বিএনপি

এবার জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে দল দুটোর বৈঠকে একটি রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে, এমন আলোচনা শুরু হলেও সিপিবি-বাসদ অবশ্য সেটা নাকচ করে দিয়েছে। তবে বিএনপি এ মুহুর্তে কোনো জোট গঠনের কথা না বললেও ছোট দলগুলোকে তাদের পক্ষে রাখতে চাইছে। সেজন্য বিভিন্ন দলের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে তারা। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে অন্যান্য ইসলামী দলের ঐক্য নিয়েও ভেতরে ভেতরে তৎপরতা চলছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল এনসিপিও বৈঠক করছে বিভিন্ন দলের সঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতেও বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি’র তৎপরতায় রাজনীতিতে স্পষ্ট হচ্ছে তিনটি বলয়। বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যেসব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে ভূমিকা রেখেছিলো, সেই দলগুলোর মধ্যে এখন বিভক্তি স্পষ্ট। নির্বাচন এবং সম্ভাব্য ক্ষমতার লড়াইয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এনসিপিও রাজনীতিতে তৎপর হয়েছে নিজস্ব বক্তব্য নিয়ে। বিএনপি ছোট ছোট দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে চলতি বছরের শুরুতে। প্রথম বৈঠক হয় খেলাফত মজলিসের সঙ্গে। এরপর আরেকটি দলের সঙ্গে বৈঠক হলেও পরে আর এ নিয়ে খুব একটা এগোয়নি দলটি। তবে কয়েকমাস পর আবারও তৎপর হয়েছে বিএনপি। মূলত: ডিসেম্বরে নির্বাচন আদায়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ার পরই বিএনপি ছোট দলগুলোর সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করেছে। যেটাকে অনেকেই বলছেন, একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ। যদিও বিএনপি এখনই সেটা বলছে না। এটা কোন জোটের রূপ না। আমরা চাচ্ছি জনগনের কাছে যাওয়ার জন্য। নির্বাচন নিয়ে জনগনের যে দাবি, সেটা নিয়েই দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে,বিএনপির ঐক্য প্রক্রিয়ায় আছে অতীতে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, এলডিপি, লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদের মতো দলগুলো। এর বাইরেও বিভিন্ন দলকে কাছে টানার চেষ্টা করছে বিএনপি। প্রাথমিকভাবে এসব বৈঠক শেষে ডিসেম্বরে যেন নির্বাচন হয়, সেই দাবিতে প্রয়াজনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের চিন্তা রয়েছে। কিন্তু সেটা কি জোটগতভাবে হবে নাকি আলাদা- এমন প্রশ্নে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন,জোটগত আন্দোলনের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, পরিস্থিতিই সব বলে দেবে। তবে আমরা আশা করি, আন্দোলনের মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না।”

এদিকে জামায়াত ইসলামী বলছে, ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হলেও সেখানে নির্বাচন কবে হবে, সংস্কার কী হবে -এ ধরণের কোনও বিষয় নিয়ে তারা কাজ করছেন না। “জোট দুই ধরনের হয়। একটা হয় আন্দোলনের, আরেকটা হয় নির্বাচনের। আমরা নির্বাচনী জোট করতে চাই। ইসলামী দলগুলো সকলেই এটা বলছে যে, জাতীয় নির্বাচনে আমরা বিভিন্ন আসনে ইসলামী দলগুলো থেকে একক প্রার্থী রাখবো। ইসলামী দলগুলোর একাধিক প্রার্থী যেন না থাকে। এই আলোচনাই চলছে। সুতরাং এই জোট যখন হবে, সেটা নির্বাচন কেন্দ্রীক হবে। এদিকে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া এনসিপি বলছে তারা কোন জোটের দিকে ঝুকবে না। তবে গত রোববার এনসিপির নেতারা বৈঠক করেছে খেলাফত মজলিসের নেতাদের সঙ্গে। এর আগে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সাথেও বৈঠক করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।