ইরান–যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের আগে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা, সতর্কবার্তা জার্মানির
- আপডেট সময় ১২:১২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 42
ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগমুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জার্মানি। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কাতারের দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে চ্যান্সেলর মের্জ জানান, উপসাগরীয় অঞ্চল সফরকালে তাঁর প্রতিটি বৈঠকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং উত্তেজনা কমাতে জার্মানি কূটনৈতিক সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কাতার, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।
তবে আলোচনার আগেই কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে কূটনীতির পাশাপাশি আরও একাধিক বিকল্প রয়েছে এবং তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সম্ভাব্য আলোচনায় কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই নয়, দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
এর জবাবে ইরান কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, আলোচনা শুধু পারমাণবিক ইস্যু ও আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পারমাণবিক কর্মসূচির বাইরে ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো বিষয় আলোচনায় এলে পুরো প্রক্রিয়াই ভেস্তে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।
এই আলোচনা এমন এক সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীসহ হাজার হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আলোচনায় সমঝোতা ব্যর্থ হলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য, গত জুনেও ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ইসরায়েলি হামলা ও পরবর্তী সময়ে মার্কিন বোমাবর্ষণের কারণে সে আলোচনা ভেস্তে যায়।
আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইতোমধ্যে দোহায় পৌঁছেছেন। কাতার ও মিশর এই আলোচনার পরিধি সম্প্রসারণ এবং দুই পক্ষকে একটি অভিন্ন সমঝোতার জায়গায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।























