সাভারে পাঁচ মাসে ছয় হত্যাকাণ্ড, ভবঘুরে সেজে লুকিয়ে ছিল সম্রাট: পুলিশের দাবি
- আপডেট সময় ০৩:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 122
ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টার থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। ভবঘুরের ছদ্মবেশে পাঁচ মাসে অন্তত ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর সম্রাট এসব হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
সোমবার দুপুর ১২টায় সাভার মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া জোড়া মরদেহের ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। এতে এক ব্যক্তির চলাফেরা, অবস্থান ও সময়ের ধারাবাহিক মিল পাওয়ায় তাকে নজরদারিতে আনা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে মশিউর রহমান খান সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে কমিউনিটি সেন্টারে পাওয়া সর্বশেষ জোড়া মরদেহসহ মোট ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ মাসে সাভার এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ঘটনার ধরন ও আলামত বিশ্লেষণ করে একই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মেলে। সিসিটিভি ফুটেজই শেষ পর্যন্ত হত্যাকারী শনাক্তে বড় ভূমিকা রাখে। গ্রেপ্তার সম্রাট সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার মৃত সালামের ছেলে।
পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার দুই হাত গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। একই বছরের ১১ অক্টোবর ভবনটির দ্বিতীয় তলার বাথরুমের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মাথা ও গলায় কাটা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়।
এরপর ১৯ ডিসেম্বর একই ভবনের বাথরুম থেকে আগুনে পোড়া ও গলিত অবস্থায় আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় তলার বাথরুমের ভেতর থেকে এক পুরুষ ও এক কিশোরীর আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের পাশে একটি চায়ের দোকানের কাছ থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ ধারণা করছে, ঘটনাটিও একই সিরিজ হত্যাকাণ্ডের অংশ।
পুলিশ জানায়, ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর সাভার মডেল থানা ও ডিবি যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয় এবং একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। সর্বশেষ জোড়া মরদেহ উদ্ধারের পর ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং আরও কোনো অপরাধে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, অভিযুক্তের দেওয়া ঠিকানায় অভিযান চালিয়েও তার স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে হত্যায় ব্যবহৃত একটি মাফলার এবং আগুন লাগাতে ব্যবহৃত একটি দেশলাই আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আশা করছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সাভারে ঘটে যাওয়া এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের পেছনের পুরো রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।


























