ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার এখানে থাকা উচিত নয়; সিএনএন সাংবাদিককে দেখে ট্রাম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 39

ছবি সংগৃহীত

 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে সিএনএনের প্রধান হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি কাইটলান কলিন্সের সঙ্গে বাক্যবিনিময়ে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সিএনএনসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার বন্ধের কয়েক দিনের মধ্যেই মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

জাতিসংঘে প্রবেশের সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন কাইটলান কলিন্স। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিকের নেতিবাচক মতামতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানতে চান, যুদ্ধ কবে শেষ হবে।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের নতুন নির্দেশ: বাইডেন আমলের সব মার্কিন এটর্নি বরখাস্ত

জবাবে ট্রাম্প বলেন, জাতিসংঘে এসে সিএনএনকে দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। এরপর কলিন্সকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনার এখানে থাকা উচিত নয়। আপনি বলেছিলেন, কভার করবেন না।’

এরপর কলিন্স জানান, জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই সিএনএন সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করছে। তবে ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে আর বিস্তারিত কথা না বলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অনেক অগ্রগতি করছে’ বলে মন্তব্য করেন।

পরে সম্প্রচারে কাইটলান কলিন্স স্পষ্ট করেন, সিএনএন কখনো ট্রাম্পকে কভার না করার কথা বলেনি। বরং সংবাদমাধ্যমটি প্রতিদিনই প্রেসিডেন্টের কার্যক্রম তুলে ধরবে বলে জানান তিনি।

এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসের মাঠে প্রবেশ এবং প্রেস পুলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। তবে জাতিসংঘের নিজস্ব অ্যাক্রেডিটেশন থাকায় ওই সংবাদমাধ্যমগুলো নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম কভার করার সুযোগ পাচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তিন সংবাদমাধ্যম যৌথভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় তাদের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও মতামতের কারণে প্রবেশাধিকার সীমিত করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে সুরক্ষিত সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে বুধবার আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, আদালত তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিলে ওই সংবাদমাধ্যমগুলোকে হোয়াইট হাউসে ফিরতে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনামূলক প্রতিবেদনকে ‘ফেক নিউজ’ আখ্যা দিয়ে সেগুলো বন্ধ করার অধিকার প্রশাসনের রয়েছে বলেও দাবি করেন।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে মামলার জবাবে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে প্রবেশাধিকার কোনো অধিকার নয়, বরং বিশেষাধিকার। প্রশাসন সীমিত প্রেসিডেন্সিয়াল এলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বলে দাবি করেছে তারা।

অন্যদিকে মামলাকারী সংবাদমাধ্যমগুলো এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার এখানে থাকা উচিত নয়; সিএনএন সাংবাদিককে দেখে ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৫:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে সিএনএনের প্রধান হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি কাইটলান কলিন্সের সঙ্গে বাক্যবিনিময়ে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সিএনএনসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার বন্ধের কয়েক দিনের মধ্যেই মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

জাতিসংঘে প্রবেশের সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন কাইটলান কলিন্স। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিকের নেতিবাচক মতামতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানতে চান, যুদ্ধ কবে শেষ হবে।

আরও পড়ুন  ‘কোনো কিছুই আমাকে থামাতে পারবে না’: ওয়াশিংটনে হামলার পর ট্রাম্পের হুংকার

জবাবে ট্রাম্প বলেন, জাতিসংঘে এসে সিএনএনকে দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। এরপর কলিন্সকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনার এখানে থাকা উচিত নয়। আপনি বলেছিলেন, কভার করবেন না।’

এরপর কলিন্স জানান, জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই সিএনএন সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করছে। তবে ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে আর বিস্তারিত কথা না বলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অনেক অগ্রগতি করছে’ বলে মন্তব্য করেন।

পরে সম্প্রচারে কাইটলান কলিন্স স্পষ্ট করেন, সিএনএন কখনো ট্রাম্পকে কভার না করার কথা বলেনি। বরং সংবাদমাধ্যমটি প্রতিদিনই প্রেসিডেন্টের কার্যক্রম তুলে ধরবে বলে জানান তিনি।

এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসের মাঠে প্রবেশ এবং প্রেস পুলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। তবে জাতিসংঘের নিজস্ব অ্যাক্রেডিটেশন থাকায় ওই সংবাদমাধ্যমগুলো নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম কভার করার সুযোগ পাচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তিন সংবাদমাধ্যম যৌথভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় তাদের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও মতামতের কারণে প্রবেশাধিকার সীমিত করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে সুরক্ষিত সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে বুধবার আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, আদালত তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিলে ওই সংবাদমাধ্যমগুলোকে হোয়াইট হাউসে ফিরতে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনামূলক প্রতিবেদনকে ‘ফেক নিউজ’ আখ্যা দিয়ে সেগুলো বন্ধ করার অধিকার প্রশাসনের রয়েছে বলেও দাবি করেন।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে মামলার জবাবে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে প্রবেশাধিকার কোনো অধিকার নয়, বরং বিশেষাধিকার। প্রশাসন সীমিত প্রেসিডেন্সিয়াল এলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বলে দাবি করেছে তারা।

অন্যদিকে মামলাকারী সংবাদমাধ্যমগুলো এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।