ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকায় বসা নিয়ে দ্বন্দ্ব: সহযাত্রীর ঘুষিতে১ জনের মৃত্যু মেসেজে ‘কবুল’ লিখলেই কি বিয়ে হয়ে যায়? নিখোঁজের ২৪ দিন পর খোঁজ মিলল পরিচালক উৎসবের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সাশ্রয়ী হওয়ার কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কালবৈশাখীর তান্ডব ও বজ্রপাতে সারা দেশে ১২ জনের মৃত্যু তপ্ত রোদের পর বৃষ্টিতে ভিজল ঢাকা; জনজীবনে স্বস্তি এস্তোনিয়া—ডিজিটাল রাষ্ট্র, প্রাচীন শহর আর নীরব প্রকৃতির দেশ সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে, অ্যাটর্নি জেনারেল সোমবার সুন্নাহ সিয়াম পালনের দিন, প্রস্তুতি নিন আজই তথ্যমন্ত্রীর সাথে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: সংবাদমাধ্যমে সংযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব

ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মিয়ানমারে জান্তার লাগাতার ড্রোন ও বিমান হামলা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫
  • / 245

ছবি সংগৃহীত

 

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপছে মিয়ানমার, আর সেই বিপর্যয়ের মাঝেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা উপেক্ষা করে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির সামরিক জান্তা। ড্রোন ও বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হচ্ছে একের পর এক এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলেও হামলা থামেনি।

মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারের অধীন মানবাধিকার মন্ত্রণালয় জানায়, ২৮ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ড্রোন ও বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে আয়েয়ারওয়াদি, শান এবং রাখাইন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে।

আরও পড়ুন  আফগানিস্তানে হিন্দুকুশ অঞ্চলে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত 

গত মঙ্গলবার আয়েয়ারওয়াদির লেম্যেথনা টাউনশিপের টোন তাও গ্রামে ড্রোন হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকেই একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এলাকাটি বর্তমানে প্রতিরোধ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা রাখাইন রাজ্যের খুব কাছাকাছি।

২৮ মার্চের ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প মান্দালে ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ভূমিকম্পের পরদিন এনইউজি এবং অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও সামরিক সরকার চারদিন পরে ঘোষণায় আসে। কিন্তু সেই ঘোষণা বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আনেনি হামলা অব্যাহত রেখেছে জান্তা।

২৯ মার্চ ওয়ার তাও কউন গ্রামে জান্তার প্যারামোটর হামলায় চারজন নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও দুইজন পুরুষ। তাঁরা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঘরেই প্রাণ হারান। ফুটবল মাঠে ফেলা বোমায় এক ডজন গবাদিপশুও মারা যায়।

আয়েয়ারওয়াদি ইয়ুথস ইউনিয়নের তথ্যমতে, ১৯ মার্চ থেকে লেম্যেথনা অঞ্চলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় দুই হাজারের বেশি মানুষ এলাকা ছেড়েছেন। এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা যদি গ্রামে ফিরিও, পালানোর সুযোগ আর থাকবে না।”
রাখাইন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ লড়াই এখন আয়েয়ারওয়াদি অঞ্চলেও প্রবেশ করেছে। আরাকান আর্মির নেতৃত্বে প্রতিরোধ বাহিনী জান্তার ঘাঁটিগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

এছাড়া দক্ষিণ শান রাজ্যের ন্যাউংশো টাউনশিপের ইয়েপু ও হ্পা ইয়ার তাউং গ্রামেও ড্রোন হামলার খবর মিলেছে। ৩০ ও ৩১ মার্চ এবং ৫ এপ্রিল এসব হামলায় অন্তত পাঁচটি বাড়ি ধ্বংস হয়। ওই এলাকায় ভূমিকম্পেই আগে থেকে প্রায় আড়াই হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মিয়ানমারে জান্তার লাগাতার ড্রোন ও বিমান হামলা

আপডেট সময় ০৪:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫

 

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপছে মিয়ানমার, আর সেই বিপর্যয়ের মাঝেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা উপেক্ষা করে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির সামরিক জান্তা। ড্রোন ও বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হচ্ছে একের পর এক এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলেও হামলা থামেনি।

মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারের অধীন মানবাধিকার মন্ত্রণালয় জানায়, ২৮ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ড্রোন ও বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে আয়েয়ারওয়াদি, শান এবং রাখাইন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে।

আরও পড়ুন  সাতসকালে মৃদু কম্পনে কাঁপল দেশ; উৎপত্তিস্থল সিলেট সীমান্ত

গত মঙ্গলবার আয়েয়ারওয়াদির লেম্যেথনা টাউনশিপের টোন তাও গ্রামে ড্রোন হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকেই একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এলাকাটি বর্তমানে প্রতিরোধ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা রাখাইন রাজ্যের খুব কাছাকাছি।

২৮ মার্চের ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প মান্দালে ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ভূমিকম্পের পরদিন এনইউজি এবং অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও সামরিক সরকার চারদিন পরে ঘোষণায় আসে। কিন্তু সেই ঘোষণা বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আনেনি হামলা অব্যাহত রেখেছে জান্তা।

২৯ মার্চ ওয়ার তাও কউন গ্রামে জান্তার প্যারামোটর হামলায় চারজন নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও দুইজন পুরুষ। তাঁরা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঘরেই প্রাণ হারান। ফুটবল মাঠে ফেলা বোমায় এক ডজন গবাদিপশুও মারা যায়।

আয়েয়ারওয়াদি ইয়ুথস ইউনিয়নের তথ্যমতে, ১৯ মার্চ থেকে লেম্যেথনা অঞ্চলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় দুই হাজারের বেশি মানুষ এলাকা ছেড়েছেন। এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা যদি গ্রামে ফিরিও, পালানোর সুযোগ আর থাকবে না।”
রাখাইন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ লড়াই এখন আয়েয়ারওয়াদি অঞ্চলেও প্রবেশ করেছে। আরাকান আর্মির নেতৃত্বে প্রতিরোধ বাহিনী জান্তার ঘাঁটিগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

এছাড়া দক্ষিণ শান রাজ্যের ন্যাউংশো টাউনশিপের ইয়েপু ও হ্পা ইয়ার তাউং গ্রামেও ড্রোন হামলার খবর মিলেছে। ৩০ ও ৩১ মার্চ এবং ৫ এপ্রিল এসব হামলায় অন্তত পাঁচটি বাড়ি ধ্বংস হয়। ওই এলাকায় ভূমিকম্পেই আগে থেকে প্রায় আড়াই হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।