ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

মার্কিন বাজারে বিদেশি পণ্যে গড় শুল্ক ৬%, বিলাসপণ্যে চড়া করের বোঝা, শুল্ক হার সবচেয়ে বেশি মদের ক্ষেত্রে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 504

 

 

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা পণ্যে গড়ে শুল্ক–কর হার ৬ শতাংশের মতো হলেও বাস্তবে এই হার আরও কম। কারণ, ব্যবসায়ীরা আমদানি পর্যায়ে আদায় হওয়া মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর পরে সমন্বয় করে নেন। এসব বাদ দিলে কার্যত গড় শুল্কহার দাঁড়ায় ২ দশমিক ২০ শতাংশ।

আরও পড়ুন  ইসরায়েলের সমালোচনায় মার্কিন সরকারের পদক্ষেপ: জাতিসংঘ দূতের ওপর নিষেধাজ্ঞা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৯১ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এসব পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য ছিল প্রায় ৩৫ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার বিপরীতে আদায়কৃত শুল্ক কর ছিল ২ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মূলত দুই ধরনের পণ্য আসে একটি রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল, যেগুলো বন্ড সুবিধায় করমুক্ত আমদানি হয়; অন্যটি দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য আমদানি, যার একটি অংশও করমুক্ত।

তবে পণ্যের ধরন অনুযায়ী শুল্কহার বিশাল পার্থক্যের মধ্যে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, হুইস্কিতে শুল্কহার ৬১১ শতাংশ, মার্সিডিজ বেঞ্জে ৪৪৩ শতাংশ, আর ই–সিগারেটে ২৮৯ শতাংশ। অথচ পুরোনো লোহার টুকরা থেকে শুল্কহার মাত্র ৪ শতাংশ, তবুও এই খাত থেকেই সর্বোচ্চ রাজস্ব এসেছে ৪৫০ কোটি টাকা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দেওয়ায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও আমদানি শুল্ক পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনবিআর ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যে শুল্কহার পর্যালোচনার বিষয়ে আগামীকাল বৈঠক হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক–কর কমাতে হলে বিলাসপণ্যকে আলাদা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কারণ এসব পণ্যে শুল্কহার অত্যধিক, অথচ আমদানির পরিমাণ খুব কম।

দূরত্বজনিত খরচ বেশি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভারত ও চীন থেকে আমদানি বেশি হয়। তবুও নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মান ও নির্ভরযোগ্যতার কারণে বাংলাদেশের বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা এখনো রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন বাজারে বিদেশি পণ্যে গড় শুল্ক ৬%, বিলাসপণ্যে চড়া করের বোঝা, শুল্ক হার সবচেয়ে বেশি মদের ক্ষেত্রে

আপডেট সময় ১২:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫

 

 

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা পণ্যে গড়ে শুল্ক–কর হার ৬ শতাংশের মতো হলেও বাস্তবে এই হার আরও কম। কারণ, ব্যবসায়ীরা আমদানি পর্যায়ে আদায় হওয়া মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর পরে সমন্বয় করে নেন। এসব বাদ দিলে কার্যত গড় শুল্কহার দাঁড়ায় ২ দশমিক ২০ শতাংশ।

আরও পড়ুন  ইসরায়েলের সমালোচনায় মার্কিন সরকারের পদক্ষেপ: জাতিসংঘ দূতের ওপর নিষেধাজ্ঞা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৯১ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এসব পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য ছিল প্রায় ৩৫ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার বিপরীতে আদায়কৃত শুল্ক কর ছিল ২ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মূলত দুই ধরনের পণ্য আসে একটি রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল, যেগুলো বন্ড সুবিধায় করমুক্ত আমদানি হয়; অন্যটি দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য আমদানি, যার একটি অংশও করমুক্ত।

তবে পণ্যের ধরন অনুযায়ী শুল্কহার বিশাল পার্থক্যের মধ্যে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, হুইস্কিতে শুল্কহার ৬১১ শতাংশ, মার্সিডিজ বেঞ্জে ৪৪৩ শতাংশ, আর ই–সিগারেটে ২৮৯ শতাংশ। অথচ পুরোনো লোহার টুকরা থেকে শুল্কহার মাত্র ৪ শতাংশ, তবুও এই খাত থেকেই সর্বোচ্চ রাজস্ব এসেছে ৪৫০ কোটি টাকা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দেওয়ায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও আমদানি শুল্ক পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনবিআর ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যে শুল্কহার পর্যালোচনার বিষয়ে আগামীকাল বৈঠক হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক–কর কমাতে হলে বিলাসপণ্যকে আলাদা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কারণ এসব পণ্যে শুল্কহার অত্যধিক, অথচ আমদানির পরিমাণ খুব কম।

দূরত্বজনিত খরচ বেশি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভারত ও চীন থেকে আমদানি বেশি হয়। তবুও নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মান ও নির্ভরযোগ্যতার কারণে বাংলাদেশের বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা এখনো রয়েছে।