ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

সৃজনশীল অর্থনীতিতে যুক্ত হবেন তাঁতি-কামার-কুমাররা: অর্থমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 23

ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পাশাপাশি দেশে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতি সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই অর্থনীতির আওতায় থিয়েটার, আর্ট ও ফিল্মের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতি, কামার ও কুমারদেরও জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শিশু একাডেমি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনের একটি পথরেখা তৈরি হয়। দেশের শিশুরা কীভাবে বেড়ে উঠবে এবং তাদের জীবন গঠনে সরকার কী ধরনের পরিকল্পনা করছে, তার প্রতিফলন এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে রয়েছে।

আরও পড়ুন  ঈদের আগেই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের নির্দেশ: শ্রমমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

শিশুদের মানবিক গুণাবলি বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকেই পরিবার, প্রকৃতি, পরিবেশ, পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের প্রতি শিশুদের সংবেদনশীল করে তুলতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও ছেলে-মেয়ের সমঅধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী নিজের জীবনের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, তার ছেলে ও মেয়েকে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সম্পত্তির ক্ষেত্রেও তাদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশব্যাপী শুরু হওয়া নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে মেয়ের সংখ্যা ৪৫ হাজারের বেশি। শিশুদের শুধু পড়াশোনায় নয়, আর্ট, মিউজিক, থিয়েটার ও স্পোর্টসেও দক্ষ করে তুলতে হবে। একটি দেশের প্রকৃত শক্তি তার ‘সফট পাওয়ার’।

দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে থিয়েটার, আর্ট ও ফিল্মের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতি, কামার ও কুমারের মতো কারিগরদের জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত ও সহযোগিতা করা হবে। এর লক্ষ্য প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত শক্তি ও ধৈর্যের মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এর মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যৎও আরও নিরাপদ করা যাবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অর্থমন্ত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

সৃজনশীল অর্থনীতিতে যুক্ত হবেন তাঁতি-কামার-কুমাররা: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৪৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পাশাপাশি দেশে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতি সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই অর্থনীতির আওতায় থিয়েটার, আর্ট ও ফিল্মের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতি, কামার ও কুমারদেরও জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শিশু একাডেমি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনের একটি পথরেখা তৈরি হয়। দেশের শিশুরা কীভাবে বেড়ে উঠবে এবং তাদের জীবন গঠনে সরকার কী ধরনের পরিকল্পনা করছে, তার প্রতিফলন এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে রয়েছে।

আরও পড়ুন  অর্থনীতি সংস্কারে বড় পরিকল্পনা: শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা

শিশুদের মানবিক গুণাবলি বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকেই পরিবার, প্রকৃতি, পরিবেশ, পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের প্রতি শিশুদের সংবেদনশীল করে তুলতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও ছেলে-মেয়ের সমঅধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী নিজের জীবনের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, তার ছেলে ও মেয়েকে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সম্পত্তির ক্ষেত্রেও তাদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশব্যাপী শুরু হওয়া নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে মেয়ের সংখ্যা ৪৫ হাজারের বেশি। শিশুদের শুধু পড়াশোনায় নয়, আর্ট, মিউজিক, থিয়েটার ও স্পোর্টসেও দক্ষ করে তুলতে হবে। একটি দেশের প্রকৃত শক্তি তার ‘সফট পাওয়ার’।

দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে থিয়েটার, আর্ট ও ফিল্মের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতি, কামার ও কুমারের মতো কারিগরদের জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত ও সহযোগিতা করা হবে। এর লক্ষ্য প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত শক্তি ও ধৈর্যের মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এর মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যৎও আরও নিরাপদ করা যাবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অর্থমন্ত্রী।