ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া ঠেকাতে কার্যকর ‘২০–৮০’ চার্জিং ফর্মুলা
- আপডেট সময় ১২:২৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 35
চার্জ দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া এখন স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের নিত্যদিনের ভোগান্তি। অনেক ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ চার্জ দিয়ে বের হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই চার্জ নেমে আসে অর্ধেকে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যার পেছনে মূলত ব্যবহারকারীদের কিছু ভুল চার্জিং অভ্যাস দায়ী। সঠিক নিয়ম মেনে চার্জ দিলে ব্যাটারির আয়ু যেমন বাড়ে, তেমনি চার্জও দীর্ঘ সময় ধরে রাখা সম্ভব।
মোবাইল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ‘মোবাইল ক্লিনিক’-এর ডিরেক্টর লিজ হ্যামিলটনের তথ্যমতে, স্মার্টফোনে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির গড় আয়ু সাধারণত প্রায় ৫০০ চার্জিং সাইকেল বা দেড় বছরের মতো। শূন্য শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত একবার সম্পূর্ণ চার্জ হওয়াকে একটি ‘চার্জিং সাইকেল’ হিসেবে ধরা হয়। এই সাইকেল যত দ্রুত শেষ হয়, ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতাও তত দ্রুত কমতে থাকে।
টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারির দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো ‘২০–৮০’ চার্জিং ফর্মুলা অনুসরণ করা। অর্থাৎ ব্যাটারির চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নামতে না দেওয়া এবং ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশের মধ্যেই চার্জার খুলে ফেলা। একদম শূন্যে চার্জ নামিয়ে আনা যেমন ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর, তেমনি বারবার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করাও ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, চার্জিংয়ের সময় অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির জন্য বড় হুমকি। ফোন বা ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার সময় যদি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, তাহলে ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ভারী কাজ চালু রেখে, রোদে বা গরম পরিবেশে চার্জ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে মানসম্মত চার্জার ও পাওয়ার স্ট্রিপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ব্যাটারির চার্জ দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলার কথাও বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখা, প্রয়োজন ছাড়া লোকেশন (GPS), ব্লুটুথ ও ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং প্রয়োজনে ফোনের ‘লো পাওয়ার মোড’ ব্যবহার করা।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সামান্য সচেতনতা ও সঠিক চার্জিং অভ্যাস গড়ে তুললেই ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। এতে ডিভাইসের কার্যক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারি পরিবর্তনের খরচ থেকেও ব্যবহারকারীরা রেহাই পাবেন।
























