১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
আমাদের সাইবার টিম তাদের গলা টিপে ধরেছে: জামায়াত আমির নবাবগঞ্জে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে হামলা, জামায়াত কর্মী গুরুতর আহত যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জন্য ভেনেজুয়েলায় তেল উত্তোলনের নিয়ম সহজ করছে কড়াইল বস্তিতে বিএনপির ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু ৯ দিন পর ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ডা.শফিকুর রহমান: আমির হামজা দুই বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন এনসিপি নেত্রী মিতু ‘গুপ্ত দলের’ লোকেরা নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে: তারেক রহমান প্রিসাইডিং অফিসার যাতে ভোটের রেজাল্ট ছাড়া বের হতে না পারে: মির্জা আব্বাস বিএনপি কাজে বিশ্বাসী, সমালোচনার রাজনীতিতে নয়: মির্জা ফখরুল গাজিয়াবাদে ৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে ৩ বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

সমুদ্রে খাদ্যপণ্য আটকে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে ১৩ জাহাজে জরিমানা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 55

ছবি সংগৃহীত

 

খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে পণ্য খালাসে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করায় ১৩টি জাহাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। এসব জাহাজ থেকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী। তিনি বলেন, পণ্য গুদামজাত করে রাখার অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এ কাজে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী মাদার ভেসেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে ১১০টি জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজ রয়েছে ৩৬টি এবং অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ ৭৪টি। গত বছর রমজান মাসে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ৪৩টি, তবে চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথমার্ধেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১টিতে।

হঠাৎ করে জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে লাইটারেজ জাহাজের চাহিদা বাড়লেও বর্তমানে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা গেছে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ২ হাজার ২৫৮টি লাইটারেজ জাহাজ অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে তিনটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী, ঢাকার বুড়িগঙ্গা, মুন্সিগঞ্জের মেঘনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এবং যশোরের নওয়াপাড়ার ভৈরব নদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

গত ১৭ দিনে মোট ৪০৯টি লাইটারেজ জাহাজ পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে ২৯২টি জাহাজ ১০ দিনের কম, ৮৭টি ১০ দিনের বেশি এবং ৩০টি জাহাজ ২০ দিনের বেশি সময় ধরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল। ১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন নদীবন্দর পরিদর্শনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে যশোরের নওয়াপাড়া পর্যন্ত অধিকাংশ ঘাটে দ্রুতগতিতে পণ্য খালাস কার্যক্রম চলছে। গত ১৫ দিনে ৭৩৫টি লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া লাইটারেজ জাহাজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ৩০ জানুয়ারি থেকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর একটি সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস ও জাহাজ বরাদ্দ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নিয়ন্ত্রিত হবে।

তবে কিছু ঘাটে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পণ্য খালাস হওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক। এ সমস্যা সমাধানে স্বয়ংক্রিয় ক্রেন ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর জানায়, লাইটারেজ জাহাজের সংকট পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান এবং ডিজিটাল নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সমুদ্রে খাদ্যপণ্য আটকে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে ১৩ জাহাজে জরিমানা

আপডেট সময় ১১:৩৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে পণ্য খালাসে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করায় ১৩টি জাহাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। এসব জাহাজ থেকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী। তিনি বলেন, পণ্য গুদামজাত করে রাখার অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এ কাজে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী মাদার ভেসেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে ১১০টি জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজ রয়েছে ৩৬টি এবং অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ ৭৪টি। গত বছর রমজান মাসে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ৪৩টি, তবে চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথমার্ধেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১টিতে।

হঠাৎ করে জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে লাইটারেজ জাহাজের চাহিদা বাড়লেও বর্তমানে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা গেছে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ২ হাজার ২৫৮টি লাইটারেজ জাহাজ অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে তিনটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী, ঢাকার বুড়িগঙ্গা, মুন্সিগঞ্জের মেঘনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এবং যশোরের নওয়াপাড়ার ভৈরব নদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

গত ১৭ দিনে মোট ৪০৯টি লাইটারেজ জাহাজ পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে ২৯২টি জাহাজ ১০ দিনের কম, ৮৭টি ১০ দিনের বেশি এবং ৩০টি জাহাজ ২০ দিনের বেশি সময় ধরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল। ১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন নদীবন্দর পরিদর্শনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে যশোরের নওয়াপাড়া পর্যন্ত অধিকাংশ ঘাটে দ্রুতগতিতে পণ্য খালাস কার্যক্রম চলছে। গত ১৫ দিনে ৭৩৫টি লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া লাইটারেজ জাহাজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ৩০ জানুয়ারি থেকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর একটি সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস ও জাহাজ বরাদ্দ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নিয়ন্ত্রিত হবে।

তবে কিছু ঘাটে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পণ্য খালাস হওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক। এ সমস্যা সমাধানে স্বয়ংক্রিয় ক্রেন ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর জানায়, লাইটারেজ জাহাজের সংকট পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান এবং ডিজিটাল নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।