ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে নারীদের সামরিক প্রশিক্ষণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরানে নারীদের অস্ত্র চালনা ও নগরযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তেহরানে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নারীদের বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি মানচিত্র দেখে দিক নির্ণয়, জরুরি উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কৌশল শেখানো হচ্ছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে এমন প্রশিক্ষণের দৃশ্য দেখা গেছে।

তেহরানের বিভিন্ন খোলা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সাধারণ পোশাক ও সামরিক পোশাক পরা নারীদের সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে দেখা গেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে কালাশনিকভ রাইফেল, ড্রাগুনভ রাইফেল, আরপিজি এবং কাঁধে বহনযোগ্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুশীলন করানো হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে শুধু অস্ত্র পরিচালনাই নয়, নগরযুদ্ধ, সামরিক কৌশল, মানচিত্র দেখে অবস্থান নির্ণয়, জরুরি উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণের মতো বিষয়ও রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ ‘জান-ফাদা’ বা ‘জীবন উৎসর্গকারী’ নামে পরিচিত বৃহত্তর স্বেচ্ছাসেবী প্রতিরক্ষা কর্মসূচির অংশ।

আরও পড়ুন  কলম্বিয়ায় মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজের অবতরণ ব্যাহত, ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানে ‘জান-ফাদা’ কর্মসূচি সম্প্রসারিত করা হয়েছে। বাসিজের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবকদের সামরিক ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষণকেন্দ্রও চালু করা হয়েছে।

কর্মসূচির মুখপাত্র সাসান জারে-এর দাবি, জাতীয় প্রতিরোধ ব্যাটালিয়নে যুক্ত হওয়ার জন্য নিবন্ধন শুরুর ১০০ মিনিটের মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নাম নিবন্ধন করেন। এতে প্রথম এক হাজার ইউনিট পূর্ণ হয়ে যায়। পরে আরও এক হাজার ইউনিট গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ধার ও ত্রাণ ইউনিট গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব ইউনিটে নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকবে বলে কর্মসূচির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ইরানি কর্মকর্তারা ‘জান-ফাদা’ কর্মসূচিকে ১৯৮০ সালে ইরাকে ইরানের ওপর হামলার পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ‘২০ মিলিয়নের বাহিনী’ গঠনের আহ্বানের আধুনিক রূপ হিসেবে দেখছেন।

নারীদের সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বক্তব্য দিয়েছেন। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এর প্রভাব সবার ওপর পড়বে এবং মার্কিন স্বার্থে হামলা চালানো হবে।

সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমীর হাতামিও বলেছেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। নতুন করে হামলা হলে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের কথাও বলছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বিদেশি কূটনীতিকদের বলেছেন, চলমান সংঘাতের সামরিক সমাধান নেই। শর্ত পূরণ ও শত্রুতামূলক পদক্ষেপ বন্ধ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও তিনি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের একতরফা কোনো দাবি মেনে নেওয়া হবে না বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দেশটির দাবি, নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

এদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও রয়েছে। তেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞা জোরদারের পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার দেশটির তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানে নারীদের সামরিক প্রশিক্ষণ

আপডেট সময় ১১:২৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরানে নারীদের অস্ত্র চালনা ও নগরযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তেহরানে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নারীদের বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি মানচিত্র দেখে দিক নির্ণয়, জরুরি উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কৌশল শেখানো হচ্ছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে এমন প্রশিক্ষণের দৃশ্য দেখা গেছে।

তেহরানের বিভিন্ন খোলা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সাধারণ পোশাক ও সামরিক পোশাক পরা নারীদের সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে দেখা গেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে কালাশনিকভ রাইফেল, ড্রাগুনভ রাইফেল, আরপিজি এবং কাঁধে বহনযোগ্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুশীলন করানো হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে শুধু অস্ত্র পরিচালনাই নয়, নগরযুদ্ধ, সামরিক কৌশল, মানচিত্র দেখে অবস্থান নির্ণয়, জরুরি উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণের মতো বিষয়ও রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ ‘জান-ফাদা’ বা ‘জীবন উৎসর্গকারী’ নামে পরিচিত বৃহত্তর স্বেচ্ছাসেবী প্রতিরক্ষা কর্মসূচির অংশ।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা: ইসরায়েলে পৌঁছালো যুক্তরাষ্ট্রের ভারী বোমার চালান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানে ‘জান-ফাদা’ কর্মসূচি সম্প্রসারিত করা হয়েছে। বাসিজের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবকদের সামরিক ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষণকেন্দ্রও চালু করা হয়েছে।

কর্মসূচির মুখপাত্র সাসান জারে-এর দাবি, জাতীয় প্রতিরোধ ব্যাটালিয়নে যুক্ত হওয়ার জন্য নিবন্ধন শুরুর ১০০ মিনিটের মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নাম নিবন্ধন করেন। এতে প্রথম এক হাজার ইউনিট পূর্ণ হয়ে যায়। পরে আরও এক হাজার ইউনিট গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ধার ও ত্রাণ ইউনিট গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব ইউনিটে নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকবে বলে কর্মসূচির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ইরানি কর্মকর্তারা ‘জান-ফাদা’ কর্মসূচিকে ১৯৮০ সালে ইরাকে ইরানের ওপর হামলার পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ‘২০ মিলিয়নের বাহিনী’ গঠনের আহ্বানের আধুনিক রূপ হিসেবে দেখছেন।

নারীদের সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বক্তব্য দিয়েছেন। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এর প্রভাব সবার ওপর পড়বে এবং মার্কিন স্বার্থে হামলা চালানো হবে।

সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমীর হাতামিও বলেছেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। নতুন করে হামলা হলে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের কথাও বলছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বিদেশি কূটনীতিকদের বলেছেন, চলমান সংঘাতের সামরিক সমাধান নেই। শর্ত পূরণ ও শত্রুতামূলক পদক্ষেপ বন্ধ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও তিনি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের একতরফা কোনো দাবি মেনে নেওয়া হবে না বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দেশটির দাবি, নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

এদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও রয়েছে। তেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞা জোরদারের পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার দেশটির তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।