ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে সহিংসতা-লুটপাট, কঠোর হুঁশিয়ারি ম্যাক্রোঁর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 23

ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিলেও জরুরি অবস্থা বা কারফিউ জারির ঘোষণা দেননি ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, বিক্ষোভের নামে সহিংসতা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। যারা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের অপরাধের মূল্য দিতে হবে।

এর আগে শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহতম নগর সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনের সহিংসতায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন পুলিশ ও জেন্ডারমেরি বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য।

আরও পড়ুন  সিরিয়ায় সহিংসতার ঝড়ে ৭৪৫ বেসামরিক নাগরিকসহ এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

ম্যাক্রোঁ বলেন, ন্যায্য দাবি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভাঙচুর, ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের পার্থক্য করতে হবে। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তারা পেশাদারত্বের পরিচয় দিলেও বিভিন্ন শহরে তাঁদের নজিরবিহীন সহিংসতার মুখে পড়তে হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ এবং আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান ম্যাক্রোঁ। সংকটের মধ্যে থাকা মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা দিতে একটি ‘সংকট মোকাবিলা ইউনিট’ গঠনের ঘোষণাও দেন তিনি। এ সময় জাতীয় ঐক্য, শান্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

প্যারিস থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার বলেন, ম্যাক্রোঁর ভাষণে নতুন কোনো চমক ছিল না। বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের বক্তব্য শুনে আসছেন। ফলে তাঁর ভাষণ বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ প্রশমনে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আগামী বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতার ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রেও চলে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জনসমর্থন আদায়ে পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

বামপন্থি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশো বিক্ষোভ চলাকালে ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ফরাসি সরকারকে সম্পূর্ণ দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে, কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জর্ডান বারদেলা ম্যাক্রোঁর ভাষণকে ‘হতাশাজনক’ ও ‘কাপুরুষোচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, ফরাসি জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের নেই এবং জনগণকে দেওয়ার মতো আর কিছুই সরকারের অবশিষ্ট নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফ্রান্সে সহিংসতা-লুটপাট, কঠোর হুঁশিয়ারি ম্যাক্রোঁর

আপডেট সময় ০৯:৪২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিলেও জরুরি অবস্থা বা কারফিউ জারির ঘোষণা দেননি ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, বিক্ষোভের নামে সহিংসতা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। যারা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের অপরাধের মূল্য দিতে হবে।

এর আগে শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহতম নগর সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনের সহিংসতায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন পুলিশ ও জেন্ডারমেরি বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য।

আরও পড়ুন  যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়া: বিশ্ব যৌন নিপীড়ন বিরোধী দিবস

ম্যাক্রোঁ বলেন, ন্যায্য দাবি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভাঙচুর, ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের পার্থক্য করতে হবে। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তারা পেশাদারত্বের পরিচয় দিলেও বিভিন্ন শহরে তাঁদের নজিরবিহীন সহিংসতার মুখে পড়তে হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ এবং আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান ম্যাক্রোঁ। সংকটের মধ্যে থাকা মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা দিতে একটি ‘সংকট মোকাবিলা ইউনিট’ গঠনের ঘোষণাও দেন তিনি। এ সময় জাতীয় ঐক্য, শান্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

প্যারিস থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার বলেন, ম্যাক্রোঁর ভাষণে নতুন কোনো চমক ছিল না। বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের বক্তব্য শুনে আসছেন। ফলে তাঁর ভাষণ বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ প্রশমনে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আগামী বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতার ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রেও চলে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জনসমর্থন আদায়ে পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

বামপন্থি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশো বিক্ষোভ চলাকালে ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ফরাসি সরকারকে সম্পূর্ণ দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে, কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জর্ডান বারদেলা ম্যাক্রোঁর ভাষণকে ‘হতাশাজনক’ ও ‘কাপুরুষোচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, ফরাসি জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের নেই এবং জনগণকে দেওয়ার মতো আর কিছুই সরকারের অবশিষ্ট নেই।