ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড সিরিজ বাতিল: সূচি থেকে বাদ পড়ল টাইগারদের সফর ‘আমি এই কাজ করিনি’ হাদি হত্যা প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ফয়সাল ইরান চালু করেছে সর্বোচ্চ মূল্যমানের ১০ মিলিয়ন রিয়াল নোট ঈদের আনন্দে বিষাদের ছায়া: সড়ক ও নদে প্রাণ গেল ২২ জনের যুদ্ধের ধাক্কায় এয়ারলাইন্স খাতে ক্ষতি ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি নেপালে আন্তর্জাতিক জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে বিকেএসপি’র অভাবনীয় সাফল্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন। কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে শিশু-নারীসহ নিহত ১২ ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ: বাস-অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৩ ঈদের দিনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: জামালপুরে ভেঙে পড়ল ড্রাম ব্রিজ, নিহত ৫ ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ

বাংলাদেশে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা তদন্তে জাতিসংঘের প্রতিবেদন কীভাবে সহায়ক হবে? বললেন ফলকার টুর্ক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫
  • / 174

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশে গত বছরের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া গণ-অভ্যুত্থানকালে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন দেশটিতে সত্য উন্মোচন, জবাবদিহিতা, ক্ষতিপূরণ এবং সংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।

সোমবার (৩ মার্চ) জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৫৮তম অধিবেশনে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ফৌজদারি মামলা ও সংখ্যালঘুদের ওপর প্রতিশোধমূলক সহিংসতার তদন্তে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এই প্রতিবেদন অত্যন্ত সহায়ক হবে।”

আরও পড়ুন  ইরানের ওপর পুনরায় জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের উদ্যোগ

ফলকার টুর্ক অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া এক আন্দোলন তৎকালীন সরকার ‘নির্মমভাবে দমন’ করে, যা ব্যাপক সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্ম দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ, নির্বিচার গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন ঘটে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি নতুন ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরির পথে রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী দল যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ রাখবে।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের জেনেভা অফিস থেকে “বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের আন্দোলন সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন” শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা দিক তুলে ধরা হয়।

এই প্রতিবেদনের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, কূটনৈতিক মহল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে নতুন সংস্কারের পথে এগিয়ে যেতে বাধ্য করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা তদন্তে জাতিসংঘের প্রতিবেদন কীভাবে সহায়ক হবে? বললেন ফলকার টুর্ক

আপডেট সময় ১১:১৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫

 

বাংলাদেশে গত বছরের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া গণ-অভ্যুত্থানকালে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন দেশটিতে সত্য উন্মোচন, জবাবদিহিতা, ক্ষতিপূরণ এবং সংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।

সোমবার (৩ মার্চ) জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৫৮তম অধিবেশনে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ফৌজদারি মামলা ও সংখ্যালঘুদের ওপর প্রতিশোধমূলক সহিংসতার তদন্তে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এই প্রতিবেদন অত্যন্ত সহায়ক হবে।”

আরও পড়ুন  ইসরাইলের বিরুদ্ধে তদন্ত করলে জাতিসংঘকে নিষেধাজ্ঞা দেবার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফলকার টুর্ক অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া এক আন্দোলন তৎকালীন সরকার ‘নির্মমভাবে দমন’ করে, যা ব্যাপক সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্ম দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ, নির্বিচার গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন ঘটে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি নতুন ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরির পথে রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী দল যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ রাখবে।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের জেনেভা অফিস থেকে “বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের আন্দোলন সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন” শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা দিক তুলে ধরা হয়।

এই প্রতিবেদনের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, কূটনৈতিক মহল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে নতুন সংস্কারের পথে এগিয়ে যেতে বাধ্য করবে।