০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় বক্তব্যরত অবস্থায় জামায়াতের জেলা আমীরের মৃত্যু বাংলাদেশিদের জন্য ভিসায় বন্ড বাধ্যতামূলক করল যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনী নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য, ডগ স্কোয়াড ও ড্রোন নজরদারি ঘুমের ঘোরে কথা বলা; মনের কথা নাকি মস্তিষ্কের বিশেষ আচরণ? খুলনায় আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিপক্ষে মার্কিন জনগণ স্পেনে দুই হাইস্পিড ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ২১ আলিফ হত্যা মামলার শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণসহ ২৩ আসামি আদালতে জনসম্মুখে প্রথমবার বক্তব্য রাখলেন জাইমা রহমান হৃদয় ম্যাজিকে রংপুরের জয়, এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি

হাদিকে গুলি: প্রধান আসামি ফয়সালের বাবা–মা গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৩৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 357

ছবি:সংগৃহীত

 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা–মাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হুমায়ুন কবির (৭০) ও হাসি বেগম (৬০)। একই অভিযানে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার এবং ফয়সাল নামের এক যুবককে আটক করার দাবি করেছে র‍্যাব।

র‍্যাবের মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মঙ্গলবার রাতে র‍্যাবের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিং এলাকা থেকে ফয়সালের বাবা–মাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে নরসিংদীর তরুয়ার বিল এলাকা থেকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। তবে অস্ত্রগুলো সেখানে কীভাবে পৌঁছায়, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি র‍্যাব।

[bsa_pro_ad_space id=2]

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে—গ্রেপ্তার দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে ফয়সাল করিম তৃতীয়। তিনি ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় তাঁর বোন জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন (১২ ডিসেম্বর) রাতে একটি কালো ব্যাগ নিয়ে তিনি ওই বাসায় ওঠেন। পরে ভবনের দুই অংশের মাঝের সরু জায়গায় ব্যাগটি নিচে ফেলে দেন।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ফয়সাল তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অন্যটি তাঁর মা হাসি বেগমের কাছে রেখে যান। এরপর তিনি বাবা–মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে আগারগাঁও ত্যাগ করে মিরপুর হয়ে শাহজাদপুরে তাঁর চাচাতো ভাই আরিফের বাসায় যান।

এ সময় ফয়সালের ব্যাগ বহনের জন্য তাঁর বাবা হুমায়ুন কবির একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে দেন এবং কিছু অর্থও সরবরাহ করেন বলে র‍্যাবের দাবি। পরে ফয়সালের বাবা–মা তাঁদের ছোট ছেলে হাসান মাহমুদ বাবুলের কেরানীগঞ্জের বাসায় চলে যান।

এদিকে র‍্যাব-২ জানিয়েছে, মঙ্গলবার পশ্চিম আগারগাঁওয়ে ফয়সালের বোনের বাসার পাশের একটি ফাঁকা স্থান থেকে ১১টি গুলিভর্তি দুটি ম্যাগাজিন ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। র‍্যাব-২-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়—ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে ফয়সাল ও তাঁর এক সহযোগী মোটরসাইকেলে করে ওই বাসা থেকে বের হন। পরে বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে ফয়সাল, তাঁর সহযোগী, মা ও ভাগনেকে ওই ফাঁকা স্থান থেকে কিছু সংগ্রহ করতে দেখা যায়। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ফয়সাল ও তাঁর সহযোগী একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে এলাকা ত্যাগ করেন।

গোপন তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে ওই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি ম্যাগাজিন, ১১টি গুলি ও একটি চাকু। এছাড়া ফয়সালের বোনের বাসা থেকে ১৫টি চেক বই, ছয়টি পাসপোর্ট, বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৮টি চেকের পাতা, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ট্যাব জব্দ করা হয়েছে।

হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পরিবারের সম্মতিতে রোববার রাতে পল্টন থানায় একটি মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। মামলায় এর আগে ফয়সালের স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক সন্দেহে একজন, সহযোগী কবির এবং তাঁকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে সীমান্ত এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি ছোড়া হলে রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা ছিল ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’। পরে সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

[bsa_pro_ad_space id=4]

হাদিকে গুলি: প্রধান আসামি ফয়সালের বাবা–মা গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

আপডেট সময় ০৯:৩৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা–মাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হুমায়ুন কবির (৭০) ও হাসি বেগম (৬০)। একই অভিযানে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার এবং ফয়সাল নামের এক যুবককে আটক করার দাবি করেছে র‍্যাব।

র‍্যাবের মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মঙ্গলবার রাতে র‍্যাবের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিং এলাকা থেকে ফয়সালের বাবা–মাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে নরসিংদীর তরুয়ার বিল এলাকা থেকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। তবে অস্ত্রগুলো সেখানে কীভাবে পৌঁছায়, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি র‍্যাব।

[bsa_pro_ad_space id=2]

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে—গ্রেপ্তার দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে ফয়সাল করিম তৃতীয়। তিনি ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় তাঁর বোন জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন (১২ ডিসেম্বর) রাতে একটি কালো ব্যাগ নিয়ে তিনি ওই বাসায় ওঠেন। পরে ভবনের দুই অংশের মাঝের সরু জায়গায় ব্যাগটি নিচে ফেলে দেন।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ফয়সাল তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অন্যটি তাঁর মা হাসি বেগমের কাছে রেখে যান। এরপর তিনি বাবা–মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে আগারগাঁও ত্যাগ করে মিরপুর হয়ে শাহজাদপুরে তাঁর চাচাতো ভাই আরিফের বাসায় যান।

এ সময় ফয়সালের ব্যাগ বহনের জন্য তাঁর বাবা হুমায়ুন কবির একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে দেন এবং কিছু অর্থও সরবরাহ করেন বলে র‍্যাবের দাবি। পরে ফয়সালের বাবা–মা তাঁদের ছোট ছেলে হাসান মাহমুদ বাবুলের কেরানীগঞ্জের বাসায় চলে যান।

এদিকে র‍্যাব-২ জানিয়েছে, মঙ্গলবার পশ্চিম আগারগাঁওয়ে ফয়সালের বোনের বাসার পাশের একটি ফাঁকা স্থান থেকে ১১টি গুলিভর্তি দুটি ম্যাগাজিন ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। র‍্যাব-২-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়—ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে ফয়সাল ও তাঁর এক সহযোগী মোটরসাইকেলে করে ওই বাসা থেকে বের হন। পরে বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে ফয়সাল, তাঁর সহযোগী, মা ও ভাগনেকে ওই ফাঁকা স্থান থেকে কিছু সংগ্রহ করতে দেখা যায়। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ফয়সাল ও তাঁর সহযোগী একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে এলাকা ত্যাগ করেন।

গোপন তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে ওই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি ম্যাগাজিন, ১১টি গুলি ও একটি চাকু। এছাড়া ফয়সালের বোনের বাসা থেকে ১৫টি চেক বই, ছয়টি পাসপোর্ট, বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৮টি চেকের পাতা, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ট্যাব জব্দ করা হয়েছে।

হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পরিবারের সম্মতিতে রোববার রাতে পল্টন থানায় একটি মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। মামলায় এর আগে ফয়সালের স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক সন্দেহে একজন, সহযোগী কবির এবং তাঁকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে সীমান্ত এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি ছোড়া হলে রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা ছিল ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’। পরে সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।