ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

দিনাজপুরে লিচুর ফুলে মধু উৎপাদনে বিপ্লব, আয় ১২০ কোটি টাকার বেশি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / 422

ছবি সংগৃহীত

 

দিনাজপুরের লিচু খ্যাতি পুরোনো, এবার সেই লিচুর ফুল থেকেই মধু সংগ্রহে ঘটেছে নীরব বিপ্লব। মৌসুমের শেষে ফিরে যাওয়া মৌচাষিরা জানাচ্ছেন, এবার রেকর্ড পরিমাণ মধু সংগ্রহ হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান ও মৌচাষি সংগঠনগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৌচাষির সংখ্যা, মৌবক্স স্থাপন এবং উৎপাদিত মধুর পরিমাণে বিরাট পার্থক্য থাকলেও উভয় পক্ষই একমত দিনাজপুরে মধু উৎপাদন এখন নতুন দিগন্ত খুলেছে।

আরও পড়ুন  সব শ্রেণির মানুষের রক্ত-ঘামে জুলাই বিপ্লবের সাফল্য: আসিফ মাহমুদ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দিনাজপুরে প্রায় ১২ হাজার মৌবক্স স্থাপন করেছেন ৩৩৫ জন মৌচাষি। এদের মাধ্যমে উৎপাদিত মধুর পরিমাণ প্রায় ৬৭ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি টাকার ওপরে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ হানি কমিউনিটির দাবি একেবারেই ভিন্ন। সংগঠনটির পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, ‘এ বছর দেড় হাজারেরও বেশি মৌচাষি সোয়া লাখ মৌবক্স স্থাপন করেছেন। প্রতিজন গড়ে ৩ টন করে মধু সংগ্রহ করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা।’

মৌচাষিদের অভিজ্ঞতাও তাদের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। বাগেরহাট থেকে আসা মৌচাষি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মাত্র ১৪ দিনে ১০০টি মৌবক্স থেকে ১ টন মধু পেয়েছি। খরচ বাদ দিয়ে আয় হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।’

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আনিছুজ্জামান বলেন, ‘মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে লিচুর উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। এ কারণে লিচু চাষিরাও মৌচাষিদের স্বাগত জানাচ্ছেন।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনাজপুরে লিচুর ফুল থেকে উৎপাদিত মধু ঘন হয় না এবং মানে অনন্য। এর বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে দেশের বাজারে।

এমবিএফের মালিক ও হানি কমিউনিটির সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ‘চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদিত হতে পারে। দিনাজপুর এখন মধু উৎপাদনের হটস্পট।’

সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে মৌচাষে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা বাড়ালে এ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মধুর শহর হিসেবে দিনাজপুরের পরিচিতি এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

দিনাজপুরে লিচুর ফুলে মধু উৎপাদনে বিপ্লব, আয় ১২০ কোটি টাকার বেশি

আপডেট সময় ১০:২৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫

 

দিনাজপুরের লিচু খ্যাতি পুরোনো, এবার সেই লিচুর ফুল থেকেই মধু সংগ্রহে ঘটেছে নীরব বিপ্লব। মৌসুমের শেষে ফিরে যাওয়া মৌচাষিরা জানাচ্ছেন, এবার রেকর্ড পরিমাণ মধু সংগ্রহ হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান ও মৌচাষি সংগঠনগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৌচাষির সংখ্যা, মৌবক্স স্থাপন এবং উৎপাদিত মধুর পরিমাণে বিরাট পার্থক্য থাকলেও উভয় পক্ষই একমত দিনাজপুরে মধু উৎপাদন এখন নতুন দিগন্ত খুলেছে।

আরও পড়ুন  জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বে প্রধান নেতা ছিলেন তারেক রহমান: মোর্শেদ হাসান খান

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দিনাজপুরে প্রায় ১২ হাজার মৌবক্স স্থাপন করেছেন ৩৩৫ জন মৌচাষি। এদের মাধ্যমে উৎপাদিত মধুর পরিমাণ প্রায় ৬৭ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি টাকার ওপরে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ হানি কমিউনিটির দাবি একেবারেই ভিন্ন। সংগঠনটির পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, ‘এ বছর দেড় হাজারেরও বেশি মৌচাষি সোয়া লাখ মৌবক্স স্থাপন করেছেন। প্রতিজন গড়ে ৩ টন করে মধু সংগ্রহ করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা।’

মৌচাষিদের অভিজ্ঞতাও তাদের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। বাগেরহাট থেকে আসা মৌচাষি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মাত্র ১৪ দিনে ১০০টি মৌবক্স থেকে ১ টন মধু পেয়েছি। খরচ বাদ দিয়ে আয় হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।’

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আনিছুজ্জামান বলেন, ‘মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে লিচুর উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। এ কারণে লিচু চাষিরাও মৌচাষিদের স্বাগত জানাচ্ছেন।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনাজপুরে লিচুর ফুল থেকে উৎপাদিত মধু ঘন হয় না এবং মানে অনন্য। এর বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে দেশের বাজারে।

এমবিএফের মালিক ও হানি কমিউনিটির সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ‘চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদিত হতে পারে। দিনাজপুর এখন মধু উৎপাদনের হটস্পট।’

সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে মৌচাষে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা বাড়ালে এ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মধুর শহর হিসেবে দিনাজপুরের পরিচিতি এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।