ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

জুয়ায় গ্রাহকের টাকা হারিয়ে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 48

ছবি সংগৃহীত

 

নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন কর্মচারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, গ্রাহকদের জমা দেওয়ার টাকা অনলাইন জুয়ায় হারিয়ে ঘাটতি সামাল দিতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিকের টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন ওই তিন কর্মচারী। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহকর্মীকে মারধর করে ছিনতাইয়ের নাটক সাজানো হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে পৃথক অভিযানে ছিনতাই ও ডাকাত চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্যাশিয়ার মো. নাজমুল ইসলাম ও অফিস সহায়ক মো. রাসেল বাবু আদিমদিঘী রেলগেট থেকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক ফিরোজ হোসেনের ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে আবাদপুকুর বাজারে কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন। পথে রানীনগর থানার পারইল বাজার পেরিয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে আরেকটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁদের পথ আটকায়। পরে লোহার স্টিক দিয়ে মারধর করে টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের দলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার রাতেই অভিযান চালায় ডিবি ও রানীনগর থানা পুলিশ। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয় এবং এর মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে ৭ অক্টোবর রাতে পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি বিশেষ দল জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্বপন (২৮) ও হাসান আলীকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল, একটি আইফোনসহ মোট সাতটি মোবাইল ফোন এবং লুট হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর রানীনগরে অভিযান চালিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আরও তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন অফিস সহায়ক রাসেল বাবু (২২), লোন কর্মকর্তা সুজন (২৭) এবং লোন কর্মকর্তা আবু তালেব (২২)। রাসেলকে এ ঘটনায় সাজানো ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে জানানো হয়, রাসেল, সুজন ও আবু তালেব বেশ কিছুদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এতে তাঁদের প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা লোকসান হয়। গ্রাহকদের জমা দেওয়ার টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তাঁরা জুয়ায় খরচ করেন। পরে ঘাটতি পূরণ করতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক ফিরোজ হোসেনের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস ধরে চলে এই পরিকল্পনা। ঘটনার দিন রাসেল বাবু ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে টাকা আনতে যান। ফেরার পথে তিনি স্বপন ও হাসানকে নিজেদের অবস্থান জানাতে থাকেন। তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্বপন ও হাসান হামলা চালিয়ে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। এ সময় ক্যাশিয়ার নাজমুলকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। অন্যদিকে, রাসেল বাবু নিজেকে ছিনতাইয়ের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছিনতাই হওয়া ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে ব্যাংকের তিন কর্মচারীর ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। বাকি টাকা অন্যদের মধ্যে ভাগ হওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিকভাবে স্বপন ও হাসানকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দ্রুত নওগাঁ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানায় পুলিশ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বাকি টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জুয়ায় গ্রাহকের টাকা হারিয়ে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক

আপডেট সময় ০৭:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

 

নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন কর্মচারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, গ্রাহকদের জমা দেওয়ার টাকা অনলাইন জুয়ায় হারিয়ে ঘাটতি সামাল দিতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিকের টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন ওই তিন কর্মচারী। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহকর্মীকে মারধর করে ছিনতাইয়ের নাটক সাজানো হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন  গাজীপুরে গুলি করে বিকাশ এজেন্টের টাকা ছিনতাই

পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্যাশিয়ার মো. নাজমুল ইসলাম ও অফিস সহায়ক মো. রাসেল বাবু আদিমদিঘী রেলগেট থেকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক ফিরোজ হোসেনের ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে আবাদপুকুর বাজারে কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন। পথে রানীনগর থানার পারইল বাজার পেরিয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে আরেকটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁদের পথ আটকায়। পরে লোহার স্টিক দিয়ে মারধর করে টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের দলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার রাতেই অভিযান চালায় ডিবি ও রানীনগর থানা পুলিশ। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয় এবং এর মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে ৭ অক্টোবর রাতে পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি বিশেষ দল জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্বপন (২৮) ও হাসান আলীকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল, একটি আইফোনসহ মোট সাতটি মোবাইল ফোন এবং লুট হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর রানীনগরে অভিযান চালিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আরও তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন অফিস সহায়ক রাসেল বাবু (২২), লোন কর্মকর্তা সুজন (২৭) এবং লোন কর্মকর্তা আবু তালেব (২২)। রাসেলকে এ ঘটনায় সাজানো ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে জানানো হয়, রাসেল, সুজন ও আবু তালেব বেশ কিছুদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এতে তাঁদের প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা লোকসান হয়। গ্রাহকদের জমা দেওয়ার টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তাঁরা জুয়ায় খরচ করেন। পরে ঘাটতি পূরণ করতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক ফিরোজ হোসেনের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস ধরে চলে এই পরিকল্পনা। ঘটনার দিন রাসেল বাবু ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে টাকা আনতে যান। ফেরার পথে তিনি স্বপন ও হাসানকে নিজেদের অবস্থান জানাতে থাকেন। তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্বপন ও হাসান হামলা চালিয়ে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। এ সময় ক্যাশিয়ার নাজমুলকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। অন্যদিকে, রাসেল বাবু নিজেকে ছিনতাইয়ের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছিনতাই হওয়া ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে ব্যাংকের তিন কর্মচারীর ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। বাকি টাকা অন্যদের মধ্যে ভাগ হওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিকভাবে স্বপন ও হাসানকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দ্রুত নওগাঁ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানায় পুলিশ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বাকি টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।