ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে মাইকে আজান, কারাগারে মুয়াজ্জিন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৮:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 21

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলায় মাইকে আজান দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ফাইজান নামে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) নাজিবাবাদ এলাকায় একটি গণশুনানিতে যাওয়ার পথে আজানের আওয়াজ শুনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ মসজিদের মাইক জব্দ করে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ঘটনার পর জেলার সব থানাকে নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাইক নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজনোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই ‘সমাধান দিবস’-এর একটি শুনানিতে অংশ নিতে মহল্লা মাকবারা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা একটি মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনতে পান।

আরও পড়ুন  ভারতে নির্মাণাধীন টানেলে পানি ঢুকে ৭ শ্রমিকের মৃত্যু

পুলিশ সুপার বিষ্ণোই তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালি পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অমিত কুমার মালিক মসজিদে গিয়ে মাইকটি জব্দ করেন এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করেন।

পরে উপপরিদর্শক (এসআই) সৌরভ কুমারের আবেদনের ভিত্তিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ফাইজানের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। পাশাপাশি শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পরে তাঁকে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে নিজ এলাকায় শব্দসীমা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থতার অভিযোগে বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন। একই সঙ্গে বিজনোরের সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিট কনস্টেবলদের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাইক অনুমোদিত শব্দসীমার মধ্যে ব্যবহারের বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র বা হলফনামা জমা দিতে হবে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিট কর্মীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিজনোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিং জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলাজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ধর্মীয় স্থানে নির্ধারিত শব্দসীমার বাইরে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতে মাইকে আজান, কারাগারে মুয়াজ্জিন

আপডেট সময় ০৯:২৮:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলায় মাইকে আজান দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ফাইজান নামে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) নাজিবাবাদ এলাকায় একটি গণশুনানিতে যাওয়ার পথে আজানের আওয়াজ শুনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ মসজিদের মাইক জব্দ করে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ঘটনার পর জেলার সব থানাকে নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাইক নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজনোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই ‘সমাধান দিবস’-এর একটি শুনানিতে অংশ নিতে মহল্লা মাকবারা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা একটি মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনতে পান।

আরও পড়ুন  পাকিস্তান ও ভারতে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি, মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে ৭৯

পুলিশ সুপার বিষ্ণোই তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালি পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অমিত কুমার মালিক মসজিদে গিয়ে মাইকটি জব্দ করেন এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করেন।

পরে উপপরিদর্শক (এসআই) সৌরভ কুমারের আবেদনের ভিত্তিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ফাইজানের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। পাশাপাশি শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পরে তাঁকে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে নিজ এলাকায় শব্দসীমা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থতার অভিযোগে বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন। একই সঙ্গে বিজনোরের সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিট কনস্টেবলদের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাইক অনুমোদিত শব্দসীমার মধ্যে ব্যবহারের বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র বা হলফনামা জমা দিতে হবে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিট কর্মীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিজনোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিং জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলাজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ধর্মীয় স্থানে নির্ধারিত শব্দসীমার বাইরে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।