‘পাশা’র পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত করেছে ইসি
- আপডেট সময় ১২:০৪:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 36
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘পাশা’ (পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট) নামে একটি দেশীয় সংস্থাকে দেওয়া ১০ হাজারের বেশি নির্বাচনি পর্যবেক্ষক কার্ডের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘পাশা’ নামের একটি এনজিও ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের দাবি করেছে। বিষয়টি জানার পর নির্বাচন কমিশন সংস্থাটির সক্ষমতা ও বাস্তব অবস্থান যাচাই শুরু করে। যাচাই-বাছাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আরও জানান, এখন পর্যন্ত সংস্থাটির কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দৈনিক প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে ‘পাশা’কে একটি নামসর্বস্ব ও এক ব্যক্তি নির্ভর সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৈয়দ হুমায়ুন কবীর নামে একজন ব্যক্তিই সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং তাঁর বাসার একটি কক্ষকে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা চলমান নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, সারা দেশে শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উদ্দীপনাময় পরিবেশে প্রচারণা চলছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি।
প্রেস সচিব জানান, দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে পুলিশের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে। বৈঠকে এসব ক্যামেরার কার্যক্রমের একটি সরাসরি প্রদর্শনীও দেখানো হয়।
এছাড়া ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ পুরোপুরি চালু হওয়ার কথাও জানানো হয়। অ্যাপটি কেবল নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন। কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা ঘটলে অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে জানানো যাবে।
নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলেও জানান প্রেস সচিব। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ জন সদস্য ইতোমধ্যে মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে। বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন সদস্য ১ হাজার ২১০টি প্লাটুনে দায়িত্ব পালন করছেন। কোস্টগার্ডও উপকূলীয় জেলাগুলোতে মোতায়েন রয়েছে।
পুলিশের ১ লাখ ৫৭ হাজার সদস্য ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। আনসারের ৫ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি সদস্যের মোতায়েন শনিবার থেকে শুরু হয়ে রোববারের মধ্যে সম্পন্ন হবে। র্যাবের মোতায়েনও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুরু হবে বলে জানানো হয়।



















