ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

‘২৫ তারিখ ইনশা আল্লাহ দেশে ফিরছি’: তারেক রহমান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 667

ছবি; সংগৃহীত

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন – এ কথা এবার তিনি নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) তিনি তাঁর দেশে ফেরার তারিখ নিশ্চিত করেন। এর আগে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

লন্ডনের দ্য সিটি প্যাভিলিয়ন হলে অনুষ্ঠিত সভায় তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি ১৭ কিংবা প্রায় ১৮ বছর। কিন্তু আগামী ২৫ তারিখে ইনশা আল্লাহ আমি দেশে চলে যাচ্ছি।’ তাঁর এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সভাস্থলে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

আরও পড়ুন  গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দ্রুত নির্বাচন চায় বিএনপি: প্রেসক্লাবে মির্জা ফখরুল

তবে বিদায়ের দিন বিমানবন্দরে ভিড় না করার জন্য যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ভিড় হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের ভাবমূর্তির জন্য ইতিবাচক নয়।

সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন কোনো একক রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর কৃতিত্ব নয়; এটি বাংলাদেশের জনগণের সম্মিলিত অর্জন। তাঁর ভাষায়, ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণেই স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি এবং দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

তারেক রহমান ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনকে জনগণের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আন্দোলনে বিজয় অর্জন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই বিজয় ধরে রাখা। এ প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। ১৯৭১ সালের ষড়যন্ত্রকারীরাই বিভিন্ন সময়ে ১৯৭৫, ১৯৮১ ও ১৯৯৬ সালে সক্রিয় ছিল এবং বর্তমানেও তারা তৎপর রয়েছে।

এ অবস্থায় বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে হবে।

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের সমর্থন পেলে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। সরকার গঠন করলে জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।

দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে জাতীয় ঐক্য ও জনগণের সক্রিয় সমর্থন থাকলে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান বলেন, তিনি কল্পনার জগতে বাস করছেন না; বরং একটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার একটি কার্যকর রূপরেখা উপস্থাপন করাই বিএনপির প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি শিক্ষা খাতে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্য খাতে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ছয় মাসের মধ্যেই জনগণ এর ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পাবে।

আলোচনা সভার আগে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। যুক্তরাজ্য বিএনপির নবগঠিত আংশিক কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরুর সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘২৫ তারিখ ইনশা আল্লাহ দেশে ফিরছি’: তারেক রহমান

আপডেট সময় ০১:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন – এ কথা এবার তিনি নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) তিনি তাঁর দেশে ফেরার তারিখ নিশ্চিত করেন। এর আগে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

লন্ডনের দ্য সিটি প্যাভিলিয়ন হলে অনুষ্ঠিত সভায় তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি ১৭ কিংবা প্রায় ১৮ বছর। কিন্তু আগামী ২৫ তারিখে ইনশা আল্লাহ আমি দেশে চলে যাচ্ছি।’ তাঁর এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সভাস্থলে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

আরও পড়ুন  চেয়ারম্যান অপসারণসহ ৪ দফা দাবি, এনবিআরের বিরুদ্ধে অসহযোগের ঘোষণা

তবে বিদায়ের দিন বিমানবন্দরে ভিড় না করার জন্য যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ভিড় হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের ভাবমূর্তির জন্য ইতিবাচক নয়।

সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন কোনো একক রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর কৃতিত্ব নয়; এটি বাংলাদেশের জনগণের সম্মিলিত অর্জন। তাঁর ভাষায়, ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণেই স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি এবং দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

তারেক রহমান ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনকে জনগণের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আন্দোলনে বিজয় অর্জন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই বিজয় ধরে রাখা। এ প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। ১৯৭১ সালের ষড়যন্ত্রকারীরাই বিভিন্ন সময়ে ১৯৭৫, ১৯৮১ ও ১৯৯৬ সালে সক্রিয় ছিল এবং বর্তমানেও তারা তৎপর রয়েছে।

এ অবস্থায় বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে হবে।

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের সমর্থন পেলে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। সরকার গঠন করলে জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।

দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে জাতীয় ঐক্য ও জনগণের সক্রিয় সমর্থন থাকলে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান বলেন, তিনি কল্পনার জগতে বাস করছেন না; বরং একটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার একটি কার্যকর রূপরেখা উপস্থাপন করাই বিএনপির প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি শিক্ষা খাতে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্য খাতে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ছয় মাসের মধ্যেই জনগণ এর ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পাবে।

আলোচনা সভার আগে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। যুক্তরাজ্য বিএনপির নবগঠিত আংশিক কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরুর সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।