সোয়া চার লাখ পোস্টাল ব্যালট দেশে এলো
- আপডেট সময় ০৩:০৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 7
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রবাসীদের দেওয়া ভোটের বিপুলসংখ্যক ব্যালট ডাকযোগে দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি পোস্টাল ব্যালট বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছে বলে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওসিভি-এসডিআই প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান।
এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল, যার ফলে কয়েক লাখ প্রবাসী ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসীকে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে শনিবার সকাল পর্যন্ত ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৩ জন প্রবাসী ব্যালট হাতে পেয়েছেন।
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৫ জন প্রবাসী তাদের ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯১ জন ভোটার নিজ নিজ দেশের ডাক বিভাগ বা ডাক বাক্সে তাদের ব্যালট জমা দিয়েছেন।
কমিশন সংশ্লিষ্ট ভোটারদের যত দ্রুত সম্ভব ভোট দিয়ে ডাকযোগে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ভোটগ্রহণের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যালট পৌঁছালেই কেবল তা গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রবাসীদের বাইরেও দেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, যাদের অর্ধেকের বেশিই প্রবাসী।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের ভেতরে তিন ধরনের ভোটারকে পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে বা কারাগারে থাকা ভোটাররা।
শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ১৪৬ জন ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৩ লাখ ৮১ হাজার ৭ জন ভোটার তাদের ব্যালট সংগ্রহ করেছেন এবং ৩ লাখ ২১ হাজার ৬৯৫ জন ইতোমধ্যে ভোট প্রদান শেষ করেছেন। এই ভোটারদের মধ্যে ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৭২ জন ভোটদান শেষে ডাকবাক্সে ব্যালট জমা দিয়েছেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, পোস্টাল ব্যালটের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে ডাক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবাসীদের ভোট দ্রুত দেশে পৌঁছানোর জন্য আন্তর্জাতিক কুরিয়ার ও এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস ব্যবহার করা হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার সময়সীমা পার হওয়ার পর কোনো ব্যালট পৌঁছালে তা গণনা করা হবে না।
প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে ডিজিটাল নিবন্ধন ও পোস্টাল ব্যালটের সমন্বয়ে ভোট গ্রহণের এই প্রক্রিয়াটি দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটারদের আগ্রহ এবং ব্যালট ফেরার হার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বলে মনে করছে কমিশন।
























