০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
‘বাংলাদেশের পাশে আছে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না দল: পাকিস্তান স্পিকার না থাকায় এমপিদের শপথ পড়াবেন কে, জেনে নিন বিশ্বে ৭২ শতাংশ মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানো মামলার রায় আজ দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হলেন জিয়াউল হক পলাশ ভোট কারচুপির ছক? জামায়াত নেতার নির্দেশে সিল তৈরি—মামলা ও বহিষ্কারে উত্তাল রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ভূগর্ভস্থ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান সৌদি লিগের ভেতরের টানাপোড়েন, ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’: গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের ভেতরে দ্বিমত যুব বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিদায়, ফয়সালের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি কীর্তি

দিনাজপুরে লিচুর ফুলে মধু উৎপাদনে বিপ্লব, আয় ১২০ কোটি টাকার বেশি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / 111

ছবি সংগৃহীত

 

দিনাজপুরের লিচু খ্যাতি পুরোনো, এবার সেই লিচুর ফুল থেকেই মধু সংগ্রহে ঘটেছে নীরব বিপ্লব। মৌসুমের শেষে ফিরে যাওয়া মৌচাষিরা জানাচ্ছেন, এবার রেকর্ড পরিমাণ মধু সংগ্রহ হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান ও মৌচাষি সংগঠনগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৌচাষির সংখ্যা, মৌবক্স স্থাপন এবং উৎপাদিত মধুর পরিমাণে বিরাট পার্থক্য থাকলেও উভয় পক্ষই একমত দিনাজপুরে মধু উৎপাদন এখন নতুন দিগন্ত খুলেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দিনাজপুরে প্রায় ১২ হাজার মৌবক্স স্থাপন করেছেন ৩৩৫ জন মৌচাষি। এদের মাধ্যমে উৎপাদিত মধুর পরিমাণ প্রায় ৬৭ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি টাকার ওপরে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ হানি কমিউনিটির দাবি একেবারেই ভিন্ন। সংগঠনটির পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, ‘এ বছর দেড় হাজারেরও বেশি মৌচাষি সোয়া লাখ মৌবক্স স্থাপন করেছেন। প্রতিজন গড়ে ৩ টন করে মধু সংগ্রহ করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা।’

মৌচাষিদের অভিজ্ঞতাও তাদের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। বাগেরহাট থেকে আসা মৌচাষি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মাত্র ১৪ দিনে ১০০টি মৌবক্স থেকে ১ টন মধু পেয়েছি। খরচ বাদ দিয়ে আয় হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।’

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আনিছুজ্জামান বলেন, ‘মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে লিচুর উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। এ কারণে লিচু চাষিরাও মৌচাষিদের স্বাগত জানাচ্ছেন।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনাজপুরে লিচুর ফুল থেকে উৎপাদিত মধু ঘন হয় না এবং মানে অনন্য। এর বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে দেশের বাজারে।

এমবিএফের মালিক ও হানি কমিউনিটির সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ‘চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদিত হতে পারে। দিনাজপুর এখন মধু উৎপাদনের হটস্পট।’

সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে মৌচাষে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা বাড়ালে এ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মধুর শহর হিসেবে দিনাজপুরের পরিচিতি এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

দিনাজপুরে লিচুর ফুলে মধু উৎপাদনে বিপ্লব, আয় ১২০ কোটি টাকার বেশি

আপডেট সময় ১০:২৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫

 

দিনাজপুরের লিচু খ্যাতি পুরোনো, এবার সেই লিচুর ফুল থেকেই মধু সংগ্রহে ঘটেছে নীরব বিপ্লব। মৌসুমের শেষে ফিরে যাওয়া মৌচাষিরা জানাচ্ছেন, এবার রেকর্ড পরিমাণ মধু সংগ্রহ হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান ও মৌচাষি সংগঠনগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৌচাষির সংখ্যা, মৌবক্স স্থাপন এবং উৎপাদিত মধুর পরিমাণে বিরাট পার্থক্য থাকলেও উভয় পক্ষই একমত দিনাজপুরে মধু উৎপাদন এখন নতুন দিগন্ত খুলেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দিনাজপুরে প্রায় ১২ হাজার মৌবক্স স্থাপন করেছেন ৩৩৫ জন মৌচাষি। এদের মাধ্যমে উৎপাদিত মধুর পরিমাণ প্রায় ৬৭ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি টাকার ওপরে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ হানি কমিউনিটির দাবি একেবারেই ভিন্ন। সংগঠনটির পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, ‘এ বছর দেড় হাজারেরও বেশি মৌচাষি সোয়া লাখ মৌবক্স স্থাপন করেছেন। প্রতিজন গড়ে ৩ টন করে মধু সংগ্রহ করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা।’

মৌচাষিদের অভিজ্ঞতাও তাদের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। বাগেরহাট থেকে আসা মৌচাষি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মাত্র ১৪ দিনে ১০০টি মৌবক্স থেকে ১ টন মধু পেয়েছি। খরচ বাদ দিয়ে আয় হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।’

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আনিছুজ্জামান বলেন, ‘মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে লিচুর উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। এ কারণে লিচু চাষিরাও মৌচাষিদের স্বাগত জানাচ্ছেন।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনাজপুরে লিচুর ফুল থেকে উৎপাদিত মধু ঘন হয় না এবং মানে অনন্য। এর বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে দেশের বাজারে।

এমবিএফের মালিক ও হানি কমিউনিটির সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ‘চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদিত হতে পারে। দিনাজপুর এখন মধু উৎপাদনের হটস্পট।’

সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে মৌচাষে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা বাড়ালে এ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মধুর শহর হিসেবে দিনাজপুরের পরিচিতি এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।