ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১২:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 9

ছবি : সংগৃহীত

 

সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র সবার এবং প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আসুন আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।”

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল ইউরোপের আরেক দেশ

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও বক্তব্য দেন।

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এ রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, “ধর্ম আলাদা হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রটা আমাদের সবার। বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রটি আমাদের সবার। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে।”

রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিককে নিরাপত্তা দেওয়া। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা সবাই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, আমরা বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। সবার আগে এটিই হচ্ছে আমাদের পরিচয়। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।”

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য দেশের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তখন কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান—তা বিবেচনা করা হয়নি। যুদ্ধের ময়দানে কাউকে ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে দেশে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে এবং মানুষ রাজনৈতিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নামলে আন্দোলনকারীরা একে অপরের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। বরং মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সবাই একসঙ্গে সোচ্চার হয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই আন্দোলনে হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তখনও কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেদিন সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের অনেকে শহীদ হয়েছেন। ওই দিন শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরাও রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের পরিবর্তন হলে এবং মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটলে সব নাগরিকই উপকৃত হবেন। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয় না; একইভাবে মানুষ ভালো থাকলেও ধর্ম নয়, মানুষ হিসেবেই তাকে দেখা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, আমরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমরা একে অপরকে আরেকজনকে চিনি ও জানি।”

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি আনন্দের অনুষ্ঠান। আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি মিলনমেলা।”

সূত্র: বাসস

নিউজটি শেয়ার করুন

সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০২:১২:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

 

সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র সবার এবং প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আসুন আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।”

আরও পড়ুন  বিতাড়িতদের সঙ্গে গোপনে একটি গোষ্ঠী যোগাযোগ করছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও বক্তব্য দেন।

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এ রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, “ধর্ম আলাদা হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রটা আমাদের সবার। বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রটি আমাদের সবার। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে।”

রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিককে নিরাপত্তা দেওয়া। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা সবাই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, আমরা বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। সবার আগে এটিই হচ্ছে আমাদের পরিচয়। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।”

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য দেশের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তখন কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান—তা বিবেচনা করা হয়নি। যুদ্ধের ময়দানে কাউকে ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে দেশে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে এবং মানুষ রাজনৈতিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নামলে আন্দোলনকারীরা একে অপরের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। বরং মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সবাই একসঙ্গে সোচ্চার হয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই আন্দোলনে হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তখনও কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেদিন সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের অনেকে শহীদ হয়েছেন। ওই দিন শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরাও রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের পরিবর্তন হলে এবং মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটলে সব নাগরিকই উপকৃত হবেন। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয় না; একইভাবে মানুষ ভালো থাকলেও ধর্ম নয়, মানুষ হিসেবেই তাকে দেখা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, আমরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমরা একে অপরকে আরেকজনকে চিনি ও জানি।”

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি আনন্দের অনুষ্ঠান। আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি মিলনমেলা।”

সূত্র: বাসস