ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

নভেম্বরে আবুধাবিতে শান্তি বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৭:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

দীর্ঘ বিরতির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে আবারও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বরের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও একপর্যায়ে তা স্থবির হয়ে পড়ে। সম্প্রতি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়া সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সফরের পর থমকে থাকা আলোচনা আবার শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন  পারমাণবিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব, তেহরানের ‘অবিশ্বাস’ স্পষ্ট

তবে প্রস্তাবিত বৈঠক থেকে বড় ধরনের কোনো সমাধান আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রাশিয়া এখনো তাদের কঠোর শর্তে অনড়। দেশটির দাবি, ইউক্রেন কখনো সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হতে পারবে না। পাশাপাশি ইউক্রেনের ভূখণ্ডের একটি বড় অংশ রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দেওয়ার শর্তও দিয়েছে মস্কো।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিতেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইউক্রেনের কঠোর সমালোচনা করলেও তিনি রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন। পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার চুক্তিও করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের এমন পদক্ষেপ ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁদের আশঙ্কা, এতে রাশিয়া আরও সুবিধা পেতে পারে। অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনী মার্কিন স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা স্টারলিংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য পেতে সমস্যার মুখে পড়ছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই শুক্রবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ২৭০ জন যুদ্ধবন্দি বিনিময় হয়েছে। এ ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমঝোতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নভেম্বরের প্রস্তাবিত বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের পথে কতটা অগ্রগতি আনতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

 

নিউজটি শেয়ার করুন

নভেম্বরে আবুধাবিতে শান্তি বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ১০:০৭:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 

দীর্ঘ বিরতির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে আবারও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বরের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও একপর্যায়ে তা স্থবির হয়ে পড়ে। সম্প্রতি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়া সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সফরের পর থমকে থাকা আলোচনা আবার শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন  পারমাণবিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব, তেহরানের ‘অবিশ্বাস’ স্পষ্ট

তবে প্রস্তাবিত বৈঠক থেকে বড় ধরনের কোনো সমাধান আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রাশিয়া এখনো তাদের কঠোর শর্তে অনড়। দেশটির দাবি, ইউক্রেন কখনো সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হতে পারবে না। পাশাপাশি ইউক্রেনের ভূখণ্ডের একটি বড় অংশ রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দেওয়ার শর্তও দিয়েছে মস্কো।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিতেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইউক্রেনের কঠোর সমালোচনা করলেও তিনি রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন। পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার চুক্তিও করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের এমন পদক্ষেপ ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁদের আশঙ্কা, এতে রাশিয়া আরও সুবিধা পেতে পারে। অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনী মার্কিন স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা স্টারলিংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য পেতে সমস্যার মুখে পড়ছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই শুক্রবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ২৭০ জন যুদ্ধবন্দি বিনিময় হয়েছে। এ ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমঝোতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নভেম্বরের প্রস্তাবিত বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের পথে কতটা অগ্রগতি আনতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: আল-জাজিরা