ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খামেনির পরবর্তী উত্তরসূরি কে হচ্ছেন?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • / 24

ছবি: সংগৃহীত

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) নিহত হওয়ার পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন— তা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের নাম সামনে এসেছে।

মোজতাবা খামেনি

৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা খামেনি বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার দ্বিতীয় পুত্র। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর ওপর তার প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে শিয়া শাসনব্যবস্থায় বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তরকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এছাড়া তিনি উচ্চ পর্যায়ের ইসলামি পণ্ডিত নন এবং এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সরকারি পদে নেই— যা তার জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়: খামেনি

আলীরেজা আরাফি

৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও খামেনির আস্থাভাজন হিসেবে বিবেচিত। তিনি আলেমদের পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিল–এর সদস্য। এই কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা যাচাই এবং আইন অনুমোদনের দায়িত্ব পালন করে। আরাফি ইরানের মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধানও। তবে সামরিক ও নিরাপত্তা মহলে তার প্রভাব সীমিত।

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি

৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি একজন কট্টরপন্থি ইসলামি আলেম। তিনি রক্ষণশীল আলেমদের মধ্যে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি তার কঠোর অবস্থান রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি উত্তরাঞ্চলীয় শহর কোমের একটি ধর্মীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আছেন। তার কঠোর মতাদর্শ সমর্থকদের কাছে শক্তি হলেও সমালোচকদের কাছে বিতর্কের বিষয়।

হাসান খোমেনি

৫০ বছর বয়সী হাসান খোমেনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–এর নাতি। বর্তমানে তিনি খোমেনির সমাধিসৌধের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনিক বা সামরিক কাঠামোয় তার প্রভাব সীমিত হলেও তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী মনোভাবের কারণে তিনি আলোচনায় রয়েছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শেষ পর্যন্ত কে এই পদে বসবেন, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সমঝোতা, ধর্মীয় মর্যাদা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর। পরিস্থিতি এখনও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

খামেনির পরবর্তী উত্তরসূরি কে হচ্ছেন?

আপডেট সময় ১২:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) নিহত হওয়ার পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন— তা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের নাম সামনে এসেছে।

মোজতাবা খামেনি

৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা খামেনি বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার দ্বিতীয় পুত্র। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর ওপর তার প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে শিয়া শাসনব্যবস্থায় বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তরকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এছাড়া তিনি উচ্চ পর্যায়ের ইসলামি পণ্ডিত নন এবং এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সরকারি পদে নেই— যা তার জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  উত্তরসূরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়: দালাই লামা

আলীরেজা আরাফি

৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও খামেনির আস্থাভাজন হিসেবে বিবেচিত। তিনি আলেমদের পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিল–এর সদস্য। এই কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা যাচাই এবং আইন অনুমোদনের দায়িত্ব পালন করে। আরাফি ইরানের মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধানও। তবে সামরিক ও নিরাপত্তা মহলে তার প্রভাব সীমিত।

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি

৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি একজন কট্টরপন্থি ইসলামি আলেম। তিনি রক্ষণশীল আলেমদের মধ্যে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি তার কঠোর অবস্থান রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি উত্তরাঞ্চলীয় শহর কোমের একটি ধর্মীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আছেন। তার কঠোর মতাদর্শ সমর্থকদের কাছে শক্তি হলেও সমালোচকদের কাছে বিতর্কের বিষয়।

হাসান খোমেনি

৫০ বছর বয়সী হাসান খোমেনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–এর নাতি। বর্তমানে তিনি খোমেনির সমাধিসৌধের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনিক বা সামরিক কাঠামোয় তার প্রভাব সীমিত হলেও তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী মনোভাবের কারণে তিনি আলোচনায় রয়েছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শেষ পর্যন্ত কে এই পদে বসবেন, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সমঝোতা, ধর্মীয় মর্যাদা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর। পরিস্থিতি এখনও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।