০২:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
মুস্তাফিজের জন্য লাহোর কালান্দার্সের ভালোবাসার বার্তা অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলল ভারত বিশ্বকাপ ফাইনালে এখন সর্বোচ্চ রানের মালিক নীল জার্সিধারীরা পঞ্চগড়ে বোদায় নিখোঁজের ৩ দিন পর কলেজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা না হলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না: তারেক রহমান হামলার পর যা বললেন ইনকিলাব মঞ্চের জাবের কোস্টা চিকা প্রকৃতির এক লুকানো রত্ন” হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তপ্ত ঢাকা, আহত আন্দোলনকারী ও সাংবাদিক, জাবের গুলিবিদ্ধ ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে সংঘর্ষ, আহত আন্দোলনকারী ও সাংবাদিক বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব বিষয় থাকছে মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল সৌদি আরব, কিনতে পারবেন বিত্তশালী অমুসলিম প্রবাসীরা

কোস্টা চিকা প্রকৃতির এক লুকানো রত্ন”

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 45

ছবি : খবরের কথা

 

পৃথিবীর মানচিত্রে এমন কিছু জায়গা আছে, যেগুলো মূল পর্যটন রুটের বাইরে হলেও তার নিজস্ব সৌন্দর্য অন্যদের থেকে আলাদা করে কাছে টানে। তেমনই এক লুকানো রত্ন হলো মেক্সিকোর উপকূলজুড়ে বিস্তৃত কোস্টা চিকা।

কোস্টা চিকার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য—এর সমৃদ্ধ আফ্রো-মেক্সিকান ঐতিহ্য।
ঔপনিবেশিক যুগে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষরা এখানে বসতি স্থাপন করে তাদের সংস্কৃতি, সঙ্গীত এবং নৃত্যকে এই উপকূলের মাটিতে রোপণ করেন।

এখানকার বিখ্যাত “ডাঞ্জা দে লোস ডিয়াবলস”—অর্থাৎ শয়তানের নৃত্য—আফ্রিকান শিকড় ও ক্যাথলিক ধর্মীয় প্রতীকের এক বিস্ময়কর মিশ্রণ। আর স্থানীয় ‘সোন’ (Son) সঙ্গীত আজও এই অঞ্চলের সংস্কৃতির প্রাণস্বর হয়ে বাজে।

ধর্ম এখানকার মানুষের জীবনে গভীরভাবে প্রোথিত।
যদিও প্রধান ধর্ম ক্যাথলিক, তবুও স্থানীয় প্রথা ও আফ্রিকান আধ্যাত্মিকতার মিশ্রণে গড়ে উঠেছে এক অনন্য ধর্মীয় পরিবেশ।

প্রতিটি ছোট শহরের নিজস্ব পৃষ্ঠপোষক সাধুকে ঘিরে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে আয়োজন করা হয় জমকালো ‘ফিস্তা’। এই উৎসবগুলো ধর্মীয় ভক্তি, সঙ্গীত, নৃত্য এবং সম্প্রদায়ের মিলনের এক প্রাণবন্ত উদযাপন।

কোস্টা চিকার মানুষের জীবনযাত্রা সাগর আর কৃষিকে কেন্দ্র করে।
মাছ ধরা এখানকার মানুষের প্রধান আয়। পাশাপাশি নারকেল, আম এবং তরমুজের চাষও অর্থনীতির বড় অংশ।

এ অঞ্চলের পরিচিত আরেকটি রত্ন হলো হাতে তৈরি রঙিন টেক্সটাইল। আফ্রো-মেক্সিকান কারুশিল্পীদের বোনা এই কাপড় পর্যটকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটন কোস্টা চিকায় নতুন গতি এনেছে।
বিশ্বখ্যাত সার্ফিং স্পট পুয়ের্তো এসকোনডিডো, আর নয়টি উপসাগর নিয়ে গড়া সৌন্দর্যময় হুয়াতুলকো—প্রকৃতিপ্রেমী ও শান্তি-অন্বেষীদের জন্য স্বর্গ।

ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রগুলো পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে সম্মান করে এগিয়ে চলেছে—যা কোস্টা চিকাকে আরও বিশেষ করে তোলে।

