ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান

অভিবাসী মৃত্যুর রেকর্ড ছাড়াল: ২০২৪ সাল ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক বছর’

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
  • / 407

ছবি সংগৃহীত

 

২০২৪ সাল বিশ্বজুড়ে অভিবাসীদের জন্য এক মর্মান্তিক বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এ বছর যাত্রাপথে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯ হাজার অভিবাসী। মৃত্যুর এই সংখ্যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। সংস্থাটি এই বাস্তবতাকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

আইওএম জানায়, ২০২৪ সালে মোট ৮ হাজার ৯৩৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৩ সালের তুলনায় এটি ২০০ জন বেশি। এমন পরিস্থিতিকে অভিবাসন সংকটের এক গভীর মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ।

আরও পড়ুন  মুস্তাফিজকে ছাড়িয়ে গেলেন বুমরাহ: রেকর্ডবুকের নতুন অধ্যায়

২০১৪ সাল থেকে অভিবাসী মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করে আসছে আইওএম। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৭৪ হাজারের বেশি অভিবাসী নিখোঁজ বা মৃত্যুবরণ করেছেন। আর শুধু গত পাঁচ বছরেই এই সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে।

অভিবাসনপথে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে এশিয়া মহাদেশে, যেখানে ২০২৪ সালে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত দুই হাজার ৭৭৮ জন। এর পরই রয়েছে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, যেখানে মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৪৫২ জনের। তৃতীয় অবস্থানে আছে আফ্রিকা, সেখানে মারা গেছেন দুই হাজার ২৪২ জন।

আইওএম-এর উপপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস বলেন, “প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে একটি জীবন, একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন থাকে। এই ক্ষতি শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটি মানবিক ব্যর্থতার প্রতিফলন।”

তিনি আরও বলেন, “অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় বা কখনও বাধ্য হয়েই নিজ ভূমি ছেড়ে নিরাপদ জীবনের আশায় রওনা হন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠছে মৃত্যুযাত্রা।”

আইওএম সতর্ক করেছে, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনার তথ্য এখনো প্রমাণিত নয় বা রেকর্ডভুক্ত হয়নি।

বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি আইওএম-এর আহ্বান এখনই সময় কার্যকর ও মানবিক অভিবাসন নীতির। নইলে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

অভিবাসী মৃত্যুর রেকর্ড ছাড়াল: ২০২৪ সাল ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক বছর’

আপডেট সময় ০১:৪৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

 

২০২৪ সাল বিশ্বজুড়ে অভিবাসীদের জন্য এক মর্মান্তিক বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এ বছর যাত্রাপথে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯ হাজার অভিবাসী। মৃত্যুর এই সংখ্যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। সংস্থাটি এই বাস্তবতাকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

আইওএম জানায়, ২০২৪ সালে মোট ৮ হাজার ৯৩৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৩ সালের তুলনায় এটি ২০০ জন বেশি। এমন পরিস্থিতিকে অভিবাসন সংকটের এক গভীর মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো ব্রাজিলিয়ানদের হাতকড়া পরানোর ঘটনায় ব্রাজিলের ক্ষোভ

২০১৪ সাল থেকে অভিবাসী মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করে আসছে আইওএম। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৭৪ হাজারের বেশি অভিবাসী নিখোঁজ বা মৃত্যুবরণ করেছেন। আর শুধু গত পাঁচ বছরেই এই সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে।

অভিবাসনপথে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে এশিয়া মহাদেশে, যেখানে ২০২৪ সালে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত দুই হাজার ৭৭৮ জন। এর পরই রয়েছে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, যেখানে মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৪৫২ জনের। তৃতীয় অবস্থানে আছে আফ্রিকা, সেখানে মারা গেছেন দুই হাজার ২৪২ জন।

আইওএম-এর উপপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস বলেন, “প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে একটি জীবন, একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন থাকে। এই ক্ষতি শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটি মানবিক ব্যর্থতার প্রতিফলন।”

তিনি আরও বলেন, “অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় বা কখনও বাধ্য হয়েই নিজ ভূমি ছেড়ে নিরাপদ জীবনের আশায় রওনা হন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠছে মৃত্যুযাত্রা।”

আইওএম সতর্ক করেছে, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনার তথ্য এখনো প্রমাণিত নয় বা রেকর্ডভুক্ত হয়নি।

বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি আইওএম-এর আহ্বান এখনই সময় কার্যকর ও মানবিক অভিবাসন নীতির। নইলে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে না।