হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তপ্ত ঢাকা, আহত আন্দোলনকারী ও সাংবাদিক, জাবের গুলিবিদ্ধ
- আপডেট সময় ০৫:২৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 35
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত এবং ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা করা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আন্দোলনকারী ও সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এ সংঘর্ষ হয়। যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্দোলনকারীদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে।
এ সময় ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীরা পুলিশের বাধার প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষের মধ্যে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকরাও পড়েন। এ ঘটনায় আন্দোলনকারী ও সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হন। এছাড়া খবরের কথার সিনিয়র রিপোর্টার জুনায়েদ রোহানের ওপর পুলিশ হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে মোবাইল ফোন ফেরত দেয় পুলিশ।
সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের বিষয়ে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দুঃখ প্রকাশ করে।
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জাবেরের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘শতাধিক আহত ও জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’ একই সঙ্গে আপাতত কোনো জমায়েত না করে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, চিকিৎসা শেষে আবার রাজপথে নামবেন তারা।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে পুলিশ অযৌক্তিকভাবে বলপ্রয়োগ করেছে। তারা জানান, হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
অন্যদিকে পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ ঠেকাতেই তারা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।
সংঘর্ষের পর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।



















