ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতি ছিল মিডিয়ায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে, বললেন ইশরাক মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ প্রত্যাখ্যান, সহায়তাকারীরাও রেহাই পাবে না: ইরান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৯:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / 556

ছবি সংগৃহীত

 

মার্কিন হুমকির মুখে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সরাসরি আলোচনা বা হামলার চাপ প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে তেহরান স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যেসব প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে, তারা নিজেরাও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

একজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে ওমানের মাধ্যমে আগের মতো পরোক্ষ সংলাপ চালিয়ে যেতে চায়। তার ভাষায়, “পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমেই বোঝা যাবে, যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক সমাধানে আসলেই আগ্রহী কি না।” তিনি আরও জানান, এই পথ কঠিন হলেও সম্ভব, যদি মার্কিন বার্তাগুলি সদর্থক হয়।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্ত প্রকাশ

তেহরান এরই মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন এবং তুরস্ককে সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করলে তা শত্রুতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরানি কর্মকর্তার হুঁশিয়ারি “এ ধরনের সহযোগিতার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।” দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই ইতোমধ্যে সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক তৎপরতা বাড়ছে। গাজা ও লেবাননে সংঘর্ষ, ইয়েমেনে হামলা, সিরিয়ায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রচেষ্টা এবং ইসরায়েল-ইরান টানাপোড়েন এই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পারস্য উপসাগর ঘিরে থাকা রাজতান্ত্রিক দেশগুলো যারা মার্কিন ঘাঁটি গড়ে তুলেছে এখন নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

এই প্রেক্ষাপটে কুয়েত ইরানকে আশ্বস্ত করেছে, তারা তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার অনুমতি দেবে না। অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইরানের সতর্কবার্তা সম্পর্কে অবগত নয়, তবে অন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে বার্তা পৌঁছাতে পারে।

ইরান তার ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়ার কাছ থেকেও সমর্থন চাইছে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের জটিলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যকে বিবেচনা করেই তেহরান সতর্ক পা ফেলছে। এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, “রাশিয়ার প্রতি আস্থা সীমিত, কারণ সবকিছু নির্ভর করছে ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্কের গতিপথের উপর।”

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিলতর হয়ে উঠছে, এবং সামান্য উসকানিতেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বিশেষ করে যদি প্রতিবেশীরা একপাক্ষিক অবস্থান নেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ প্রত্যাখ্যান, সহায়তাকারীরাও রেহাই পাবে না: ইরান

আপডেট সময় ১১:৫৯:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫

 

মার্কিন হুমকির মুখে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সরাসরি আলোচনা বা হামলার চাপ প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে তেহরান স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যেসব প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে, তারা নিজেরাও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

একজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে ওমানের মাধ্যমে আগের মতো পরোক্ষ সংলাপ চালিয়ে যেতে চায়। তার ভাষায়, “পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমেই বোঝা যাবে, যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক সমাধানে আসলেই আগ্রহী কি না।” তিনি আরও জানান, এই পথ কঠিন হলেও সম্ভব, যদি মার্কিন বার্তাগুলি সদর্থক হয়।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকে গম কিনবে সরকার

তেহরান এরই মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন এবং তুরস্ককে সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করলে তা শত্রুতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরানি কর্মকর্তার হুঁশিয়ারি “এ ধরনের সহযোগিতার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।” দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই ইতোমধ্যে সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক তৎপরতা বাড়ছে। গাজা ও লেবাননে সংঘর্ষ, ইয়েমেনে হামলা, সিরিয়ায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রচেষ্টা এবং ইসরায়েল-ইরান টানাপোড়েন এই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পারস্য উপসাগর ঘিরে থাকা রাজতান্ত্রিক দেশগুলো যারা মার্কিন ঘাঁটি গড়ে তুলেছে এখন নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

এই প্রেক্ষাপটে কুয়েত ইরানকে আশ্বস্ত করেছে, তারা তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার অনুমতি দেবে না। অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইরানের সতর্কবার্তা সম্পর্কে অবগত নয়, তবে অন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে বার্তা পৌঁছাতে পারে।

ইরান তার ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়ার কাছ থেকেও সমর্থন চাইছে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের জটিলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যকে বিবেচনা করেই তেহরান সতর্ক পা ফেলছে। এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, “রাশিয়ার প্রতি আস্থা সীমিত, কারণ সবকিছু নির্ভর করছে ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্কের গতিপথের উপর।”

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিলতর হয়ে উঠছে, এবং সামান্য উসকানিতেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বিশেষ করে যদি প্রতিবেশীরা একপাক্ষিক অবস্থান নেয়।