লাতিন আমেরিকায় প্রভাবের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াল চীন
- আপডেট সময় ০৯:৩৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 22
লাতিন আমেরিকায় প্রভাবের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে চীন। অঞ্চলটির ১৭টি দেশে পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ মানুষ চীনের প্রভাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে ইতিবাচক বলেছেন ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা। ১৯৯৫ সালে জরিপটি শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম প্রভাবের মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে গেল চীন।
শুক্রবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের লাতিনোবারোমেত্রো জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ছয় বছর আগে, ২০২০ সালে চীনের প্রভাবকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিলেন ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬০ শতাংশ।
জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে কোস্টারিকা ও ডোমিনিকান রিপাবলিক ছাড়া বাকি সব দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রভাবকে বেশি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন মানুষ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পরবর্তী দুই দশকে লাতিন আমেরিকায় ওয়াশিংটনের ‘প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি’ এই পরিবর্তনের একটি কারণ হতে পারে।
লাতিনোবারোমেত্রোর পরিচালক মার্তা লাগোস এএফপিকে বলেন, ওই সময়ে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের মতো অন্যান্য শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে।
তাঁর মতে, তুলনামূলক কম দামে পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি করে চীন এই অঞ্চলের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। চীন যে শূন্যস্থান পূরণ করেছে, তা মূলত মানুষের ‘পকেটের শূন্যতা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা কমেছে
প্রভাবের ইতিবাচক মূল্যায়নে চীন এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিকভাবে দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের ইতিবাচক মনোভাব এখনো বেশি।
জরিপে ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ।
তবে ২০২৪ সালের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ওই বছর ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে থাকার সময় ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছিলেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামের সঙ্গে দেশটির পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর নাম মিলিয়ে ‘ডনরো ডকট্রিন’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। দুই শতাব্দীরও বেশি আগে মনরো লাতিন আমেরিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাববলয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার নীতি ঘোষণা করেছিলেন।
ওয়াশিংটন যে অঞ্চলকে ‘আমাদের গোলার্ধ’ বলে অভিহিত করে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের উদ্যোগের উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হন।
জরিপে দেখা গেছে, আর্জেন্টিনা ছাড়া প্রতিটি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে মাদুরো আটক হওয়ার ঘটনাকে সমর্থন করেছেন। তবে মাত্র ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, মাদুরোকে আটক করা ভেনেজুয়েলার জন্য উপকারী হয়েছে। বিপরীতে ২৮ শতাংশের মতে, ঘটনাটি দেশটির জন্য ক্ষতিকর ছিল।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে দেখা মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
চিলিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান লাতিনোবারোমেত্রো গণতন্ত্র, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনমত জরিপ পরিচালনা করে।
২০২৬ সালের জরিপে ৭ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত ১৭টি দেশে প্রায় ১৯ হাজার ২০০ জনের মুখোমুখি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। জরিপটির ত্রুটির সীমা ১ শতাংশ।





