কোস্টা চিকা শুধু একটি উপকূল নয়—এটি সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং প্রকৃতির সংমিশ্রণে তৈরি এক জীবন্ত ক্যানভাস।
এখানে এলে আপনি কেবল ছুটি কাটাবেন না—বরং আবিষ্কার করবেন এক অনন্য জীবনধারা।
আপনার পরবর্তী ভ্রমণের তালিকায় থাকুক কোস্টা চিকা। উপসংহারে বলাই যায় “কোস্টা চিকা: প্রকৃতির এক লুকানো রত্ন”

নিউজটি শেয়ার করুন

কোস্টা চিকা প্রকৃতির এক লুকানো রত্ন”

আপডেট সময় ০৬:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

পৃথিবীর মানচিত্রে এমন কিছু জায়গা আছে, যেগুলো মূল পর্যটন রুটের বাইরে হলেও তার নিজস্ব সৌন্দর্য অন্যদের থেকে আলাদা করে কাছে টানে। তেমনই এক লুকানো রত্ন হলো মেক্সিকোর উপকূলজুড়ে বিস্তৃত কোস্টা চিকা।

কোস্টা চিকার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য—এর সমৃদ্ধ আফ্রো-মেক্সিকান ঐতিহ্য।
ঔপনিবেশিক যুগে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষরা এখানে বসতি স্থাপন করে তাদের সংস্কৃতি, সঙ্গীত এবং নৃত্যকে এই উপকূলের মাটিতে রোপণ করেন।

এখানকার বিখ্যাত “ডাঞ্জা দে লোস ডিয়াবলস”—অর্থাৎ শয়তানের নৃত্য—আফ্রিকান শিকড় ও ক্যাথলিক ধর্মীয় প্রতীকের এক বিস্ময়কর মিশ্রণ। আর স্থানীয় ‘সোন’ (Son) সঙ্গীত আজও এই অঞ্চলের সংস্কৃতির প্রাণস্বর হয়ে বাজে।

ধর্ম এখানকার মানুষের জীবনে গভীরভাবে প্রোথিত।
যদিও প্রধান ধর্ম ক্যাথলিক, তবুও স্থানীয় প্রথা ও আফ্রিকান আধ্যাত্মিকতার মিশ্রণে গড়ে উঠেছে এক অনন্য ধর্মীয় পরিবেশ।

প্রতিটি ছোট শহরের নিজস্ব পৃষ্ঠপোষক সাধুকে ঘিরে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে আয়োজন করা হয় জমকালো ‘ফিস্তা’। এই উৎসবগুলো ধর্মীয় ভক্তি, সঙ্গীত, নৃত্য এবং সম্প্রদায়ের মিলনের এক প্রাণবন্ত উদযাপন।

কোস্টা চিকার মানুষের জীবনযাত্রা সাগর আর কৃষিকে কেন্দ্র করে।
মাছ ধরা এখানকার মানুষের প্রধান আয়। পাশাপাশি নারকেল, আম এবং তরমুজের চাষও অর্থনীতির বড় অংশ।

এ অঞ্চলের পরিচিত আরেকটি রত্ন হলো হাতে তৈরি রঙিন টেক্সটাইল। আফ্রো-মেক্সিকান কারুশিল্পীদের বোনা এই কাপড় পর্যটকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটন কোস্টা চিকায় নতুন গতি এনেছে।
বিশ্বখ্যাত সার্ফিং স্পট পুয়ের্তো এসকোনডিডো, আর নয়টি উপসাগর নিয়ে গড়া সৌন্দর্যময় হুয়াতুলকো—প্রকৃতিপ্রেমী ও শান্তি-অন্বেষীদের জন্য স্বর্গ।

ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রগুলো পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে সম্মান করে এগিয়ে চলেছে—যা কোস্টা চিকাকে আরও বিশেষ করে তোলে।

কোস্টা চিকা শুধু একটি উপকূল নয়—এটি সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং প্রকৃতির সংমিশ্রণে তৈরি এক জীবন্ত ক্যানভাস।
এখানে এলে আপনি কেবল ছুটি কাটাবেন না—বরং আবিষ্কার করবেন এক অনন্য জীবনধারা।
আপনার পরবর্তী ভ্রমণের তালিকায় থাকুক কোস্টা চিকা। উপসংহারে বলাই যায় “কোস্টা চিকা: প্রকৃতির এক লুকানো রত্ন”